প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলায় পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে মাদক সেবনের অভিযোগে সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালিত এ অভিযানে ইয়াবা, গাঁজা ও ট্যাপেন্টাডল সেবনের সময় অভিযুক্তদের হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে সিরাজগঞ্জ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি বিশেষ দল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় মাদক সেবনের অভিযোগে সাতজনকে আটক করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। এ সময় জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক আসাদুল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযানে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের অপরাধের ধরন ও পরিস্থিতি বিবেচনায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড প্রদান করেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী দণ্ডপ্রাপ্তদের কারাগারে পাঠানোর পাশাপাশি অর্থদণ্ডও আদায়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন স্থলবাড়ি গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে জুবায়ের আহমেদ (২৪), চর ভানুডাঙ্গা গ্রামের নূর মোহাম্মদের ছেলে রাকিব সরকার (৩০), সোনামুখী কালিবাড়ি গ্রামের আফজাল শেখের ছেলে কালাম শেখ (৪০), চৌকিবাড়ি গ্রামের আল আমিনের ছেলে তানভীর হোসেন (১৮), পাইকপাড়া গ্রামের মৃত মকবুলের ছেলে মুকুল হোসেন (২৫), রৌহাবাড়ী গ্রামের রাজিউর রহমানের ছেলে আবু হাসেম (২১) এবং সোনামুখী গ্রামের এশারত আলীর ছেলে জান্নাত আলী (২৬)।
অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মাদক সেবন ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ ধরনের অভিযানে মাদক সেবনকারী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা জানান, মাদকের বিস্তার রোধে শুধু আইন প্রয়োগই নয়, জনসচেতনতা বৃদ্ধির দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মাদক সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি। তাই মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি স্থানীয় জনগণকে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ধরনের মাদক সহজলভ্য হওয়ায় তরুণদের মধ্যে আসক্তির ঝুঁকি বেড়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে। মাদক সেবনকারীদের পাশাপাশি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, নিয়মিত অভিযান ও দ্রুত বিচার কার্যক্রম মাদক নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকেও মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধিতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র আইনগত ব্যবস্থা নয়, মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন এবং তরুণদের জন্য বিকল্প ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সৃষ্টি করাও গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক সচেতনতা ও প্রশাসনিক কঠোরতা একসঙ্গে কার্যকর হলে মাদকের বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাজিপুরসহ সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত চলবে। মাদক সেবন, বহন, সংরক্ষণ কিংবা বিক্রির সঙ্গে জড়িত কাউকে আইনের আওতার বাইরে রাখা হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর সমন্বিতভাবে এ কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।