জাতিসংঘে সড়ক নিরাপত্তা প্যানেলের যৌথ-সভাপতি সেতুমন্ত্রী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬
  • ১৮ বার
জাতিসংঘে সড়ক নিরাপত্তা প্যানেলের যৌথ-সভাপতি সেতুমন্ত্রী

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন স্বীকৃতি হিসেবে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে যৌথ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এ অধিবেশনে তিনি বিশ্বব্যাপী সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও গুরুতর আহতের সংখ্যা কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, নীতিনির্ধারক, আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তা এবং সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। একই সঙ্গে তিনি অধিবেশনের যৌথ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন, যা আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাই যথেষ্ট নয়। এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম যেন মাঠপর্যায়ে কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং প্রতিটি দায়িত্বশীল সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করে, তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, নীতিমালা প্রণয়ন এবং তার বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে যদি সমন্বয়ের ঘাটতি থাকে, তবে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করা সম্ভব নয়।

বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ও গুরুতর আহত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, সড়ক নিরাপত্তা কেবল একটি পরিবহনসংক্রান্ত বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি, শিক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই এ খাতে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে পরিবহন, স্বাস্থ্য, পুলিশ, অর্থ, শিক্ষা, পরিবেশ এবং স্থানীয় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণের পাশাপাশি তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত, নাগরিক সমাজ, গবেষক, শিক্ষাবিদ এবং তরুণদেরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। তবে এসব অংশীদারিত্বকে একটি শক্তিশালী সরকারি নেতৃত্ব এবং সুসংহত নীতিগত কাঠামোর আওতায় পরিচালিত করতে হবে, যাতে উদ্যোগগুলো কার্যকর ও টেকসই হয়।

জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের এ বৈঠকে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নে নিজেদের অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ এবং সফল উদ্যোগ তুলে ধরেন। পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের অংশ হিসেবে সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ১২ লাখ মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান এবং কোটি কোটি মানুষ আহত বা স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্বের শিকার হন। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এ সমস্যা আরও প্রকট। ফলে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা এখন বৈশ্বিক উন্নয়ন এজেন্ডার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মহাসড়কে নজরদারি বৃদ্ধি, আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, চালকদের প্রশিক্ষণ, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিতকরণ এবং সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুর্ঘটনা কমানোর চেষ্টা চলছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন সমানভাবে জরুরি।

জাতিসংঘের এ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী। বৈঠকে তাঁরা বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় আলোচনায়ও অংশ নেন এবং সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

কূটনৈতিক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতিসংঘের এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্যানেলে বাংলাদেশের নেতৃত্বের দায়িত্ব পাওয়া দেশের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা। এটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের সক্ষমতা ও অংশগ্রহণের স্বীকৃতির পাশাপাশি নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সরকারের অঙ্গীকারও তুলে ধরে।

সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে মানুষের জীবন রক্ষা এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক সহযোগিতা, কার্যকর নীতিমালা, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং সমন্বিত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে জাতিসংঘের এ বৈঠক শেষ হয়। বাংলাদেশও এ লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত