দুদকের মামলায় সাবেক চেয়ারম্যান জাফরের ৭ বছরের কারাদণ্ড

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬
  • ১৮ বার
দুদকের মামলায় সাবেক চেয়ারম্যান জাফরের ৭ বছরের কারাদণ্ড

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদকে সম্পদের তথ্য গোপন এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৮ কোটি ৫৯ লাখ ৭৩ হাজার ৩৪৮ টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। বহুল আলোচিত এ মামলার রায়ে আদালত বলেন, উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

বুধবার সকালে চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালতের এ রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলাটি দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে নিষ্পত্তির পর্যায়ে আসে। চলতি বছরের ৫ মে একই আদালত জাফর আহমদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন। এরপর সাক্ষ্যগ্রহণ, নথিপত্র উপস্থাপন এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত এ রায় প্রদান করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, জাফর আহমদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনে জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে ৩ কোটি ৭৮ লাখ ৭৮ হাজার ৮৭৯ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। পাশাপাশি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৯৪ হাজার ৫৩১ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং তা নিজের দখলে রাখার অভিযোগও আনা হয়।

দুদকের তদন্তে অভিযোগ করা হয়, সরকারি দায়িত্ব পালনকালে তাঁর ঘোষিত আয় ও সম্পদের মধ্যে অসামঞ্জস্য পাওয়া যায়। তদন্তে সংগৃহীত বিভিন্ন নথি, আর্থিক লেনদেনের তথ্য এবং সম্পদের উৎস যাচাই করে কমিশন অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মোকাররম হোছাইন রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের জানান, আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ, নথিপত্র এবং উভয় পক্ষের উপস্থাপিত যুক্তি বিশ্লেষণ করে আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। তিনি বলেন, আদালত জাফর আহমদকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৮ কোটি ৫৯ লাখ ৭৩ হাজার ৩৪৮ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। রায়টি দুর্নীতিবিরোধী আইনের আলোকে দেওয়া হয়েছে।

আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, সম্পদের তথ্য গোপন এবং অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ ভোগদখলে রাখার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়ায় উপস্থাপিত সাক্ষ্য ও নথিপত্র আদালতের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ায় এ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তদন্ত চলাকালে অভিযুক্তের সম্পদের উৎস, আয়-ব্যয়ের হিসাব, ব্যাংক লেনদেন এবং বিভিন্ন সম্পত্তির মালিকানা সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হয়। তদন্ত শেষে কমিশন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে এবং বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্নীতিবিরোধী মামলায় সম্পদের উৎস, আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব এবং সরকারি ঘোষণাপত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়। আদালত এসব তথ্য বিশ্লেষণ করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছান। তবে কোনো রায়ের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষ আইন অনুযায়ী উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগও পেয়ে থাকে।

স্থানীয়ভাবে টেকনাফের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ জাফর আহমদের বিরুদ্ধে দেওয়া এ রায়কে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, জনপ্রতিনিধিদের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এ ধরনের মামলার নিষ্পত্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সম্পদের হিসাব সঠিকভাবে ঘোষণা করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও আবার সামনে এসেছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সাবেক জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে আসছে। সংস্থাটির দাবি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে এসব কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে মামলার বিচারিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হলেও আইনি প্রক্রিয়া এখানেই শেষ নয়। আইন অনুযায়ী, রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ রয়েছে। আপিল করা হলে পরবর্তী বিচারিক সিদ্ধান্তের ওপর মামলার চূড়ান্ত পরিণতি নির্ভর করবে।

এদিকে রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত