প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ধর্মমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ অসুস্থতাজনিত কারণে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দুপুরে তার হিপ রিপ্লেসমেন্ট অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগতে থাকা এই প্রবীণ রাজনীতিকের সুস্থতা কামনায় দলীয় নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও প্রার্থনার আবহ তৈরি হয়েছে।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার কায়কোবাদকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণের পর তার হিপ রিপ্লেসমেন্ট অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক ডা. দারেন তাই ক্যেং জিনের নেতৃত্বে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে কায়কোবাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা তার হিপ রিপ্লেসমেন্ট অস্ত্রোপচার জরুরি বলে মত দেন। বর্তমানে তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রয়েছেন এবং অস্ত্রোপচারের আগে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
অস্ত্রোপচারের আগে কায়কোবাদ দেশবাসীর কাছে নিজের দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন। বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ও শুভানুধ্যায়ীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, সবার দোয়া ও শুভকামনাই তার সবচেয়ে বড় শক্তি। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণ করছেন এবং সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান।
এদিকে তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমির মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী। এক বার্তায় তিনি বলেন, কায়কোবাদ দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনীতি ও জনজীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত একজন প্রবীণ ব্যক্তিত্ব। তিনি যেন সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করে দ্রুত সুস্থ হয়ে দেশে ফিরতে পারেন, সে জন্য তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন এবং দেশবাসীকেও দোয়ার আহ্বান জানান।
কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বাংলাদেশের রাজনীতির সুপরিচিত একটি নাম। কুমিল্লার মুরাদনগর থেকে তিনি ছয়বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন এবং জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। বর্তমানে তিনি ধর্মমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বয়সজনিত নানা শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি চলাফেরায়ও তিনি কিছুটা অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছিলেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হিপ জয়েন্টের জটিলতা প্রবীণদের ক্ষেত্রে চলাফেরা, দৈনন্দিন কাজকর্ম এবং জীবনযাত্রার মানকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ওষুধ ও ফিজিওথেরাপিতে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হলে হিপ রিপ্লেসমেন্ট অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে হিপ রিপ্লেসমেন্ট একটি বহুল প্রচলিত ও কার্যকর অস্ত্রোপচার। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হিপ জয়েন্টের পরিবর্তে কৃত্রিম জয়েন্ট প্রতিস্থাপন করা হয়, যার ফলে রোগীর ব্যথা কমে আসে এবং স্বাভাবিকভাবে হাঁটা-চলার সক্ষমতা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। অস্ত্রোপচারের পর নির্ধারিত সময় পর্যন্ত পুনর্বাসন ও ফিজিওথেরাপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে চিকিৎসকরা মনে করেন।
কায়কোবাদের চিকিৎসার অগ্রগতি নিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতারা নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে তার শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ তথ্য জানানো হচ্ছে। বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন, অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হবে এবং তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে দেশের মানুষের মাঝে ফিরে আসবেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনের বাইরেও বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা তার সুস্থতা কামনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বার্তা দিচ্ছেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে একজন প্রবীণ রাজনীতিকের সুস্থতা কামনায় শুভকামনা জানানো বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল এশিয়ার অন্যতম আধুনিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অনেক রোগী উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়মিত এই হাসপাতালে যান। বিশেষ করে জটিল অর্থোপেডিক, হৃদরোগ, ক্যানসার এবং অন্যান্য বিশেষায়িত চিকিৎসায় হাসপাতালটির আন্তর্জাতিক সুনাম রয়েছে।
কায়কোবাদের অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে কিছুদিন হাসপাতালে থাকতে হতে পারে। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতির ওপর নির্ভর করে পরবর্তী চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। চিকিৎসকরা সন্তুষ্ট হলে পরবর্তীতে তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে এবং চিকিৎসা-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম চলবে।
দেশবাসীর প্রত্যাশা, অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে কায়কোবাদের অস্ত্রোপচার সফল হবে এবং তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন। তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে হাসপাতাল ও দলীয় সূত্র থেকে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।