প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের অর্থনীতি ও উৎপাদন খাতের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি শিল্প কারখানায় দীর্ঘদিনের চলমান তীব্র গ্যাস সংকট নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিল্প খাতের এই ভয়াবহ অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির প্রথম সভায় আকস্মিক উপস্থিত হয়ে তিনি এই নির্দেশ প্রদান করেন। দেশের বস্ত্র কারখানার মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানানো হয়েছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এমন ত্বরিত ও সরাসরি হস্তক্ষেপে দেশের ব্যবসায়ী সমাজ ও শিল্প উদ্যোক্তাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হয়েছে।
বিটিএমএ সূত্রে জানা গেছে, জরুরি এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নিজেই সরাসরি উপস্থিত হয়ে শিল্প মালিক ও উদ্যোক্তাদের কষ্টের কথা অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে শুনেছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে শিল্প উৎপাদন সচল রাখা এবং রপ্তানি বাজার ধরে রাখার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে নিবিড় আলোচনা সাপেক্ষে সংকট সমাধানের একটি সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পথনকশা তৈরির তাগিদ দিয়েছেন তিনি। শুধু নির্দেশ দিয়েই ক্ষান্ত হননি সরকারপ্রধান, বরং এই সংকট নিরসনের অগ্রগতির সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য আগামী সপ্তাহেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পুনরায় একটি উচ্চ পর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে গত গত ২২ জুলাই বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের নেতৃত্বে সংগঠনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল গণভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিল। ওই সাক্ষাতে দেশের বস্ত্র ও তৈরি পোশাক শিল্প খাতের দুরবস্থা এবং গ্যাস সংকটের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। উদ্যোক্তাদের বিস্তারিত বক্তব্য শোনার পর শিল্প খাতের এই বেহাল দশা থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজে বের করতে এবং সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব প্রণয়নের জন্য তখনই একটি উচ্চ পর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই নির্দেশনার ধারাবাহিকতাই গতকাল এই প্রথম বৈঠকে রূপ নেয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চ পর্যায়ের এই আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির প্রথম সভায় সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের শীর্ষ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠক চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পূর্বঘোষণা ছাড়াই আকস্মিকভাবে সভায় যোগ দেন, যা উদ্যোক্তা ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে বিশেষ চমক সৃষ্টি করে এবং সরকারের শীর্ষ মহলের আন্তরিকতার বার্তা পৌঁছে দেয়।
সভায় উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী উদ্যোক্তাদের প্রতিটি সমস্যার কথা শোনেন এবং দেশের শিল্প উৎপাদন প্রক্রিয়া যে কোনো মূল્યે সচল রাখতে বর্তমান সরকারের দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। বিটিএমএর প্রতিনিধি দলে সংগঠনের পরিচালক মো বাদশা মিয়া, সাবেক সহসভাপতি হোসেন মেহমুদ এবং সাবেক পরিচালক প্রকৌশলী রাজীব হায়দারসহ অন্যান্য বিশিষ্ট শিল্পপতিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা সরকারের এই ত্বরিত পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং খাতভিত্তিক নানা সংকটের কথা তুলে ধরেন।
বৈঠক শেষে বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, অতীতে গ্যাস ও জ্বালানি খাত নিয়ে সময়োপযোগী ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত না নেওয়ার ফলেই আজ শিল্প খাতে এই ভয়াবহ গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তবে বর্তমান সরকারের নীতিনির্ধারকদের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা দেখে তারা আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। তিনি আরও জানান, পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলোর কোথায় ঠিক কতটুকু সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা প্রয়োজন, তা নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করতে এবার খোদ উদ্যোক্তাদের কাছ থেকেই সুনির্দিষ্ট প্রতিবেদন তলব করা হয়েছে।
এদিকে শিল্প কারখানায় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি এতই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে, মিল মালিক ও উদ্যোক্তারা বিকল্প উপায়ে উৎপাদনের চাকা সচল রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে গত গত মঙ্গলবার দেশের পোশাক খাতের দুই শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ পৃথক দুটি চিঠির মাধ্যমে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে। তারা সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে ক্যাসকেড সিলিন্ডারের মাধ্যমে সরাসরি গ্যাস সংগ্রহ করে কারখানায় ব্যবহারের বিশেষ অনুমতি প্রার্থনা করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপে এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির এই তৎপরতার ফলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্যাস সংকটের একটি বাস্তবসম্মত ও স্থায়ী সমাধান বেরিয়ে আসবে, যা দেশের সামগ্রিক শিল্পায়ন ও অর্থনীতিকে এক নতুন গতিদান করবে।