দেশে ফিরলেই হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হবে: আইনমন্ত্রী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬
  • ৩ বার
দেশে ফিরলেই হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হবে: আইনমন্ত্রী

প্রকাশ: ৩০ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ফ্যাসিস্ট ও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি যেকোনো উপায়ে পুনরায় বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানায় প্রবেশ করেন, তবে তাঁকে সঙ্গে সঙ্গেই আইনের আওতায় এনে গ্রেপ্তার করা হবে বলে অত্যন্ত স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে করা সুনির্দিষ্ট এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান। সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায় থেকে এ ধরনের কঠোর ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে মুহূর্তে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং সাধারণ মানুষের মাঝেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।

সম্প্রতি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে দেশটিতে ফেরার সম্ভাব্য একটি ঘোষণা বা ইঙ্গিত আসার পর সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়। সেই প্রসঙ্গটি টেনে সাংবাদিকরা আইনমন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছিলেন যে, তিনি যদি বাস্তবে দেশে ফিরে আসেন, তবে বর্তমান সরকার বা বিচার বিভাগীয় আইনি প্রক্রিয়া কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এর জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান অত্যন্ত স্পষ্ট করে বলেন যে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন বা নির্বাচিত সরকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার বা প্রত্যর্পণের কোনো চেষ্টা করছে কি না, সেটি সরকারের নিজস্ব প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়। তবে কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে কীভাবে বা কোন উপায়ে দেশে আসবেন, সেটি সম্পূর্ণ ওই ব্যক্তির নিজস্ব ব্যাপার। তবে শর্ত একটা—তিনি যদি একবার বাংলাদেশের আইনগত এখতিয়ার বা সীমানার ভেতরে প্রবেশ করেন, তবে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা নিশ্চিত করা হবে।

আইনমন্ত্রী আরও অত্যন্ত জোরালোভাবে যোগ করে বলেন যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কীভাবে বা কোন মাধ্যমে দেশে ফিরবেন সেটি তাঁর দেখার বিষয় নয়, কিন্তু তিনি যখনই বাংলাদেশের সার্বভৌম এখতিয়ারের সীমানার মধ্যে পা রাখবেন, তখনই দেশের প্রচলিত আইন তাঁকে যে ক্ষমতা ও এখতিয়ার প্রদান করেছে, সরকার অক্ষরে অক্ষরে সেই ক্ষমতাই প্রয়োগ করবে। দেশের বিচার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে চলবে এবং আইন তার নিজস্ব গতিতেই আপন মহিমায় কাজ করবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বিগত দিনে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়ম, দমনপীড়ন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে আইন তার নিজস্ব পথে চলবে এবং আইনের ঊর্ধ্বে কেউ যে স্থান পাবে না, সরকারের এই কঠোর বার্তাটি মন্ত্রীর বক্তব্যে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে দেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংক্রান্ত আরেকটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়। এর উত্তরে আইনমন্ত্রী জানান যে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বা নতুন রাষ্ট্রপতি পদায়ন নিয়ে সরকারের অন্দরে এখনো পর্যন্ত কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক বা চূড়ান্ত আলোচনা বা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে স্মরণ করিয়ে দেন যে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের একশো তেইশ অনুচ্ছেদের দুই উপচ্ছেদ অনুযায়ী সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই বিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ঠিক আগের নব্বই দিনের বা তিন মাসের মধ্যেই অবশ্যই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সংসদ ও সরকারের পরবর্তী কার্যক্রম সাংবিধানিক নিয়ম মেনেই পরিচালিত হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে অচিরেই বিশেষ কোনো সংসদীয় অধিবেশন আহ্বান করা হবে কি না, এমন এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, সংসদের পরবর্তী নিয়মিত অধিবেশনও দেশের সংবিধান অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে। সুতরাং, শুধু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে আলাদাভাবে বা অতিরিক্ত কোনো বিশেষ অধিবেশন ডাকার মতো জরুরি প্রয়োজনীয়তা এই মুহূর্তে সরকার অনুভব করছে না। তবে দেশের স্বার্থে এবং সংবিধানের রূপরেখা রক্ষার্থে যদি ভবিষ্যতে কখনো বিশেষ প্রয়োজন দেখা দেয়, তবে সরকার যে কোনো সময় প্রয়োজন সাপেক্ষে বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করার পূর্ণ এখতিয়ার ও সদিচ্ছা রাখে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সরকারের প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা এবং সাংবিধানিক সুশাসন বজায় রাখতে আইন মন্ত্রণালয় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পক্ষ থেকে প্রকাশিত সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদন নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে আলোচনা হয়। ওই প্রতিবেদন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থা বা মানবাধিকার সংগঠন যদি দেশের মানবাধিকার বা অন্য কোনো বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ বা পর্যবেক্ষণ পেশ করে থাকে, তবে সরকার কখনোই সেই বিষয়গুলো অন্ধের মতো উপেক্ষা করবে না। তাদের প্রতিটি পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে এবং সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে সেগুলো আমলে নিয়ে যথাযথ ও নিরপেক্ষভাবে যাচাই-বাছাই করা। মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার দেশের মানবাধিকার সুরক্ষা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ডগুলোকে সম্মান জানায় এবং প্রয়োজনীয় দিকগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

উল্লেখ্য, এর আগে আইনমন্ত্রীর প্রাণবন্ত উপস্থিতি ও প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের সঙ্গে দুটি স্বনামধন্য সংগঠনের ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর একটি হলো বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট বা ব্লাস্ট এবং অন্যটি হলো সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচি বা সেলপ ব্র্যাক। সমাজের অবহেলিত, দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই সমঝোতা স্মারকগুলো স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। সার্বিক দিক বিবেচনায়, আইনমন্ত্রীর এই সাম্প্রতিক ঘোষণা এবং দেশের সমসাময়িক আইনি ও রাজনৈতিক পদক্ষেপগুলো দেশের ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক পথচলাকে আরও বেশি স্বচ্ছ ও গতিশীল করবে বলে সচেতন মহল মনে করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত