ইউএস-বাংলার বড় বিনিয়োগ পরিকল্পনা, বরাদ্দ দেড় বিলিয়ন ডলার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬
  • ৪ বার
ইউএস-বাংলার বড় বিনিয়োগ পরিকল্পনা, বরাদ্দ দেড় বিলিয়ন ডলার

প্রকাশ: ৩০ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের ইতিহাসে এক বিশাল মাইলফলক অর্জনের লক্ষ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স তাদের বহরকে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের বহরে নতুন করে একুশটি অত্যাধুনিক বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই বিশাল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রায় দেড় বিলিয়ন বা ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করার ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি। সম্প্রতি রাজধানীর ঐতিহাসিক শেরাটন হোটেলে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ ও বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে এই বিনিয়োগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছে যে, আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ ধাপে ধাপে এই আধুনিক উড়োজাহাজগুলো ইউএস-বাংলার বহরে যুক্ত হবে, যার মধ্যে পনেরোটি থাকবে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির বোয়িং সেভেন থার্টি সেভেন মাইনাস এইট এবং বাকি ছয়টি থাকবে বোয়িং সেভেন থার্টি সেভেন মাইনাস এইট হান্ড্রেড মডেলের এয়ারক্রাফট।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসনে উপস্থিত থেকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত তাঁর সুচিন্তিত বক্তব্যে বলেন, একটি সাধারণ অভ্যন্তরীণ এয়ারলাইন্স হিসেবে নিজেদের যাত্রা শুরু করে ইউএস-বাংলা আজ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে অন্যতম শীর্ষ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে রূপ নিতে পেরেছে। তিনি আরও বলেন, অচিরেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হলে এই বিমানবন্দর দিয়ে প্রতি বছর প্রায় চব্বিশ মিলিয়ন বা দুই কোটি চল্লিশ লাখ যাত্রীকে বিশ্বমানের সেবা প্রদান করার অপার সক্ষমতা তৈরি হবে। দেশের আকাশপথে দিন দিন বাড়তে থাকা এই বিশাল যাত্রীর চাহিদা সফলভাবে পূরণ করতে ইউএস-বাংলার এই একুশটি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ সংযোজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী দেশীয় এভিয়েশন খাতের সক্ষমতা আরও বাড়াতে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সও পর্যায়ক্রমে চোদ্দটি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ তাদের বহরে যুক্ত করছে বলে আনন্দের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমকে জানান।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন তাঁর বক্তব্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, বোয়িং সেভেন থার্টি সেভেন উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার এই ঐতিহাসিক চুক্তি নিছক কোনো একটি সাধারণ এয়ারলাইন্সের বহর বা ব্যবসা বাড়ানোর উদ্যোগ নয়; বরং এটি সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের উদীয়মান অর্থনীতির ওপর একটি বড় ধরনের আস্থার বিনিয়োগ। অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বা সরাসরি যুক্ত হয়ে বোয়িং কোম্পানির ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগিহ বলেন, অত্যন্ত আধুনিক, আরামদায়ক এবং জ্বালানিসাশ্রয়ী বোয়িং উড়োজাহাজগুলো তাদের বহরে যুক্ত করার মাধ্যমে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এখন তাদের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি ও উৎকর্ষের সম্পূর্ণ নতুন এক ধাপে প্রবেশ করতে চলেছে, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের সুনাম আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

অনুষ্ঠানে ইউএস-বাংলা গ্রুপ ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের সম্মানিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন অত্যন্ত দূরদর্শী ও বাস্তবসম্মত কিছু পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি আক্ষেপ করে জানান যে, দেশের আকাশপথের আকাশছোঁয়া বাজারের প্রায় সত্তর শতাংশ যাত্রীই বর্তমানে বিভিন্ন বিদেশি এয়ারলাইন্সের বিমানে যাতায়াত করছেন। তাঁর মতে, তাঁদের বহরে এই নতুন উড়োজাহাজগুলো যুক্ত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক রুটগুলোতে দেশি এয়ারলাইন্সের প্রতিযোগী সক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যাবে এবং এর ফলে দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যাওয়া রোধ করে তা দেশেই ধরে রাখা সম্ভব হবে। নতুন এই উড়োজাহাজগুলো বহরে আসার পর ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পূর্ব এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক নতুন রুটে তাদের ফ্লাইটের সংখ্যা ও পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা জানান।

দেশের এভিয়েশন খাতে দক্ষ জনবলের সংকট দূর করতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এক প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে অনুষ্ঠানে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে জানানো হয়। সংস্থাটি সম্পূর্ণ নিজেদের নিজস্ব আর্থিক অনুদান ও ব্যবস্থাপনায় চৌকস পাইলট এবং উচ্চমানের এয়ারক্রাফট প্রকৌশলী তৈরি করার দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে দেশে বিশ্বমানের বিমান চালক ও প্রকৌশলীর কোনো ঘাটতি থাকবে না। সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ ও এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইউএস-বাংলার এই বিশাল দেড় বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ শুধু একটি বেসরকারি সংস্থার বিস্তার ঘটাবে না, বরং এটি বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিবহন খাত, পর্যটন শিল্প এবং কর্মসংস্থানে এক বিরাট বিপ্লব ঘটাবে।

উএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের এই সুদূরপ্রসারী ও যুগান্তকারী দেড় বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা কেবল দেশের এভিয়েশন খাতকেই নয়, বরং সামগ্রিক অর্থনৈতিক দৃশ্যপটকেই এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে প্রস্তুত। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার বাজারে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে এবং দেশের আকাশপথের আকাশছোঁয়া সম্ভাবনার পরিপূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে এই বিশাল উদ্যোগ দেশের ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বর্তমান যুগের আধুনিক প্রযুক্তি, জ্বালানিসাশ্রয়ী ইঞ্জিন এবং সর্বোচ্চ যাত্রীবান্ধব সুবিধা সম্বলিত বোয়িং উড়োজাহাজগুলো যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স কেবল অভ্যন্তরীণ বাজারে নিজেদের একচ্ছত্র প্রাধান্যই বিস্তার করবে না, বরং বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে আন্তর্জাতিক মানের বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমানে সমানে লড়বার এক অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে পরিণত হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক রুটে যাতায়াতকারী যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা মাথায় রেখেই এই সময়োপযোগী কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিবছর লাখ লাখ বাংলাদেশি নাগরিক ও বিদেশি পর্যটক বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ করছেন, যার সিংহভাগ মুনাফা ও বৈদেশিক মুদ্রা এতদিন বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর পকেটে চলে যেত। বহরে নতুন একুশটি বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার পর ইউএস-বাংলা দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পূর্ব এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ইউরোপ বা পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন লাভজনক ও গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে তাদের ডানা বিস্তার করার সুযোগ পাবে। এর ফলে দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশেই অর্জিত হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে এর একটি সুদূরপ্রসারী ও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত