চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জামায়াতের অভিনন্দন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬
  • ৪ বার
চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জামায়াতের অভিনন্দন

প্রকাশ:  ৩০ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক সম্পর্ক ও বন্ধুত্বের মূলে নতুন মাত্রা যোগ করে চীনা সশস্ত্র বাহিনীর নিরানব্বইতম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে। এই উপলক্ষে গত বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকার একটি বিশিষ্ট হোটেলে অবস্থিত চীন দূতাবাসে এক জমকালো সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দূতাবাসের প্রতিরক্ষা সিনিয়র অ্যাটাশে কর্নেল দু সিনশেংয়ের আন্তরিক আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে এই বিশেষ অনুষ্ঠানে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে এই অংশগ্রহণ এবং পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের ঘটনাটি ইতিমধ্যে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক নতুন বার্তা বহন করছে।

রাজধানীর চীন দূতাবাসে আয়োজিত এই বর্ণিল ও আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন বন্ধুভাবাপন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, বিদেশি কূটনৈতিক মিশনের শীর্ষ কর্মকর্তা, দেশের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বিভিন্ন বাহিনী থেকে অবসরপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা, সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্তাব্যক্তি এবং সুশীল সমাজের গণ্যমান্য প্রতিনিধিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। কূটনীতিক ও রাজনৈতিক ময়দানের এই মিলনমেলায় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে উপস্থিত হয়ে বিশ্বমঞ্চে চীনের সামরিক শক্তির এই ঐতিহাসিক মাইলফলককে সম্মান জানানো হয় এবং দুই দেশের সুদৃঢ় বন্ধুত্বের সম্পর্কের কথা পুনরায় ব্যক্ত করা হয়।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের অত্যন্ত প্রভাবশালী ও মর্যাদাপূর্ণ একটি প্রতিনিধি দল এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগদান করে। জামায়াতের এই প্রতিনিধি দলে আরও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন বিশিষ্ট সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আব্দুল বাতেন এমপি, ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ এমপি এবং বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির বিশিষ্ট সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর। জামায়াতের শীর্ষ স্থানীয় এই নেতৃবৃন্দের একসঙ্গে চীন দূতাবাসে উপস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক একটি সামরিক দিবসের অনুষ্ঠানে সক্রিয় অংশগ্রহণ দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে, যা মূলত দেশের প্রধান বিরোধী দলের কূটনৈতিক পরিপক্বতা ও বহির্বিশ্বের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের প্রচেষ্টাকেই জোরালোভাবে ফুটিয়ে তোলে।

অনুষ্ঠান চলাকালীন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের হাতে শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভিনন্দন বার্তা পৌঁছে দেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এ সময় জামায়াতের প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে চীন সরকারের দীর্ঘ স্থায়িত্ব কামনা করার পাশাপাশি বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র চীনের সরকার এবং সাধারণ জনগণের সর্বাঙ্গীন সুখ, শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ঐতিহাসিক সুসম্পর্ক এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক অংশীদারত্ব আগামী দিনে আরও বেশি সুদৃঢ়, গভীর ও অর্থবহ হয়ে উঠবে বলে আন্তরিক আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনও জামায়াত নেতাদের এই আন্তরিক শুভেচ্ছাকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন এবং দুই দেশের পারস্পরিক অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অবকাঠামোগত মেগাপ্রজেক্ট এবং বাণিজ্যের ক্ষেত্রে চীন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ও বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে কাজ করে আসছে। এই প্রেক্ষাপটে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে চীনের কূটনৈতিক যোগাযোগের পরিধি দিন দিন আরও বিস্তৃত হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের এই অংশ্রহণ ও শুভেচ্ছা বিনিময় কেবল একটি দিবসের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি বৈশ্বিক শক্তির সঙ্গে দেশের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর এক সুষম ও দূরদর্শী কূটনৈতিক সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ। এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্যিক সহযোগিতা, প্রযুক্তিগত বিনিময় এবং আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় অত্যন্ত ইতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী ভূমিকা পালন করবে বলে সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন।

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব এবং বন্ধুত্বের সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে চীন সশস্ত্র বাহিনীর নিরানব্বইতম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই অনুষ্ঠানটি উভয় দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় হিসেবে যুক্ত হলো। বিগত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ক কেবল সাধারণ কূটনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি পর্যায়ক্রমে একটি শক্তিশালী কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ নিয়েছে। বাংলাদেশের বড় বড় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, সেতু নির্মাণ, বিদ্যুৎ উৎপাদন খাত থেকে শুরু করে তথ্যপ্রযুক্তি এবং ভারী শিল্পের প্রসারে চীন বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। এই বাস্তবতায় দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষস্থানীয় নেতাদের চীন দূতাবাসে গিয়ে এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা এবং দেশটির রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে উষ্ণ শুভেচ্ছা বিনিময় করা—উভয় দেশের নীতিনির্ধারক মহলেই বিশেষভাবে সমাদৃত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে বর্তমানে শক্তির ভারসাম্য যেভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, তাতে বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর সঙ্গে বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর সম্পর্ক রক্ষা করা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। চীন কেবল বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অংশীদারই নয়, বরং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায়ও দেশটির ভূমিকা অনস্বীকার্য। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে যে উচ্চপর্যায়ীয় প্রতিনিধি দল এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছে, তা মূলত আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দলটির পরিপক্ব ও ভারসাম্যপূর্ণ বৈদেশিক নীতিরই এক জোরালো বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য এবং একাধিক বিশিষ্ট সংসদ সদস্যের এই উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, দেশের রাজনৈতিক দলগুলো এখন জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে বৈশ্বিক বন্ধুত্বের হাত প্রসারিত করতে যথেষ্ট সচেতন ও সচেষ্ট রয়েছে।

অনুষ্ঠানে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং জামায়াতের প্রতিনিধি দলের মধ্যকার এই সৌহার্দ্যপূর্ণ আলাপচারিতা দুই দেশের পারস্পরিক বোঝাপড়াকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে। রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে চীনের ধারাবাহিক সহযোগিতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং ভবিষ্যতেও এই অংশীদারত্ব অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে, জামায়াতের পক্ষ থেকেও চীনের সরকার ও জনগণের অব্যাহত শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিমাণ আরও বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। পরিশেষে, এই কূটনৈতিক সম্প্রীতি ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও চীনের পারস্পরিক আস্থার যে বার্তা বিশ্বমঞ্চে প্রেরিত হয়েছে, তা আগামী দিনে উভয় দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে সচেতন মহল জোরালোভাবে বিশ্বাস করে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত