রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে যা বললেন মির্জা ফখরুল

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩০ বার

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট, ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনার মধ্যে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে নিজের কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক অবগতির কথা অস্বীকার করেছেন তিনি। দলের পক্ষ থেকেও তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি বলে জানিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।

রোববার (৯ আগস্ট) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় শায়রুল কবির খান জানান, রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি তাঁকে অবহিত করা হয়। জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না এবং দল থেকেও তাঁকে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

দিনজুড়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দাবি করা হয়, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এসব প্রতিবেদনের পরও বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন বা লিখিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি।

শায়রুল কবির খানের বক্তব্যের মাধ্যমে দলীয় অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়। তিনি বলেন, মহাসচিব নিজেই জানিয়েছেন যে রাষ্ট্রপতি পদে তাঁর সম্ভাব্য মনোনয়নের বিষয়ে তিনি অবগত নন। ফলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এ ধরনের সংবাদকে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়ে আলোচনা নতুন কিছু নয়। অতীতেও বিভিন্ন সময়ে দলীয় সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে নানা নাম রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় এসেছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সব সময় সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমেই নিশ্চিত হয়েছে। সে কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে প্রচারিত যেকোনো তথ্যের ক্ষেত্রে সরকারি বা দলীয় আনুষ্ঠানিক বক্তব্যকে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ, দাখিল, যাচাই-বাছাই এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করা হবে। যদি একাধিক বৈধ প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেন, তাহলে জাতীয় সংসদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে একজন মাত্র বৈধ প্রার্থী থাকলে সংবিধান ও বিদ্যমান আইন অনুযায়ী তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা যাবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতাও বেড়েছে। সরকারি দল বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সময়ে বিরোধী ১১ দলীয় জোটও তাদের প্রার্থী হিসেবে কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম ঘোষণা করেছে। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ। তিনি বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করছেন। বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে দলীয় অবস্থান তুলে ধরা এবং সরকার পরিচালনার বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তাঁর নাম রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় আসার অন্যতম কারণ তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতা। তবে তাঁকে নিয়ে যত আলোচনা থাকুক না কেন, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন এবং নির্বাচন কমিশনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত বলে বিবেচনা করা যায় না।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি দেশের সাংবিধানিক রাষ্ট্রপ্রধান। জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। বিচারপতি নিয়োগ, সংসদের অধিবেশন আহ্বান, আইন অনুমোদনসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কেবল একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সাংবিধানিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। রাজনৈতিক সূত্র কিংবা গণমাধ্যমে প্রকাশিত সম্ভাব্য তথ্য আলোচনার জন্ম দিতে পারে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করবে দলীয় মনোনয়ন এবং নির্বাচন কমিশনের আইনগত প্রক্রিয়া। এ কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে প্রকাশিত যেকোনো তথ্য যাচাই করে গ্রহণ করার পরামর্শ দিচ্ছেন পর্যবেক্ষকরা।

আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই মনোনয়নপত্র দাখিল ও যাচাই-বাছাইয়ের পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের চূড়ান্ত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে। তখনই জানা যাবে কোন কোন প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছেন এবং ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হবে কি না। আপাতত বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে তাঁর সম্ভাব্য মনোনয়নের বিষয়ে তিনি নিজে অবগত নন এবং দল থেকেও এ বিষয়ে তাঁকে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত