মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ০ বার

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট, ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বৃহৎ অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনার অংশ হিসেবে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৯ আগস্ট) সকালে তিনি প্রকল্প এলাকায় পৌঁছে বিদ্যুৎকেন্দ্র, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন কার্যক্রম সরেজমিনে ঘুরে দেখেন। সফরকালে প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটের দিকে প্রধানমন্ত্রী মাতারবাড়ী প্রকল্প এলাকায় পৌঁছান। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ এবং কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান।

প্রধানমন্ত্রীর সফরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাঁদের উপস্থিতিতে প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি, বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল মহেশখালী অঞ্চলে বাস্তবায়নাধীন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রকল্পের অগ্রগতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা। এর মধ্যে মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন কার্যক্রম অন্যতম।

প্রকল্প এলাকায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন। বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, কয়লা সংরক্ষণ ও সরবরাহ অবকাঠামো এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা। পরে তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নের বর্তমান অবস্থা, সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠকে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নির্মাণ অগ্রগতি, পরিচালন সক্ষমতা, বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধারাবাহিকতা এবং রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্রকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অবকাঠামো এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়েও আলোচনা হয়।

পর্যালোচনা বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁকে বন্দর নির্মাণের অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এর সম্ভাব্য ভূমিকা সম্পর্কে ব্রিফিং দেন। সরকারের প্রত্যাশা, গভীর সমুদ্রবন্দর পুরোপুরি চালু হলে বড় আকারের জাহাজ ভিড়তে পারবে এবং দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

এ সময় মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রমও সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁকে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। সরকারের মতে, মাতারবাড়ী ও মহেশখালী অঞ্চলকে ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম জ্বালানি ও শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শুধু একটি বিদ্যুৎ প্রকল্প পরিদর্শনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি পুরো উন্নয়ন কার্যক্রমের বাস্তব চিত্র পর্যালোচনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

সরকারের জ্বালানি নীতির আলোচনায় মাতারবাড়ী প্রকল্পকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ, শিল্পায়নের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ প্রকল্পের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে গভীর সমুদ্রবন্দর ও শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন হলে এ অঞ্চলকে কেন্দ্র করে নতুন বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার, পরিবেশগত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিষয়েও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্য এবং প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

মাতারবাড়ী সফর শেষে প্রধানমন্ত্রীর বন্যাকবলিত চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও হাটহাজারী এলাকায় যাওয়ার কর্মসূচি ছিল। সেখানে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে পুনর্বাসনের জন্য নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের কথা রয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে।

দিনের শুরুতে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর গুলশানে সরকারি বাসভবন থেকে তেজগাঁও বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে মহেশখালীর মাতারবাড়ীর উদ্দেশে যাত্রা করেন। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী দিনের বিভিন্ন সময়ে তিনি একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প এবং দুর্যোগকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।

মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের মাধ্যমে সরকার উন্নয়ন কার্যক্রমের গতি বাড়াতে চায় বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা। আগামী দিনে এসব প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্পায়ন, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে উঠেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত