প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশের ত্রয়োবিংশ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র কৌতূহল ও চরম ব্যস্ততা বিরাজ করছে। কে হতে যাচ্ছেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। এই প্রেক্ষাপটে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী আজই রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সর্বশেষ দিন হওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তৎপরতা এখন চরমে পৌঁছেছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শীর্ষ নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারকদের দীর্ঘ আলোচনার পর অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে এবং তা গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ করা হবে।
আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দিনটিতে সচিবালয়ে সরকারের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী ও বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মূলত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন চূড়ান্ত করতেই এই বিশেষ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। যদিও প্রশাসনিক ব্যস্ততার মাঝে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটিকে আনুষ্ঠানিক কোনো স্থায়ী কমিটির সভা হিসেবে দেখানো হচ্ছে না, তবুও এর মূল এজেন্ডা হলো রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় कागপত্র ও স্বাক্ষর সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করা।

এর আগে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম তথা জাতীয় স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে সর্বসম্মতিক্রমে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়নের সম্পূর্ণ ক্ষমতা ও দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যানের ওপর অর্পণ করা হয়েছিল। সেই প্রদত্ত ক্ষমতার বলেই আজ চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্রের বৈধতা নিশ্চিত করতে হলে সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে অন্তত একজনের প্রস্তাবক এবং অপর একজনের সমর্থক হিসেবে স্বাক্ষর করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই আনুষ্ঠানিকতা যথাযথভাবে সম্পন্ন করার জন্যই আজ সচিবালয়ে এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক ও সমর্থক হিসেবে স্বাক্ষর করবেন।
এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে যে, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম অত্যন্ত জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং দলের প্রতি অবিচল আনুগত্যের বিষয়টি মাথায় রেখে তাকে এই সর্বোচ্চ পদের জন্য বিবেচনা করা হতে পারে বলে অনেকে ধারণা করছেন। তবে গতকাল পর্যন্ত দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত নাম প্রকাশ করা হয়নি। আজকের নির্ধারিত বৈঠকের পরই পরিষ্কার হবে যে বিএনপি শেষ পর্যন্ত কাকে তাদের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন কমিশনের দরবারে উপস্থাপন করতে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক ধারা ও জোটগুলোর তৎপরতাও কম নয়। ইতিমধ্যে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি ও অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম ঘোষণা করেছে এবং তার পক্ষে মনোনয়নও জমা দেওয়া হয়েছে। এমন একটি প্রতিযোগিতামূলক ও বহুদলীয় রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যে বিএনপির প্রার্থীর নাম ঘোষণা এবং তা নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়ার বিষয়টি এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দলীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে প্রার্থীর কাগজপত্র জমা দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে দলটি।