আবুল কালাম আযাদের আপিল চলবে কি না, শুনানি ৩১ আগস্ট

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩০ বার

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাওলানা আবুল কালাম আযাদের আপিল গ্রহণযোগ্য কি না, সে বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ৩১ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ।

সোমবার (১৭ আগস্ট) আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে আবুল কালাম আযাদের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক। প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

মূলত আপিল বিভাগে এখনো মূল আপিলের শুনানি শুরু হয়নি। প্রথমে আদালত নির্ধারণ করবেন, দীর্ঘদিন পর করা এই আপিল আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য কি না। এ বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্যই ৩১ আগস্ট শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি পলাতক অবস্থায় আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মুক্তিযুদ্ধের সময় ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪১ বছর পর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটি ছিল প্রথম রায়। ওই সময় থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।

আবুল কালাম আযাদ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে ইসলাম বিষয়ক অনুষ্ঠান উপস্থাপনের মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। পরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় এবং বিচার শেষে ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর দীর্ঘ সময় পলাতক থাকার পর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন আবুল কালাম আযাদ।

এর আগে রাষ্ট্রপতির কাছে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল করার শর্তে তার মৃত্যুদণ্ডের সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়। ওই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

আত্মসমর্পণের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আপিল করার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরবরাহের নির্দেশ দেন।

আবুল কালাম আযাদের আইনজীবীদের বক্তব্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির আদেশের অন্যতম শর্ত ছিল আত্মসমর্পণ করে আপিল করার সুযোগ গ্রহণ করা। এ কারণে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন এবং আপিলের প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

তবে এখন আপিল বিভাগে প্রথমে নির্ধারণ করবেন, তার করা আপিল আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য কি না। ৩১ আগস্টের শুনানিতে এই প্রাথমিক প্রশ্নের নিষ্পত্তির পথ তৈরি হবে।

আবুল কালাম আযাদের পক্ষে আইনজীবী মশিউল আলম এর আগে জানিয়েছিলেন, ২০১৩ সালে ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যায়। পরে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আত্মসমর্পণ করে আপিল করার শর্তে তার সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করার পর তিনি আত্মসমর্পণ করেন। ট্রাইব্যুনাল তার আত্মসমর্পণ গ্রহণ করে এবং আপিলের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

৩১ আগস্টের শুনানিতে আপিল বিভাগ যদি আপিল গ্রহণযোগ্য বলে সিদ্ধান্ত দেন, তাহলে পরবর্তী পর্যায়ে মূল আপিলের শুনানির পথ খুলবে। আর গ্রহণযোগ্য না হলে ২০১৩ সালে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে তার আপিলের সুযোগ সীমিত হয়ে যাবে।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত