৩ লাখ রোহিঙ্গাকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা মানল মিয়ানমার

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৮ বার

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গাকে রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে মিয়ানমার। তবে রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তাদের দেশে ফেরত নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে দেশটি।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে পাঠানো রোহিঙ্গাদের তালিকা যাচাইয়ের পর এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। মিয়ানমারের দাবি, রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে যাচাইয়ে স্বীকৃত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত নেওয়া হবে।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে পাঠানো ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের তালিকার মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই করা হয়েছে।

তবে তালিকায় থাকা ৪ হাজার ২৪১ জনকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে দাবি করেছে মিয়ানমার। একই সঙ্গে আরও ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের পরিচয় যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

২০১৭ সালের পর বড় সংকট

২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের পর ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এরপর থেকে কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন শিবিরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বসবাস করছে।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একাধিকবার আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবে কার্যকর হয়নি। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে প্রত্যাবাসনের জন্য দুই দেশ প্রস্তুতি নিলেও শেষ পর্যন্ত কোনো রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারেনি।

এবারও প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি। সেখানে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।

মিয়ানমারের বক্তব্য, চলমান সংঘাতের কারণে এখনই রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়া সম্ভব নয়। নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে প্রত্যাবাসন শুরু করা হবে।

পরিচয় যাচাইয়ে নতুন অগ্রগতি

বাংলাদেশ থেকে পাঠানো তালিকার প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গাকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়াকে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে স্বীকৃতি দেওয়ার পরও তাদের দেশে ফেরার নির্দিষ্ট সময়সীমা জানায়নি মিয়ানমার।

ফলে যাচাই প্রক্রিয়ায় স্বীকৃতি পাওয়া রোহিঙ্গারা কবে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে ফিরতে পারবেন, তা এখনো অনিশ্চিত। নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি হবে কি না, সেটিও বড় প্রশ্ন হয়ে থাকছে।

এদিকে মিয়ানমার দাবি করেছে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের একটি দ্বিপক্ষীয় বিষয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ বলে আসছে, রাখাইনে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি না হলে জোর করে কোনো রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়।

মালয়েশিয়া থেকেও রোহিঙ্গা ফেরত নেওয়ার উদ্যোগ

এদিকে মালয়েশিয়া থেকে ৫ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয়প্রার্থীকে ফিরিয়ে নিতে সম্মতি জানিয়েছে মিয়ানমার। তবে তাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ার আশঙ্কা থাকলে প্রত্যাবাসন করা হবে না বলে জানিয়েছে মালয়েশিয়া।

বাংলাদেশে থাকা বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন নিয়েও একই প্রশ্ন সামনে রয়েছে। পরিচয় যাচাইয়ের পাশাপাশি রাখাইনে নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার, বসবাসের নিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার বিষয়গুলো নিশ্চিত না হলে প্রত্যাবাসন কার্যকর করা কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত