রাজ্জাক আঙ্কেল ছিলেন মাথার ওপর ছায়া: শাকিব

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫ বার
রাজ্জাক আঙ্কেল ছিলেন মাথার ওপর ছায়া: শাকিব

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকাই চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাককে হারানোর নয় বছর পূর্ণ হয়েছে আজ। ২০১৭ সালের ২১ আগস্ট হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা চলচ্চিত্রের এই কিংবদন্তি। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য জনপ্রিয় চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকের হৃদয়ে যে জায়গা তৈরি করেছিলেন, মৃত্যুর নয় বছর পরও তা অমলিন। বিশেষ এই দিনে আবেগ ও শ্রদ্ধায় নায়করাজকে স্মরণ করেছেন দেশের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেতা শাকিব খান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় শাকিব খান রাজ্জাকের সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, তাঁর স্নেহ এবং জীবনের বিভিন্ন সময়ে পাওয়া পরামর্শের কথা তুলে ধরেছেন। নায়করাজকে তিনি শুধু চলচ্চিত্রের একজন কিংবদন্তি হিসেবে দেখেননি; বরং একজন অভিভাবক ও আশ্রয়দাতা হিসেবেও মনে রেখেছেন। তাঁর স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে এমন এক সম্পর্কের কথা, যেখানে প্রজন্মের ব্যবধান পেরিয়ে একজন বরেণ্য শিল্পী হয়ে উঠেছিলেন পরবর্তী প্রজন্মের একজন অভিনেতার নির্ভরতার জায়গা।

শুক্রবার দুপুরে রাজ্জাকের সঙ্গে নিজের একটি ছবি প্রকাশ করে শাকিব খান লেখেন, নায়করাজ রাজ্জাক আঙ্কেলকে হারানোর নয় বছর আজ। তাঁকে হারানোর শূন্যতা এখনো আগের মতোই অনুভব করেন তিনি। শাকিবের ভাষায়, রাজ্জাক শুধু একজন কিংবদন্তি নায়ক ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অভিভাবক, অনুপ্রেরণা এবং ভালোবাসার এক বিশাল আশ্রয়।

রাজ্জাকের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের গভীরতা বোঝাতে গিয়ে শাকিব খান বলেন, বিশেষ করে তিনি ছিলেন তাঁর মাথার ওপর ছায়ার মতো। স্নেহ ও ভালোবাসায় আগলে রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিতেন নায়করাজ। এমনকি অনেক দিন দেখা না হলেও শাকিব কেমন আছেন কিংবা কী ধরনের পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, সেটিও রাজ্জাক কোনোভাবে বুঝতে পারতেন বলে স্মৃতিচারণ করেছেন তিনি।

একজন কিংবদন্তি অভিনেতাকে হারানোর বেদনা সাধারণ দর্শক ও সহকর্মীদের জন্য যেমন গভীর ছিল, শাকিবের কাছে সেই বেদনা ছিল আরও ব্যক্তিগত। তিনি মনে করেন, রাজ্জাককে হারানো তাঁর নিজের একজন অভিভাবককে হারানোর মতো। সময় পেরিয়ে গেলেও সেই শূন্যতা পূরণ হয়নি। বরং নায়করাজের সঙ্গে কাটানো সময়, তাঁর স্নেহ এবং পরামর্শ এখনো শাকিবের স্মৃতিতে জীবন্ত হয়ে আছে।

শাকিব খান তাঁর বার্তায় আরও জানান, রাজ্জাক শারীরিকভাবে না থাকলেও তাঁর স্নেহ, শিক্ষা ও আশীর্বাদ এখনো পথচলার অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। চলচ্চিত্রের প্রতি নায়করাজের নিষ্ঠা, অভিনয়ের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা এবং শিল্পীদের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে বলে মনে করেন তিনি।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে রাজ্জাকের অবস্থান শুধু একজন জনপ্রিয় নায়ক হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়। ষাটের দশক থেকে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকদের বিনোদন দিয়েছেন এবং একের পর এক স্মরণীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তাঁর অভিনয়শৈলী, ব্যক্তিত্ব এবং পর্দায় উপস্থিতি তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছিল। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে চলচ্চিত্রের ভাষা ও দর্শকের রুচিতে পরিবর্তন এলেও নায়করাজের জনপ্রিয়তা অনেকটাই অটুট থেকেছে।

রাজ্জাকের অভিনয়জীবনের বিস্তার ছিল বহুমাত্রিক। রোমান্টিক চরিত্র থেকে শুরু করে সামাজিক ও পারিবারিক গল্পের নানা চরিত্রে তিনি নিজেকে মেলে ধরেছেন। তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্রের গান, সংলাপ ও চরিত্রগুলো দীর্ঘদিন ধরে দর্শকের স্মৃতির অংশ হয়ে আছে। একই সঙ্গে তিনি শুধু অভিনয়েই থেমে থাকেননি; চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ফলে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্পে তাঁর অবদান ছিল বহুমুখী।

তাঁর সময়ে চলচ্চিত্রে কাজ করা অনেক শিল্পী ও কলাকুশলীর কাছেও রাজ্জাক ছিলেন শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মানুষ। পরবর্তী প্রজন্মের শিল্পীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও ছিল আন্তরিক। শাকিব খানের স্মৃতিচারণ সেই সম্পর্কেরই একটি ব্যক্তিগত প্রতিচ্ছবি। একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পীর কাছ থেকে পাওয়া উৎসাহ ও অভিভাবকসুলভ পরামর্শ একজন তরুণ শিল্পীর ক্যারিয়ারে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, শাকিবের বক্তব্যে তারও ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

নায়করাজ রাজ্জাকের মৃত্যুর পর নয় বছর পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে তাঁর অনুপস্থিতি অনুভূত হয়। চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত মানুষজন বিভিন্ন সময় তাঁর কাজ ও অবদানের কথা স্মরণ করেন। দর্শকরাও পুরোনো চলচ্চিত্র, গান ও চরিত্রের মধ্য দিয়ে তাঁকে নতুন করে আবিষ্কার করেন। নতুন প্রজন্মের অনেক দর্শকের কাছেও রাজ্জাকের নাম বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত।

শাকিব খান তাঁর স্মৃতিচারণের শেষদিকে নায়করাজের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র যত দিন থাকবে, নায়করাজও তত দিন মানুষের হৃদয়ে থাকবেন এবং দেশের চলচ্চিত্রের অহংকার হয়ে থাকবেন। তাঁর এই বক্তব্যে শুধু ব্যক্তিগত শোক নয়, একজন কিংবদন্তি শিল্পীর প্রতি প্রজন্মের শ্রদ্ধার অনুভূতিও প্রকাশ পেয়েছে।

২০১৭ সালের ২১ আগস্ট রাজ্জাকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে নেমে এসেছিল শোকের ছায়া। দীর্ঘ অভিনয়জীবনের অসংখ্য সহকর্মী, নির্মাতা, শিল্পী ও ভক্ত তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। সময়ের সঙ্গে সেই তাৎক্ষণিক শোক কিছুটা স্তিমিত হলেও তাঁর সৃষ্টির প্রতি মানুষের ভালোবাসা কমেনি। বরং তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্রগুলো নতুন করে দেখার মাধ্যমে দর্শকরা বারবার ফিরে যান তাঁর শিল্পীসত্তার কাছে।

আজ তাঁর চলে যাওয়ার নয় বছর পূর্তিতে শাকিব খানের স্মৃতিচারণ তাই কেবল একজন প্রয়াত অভিনেতাকে স্মরণ করার ঘটনা নয়; এটি বাংলা চলচ্চিত্রের এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও অনুপ্রেরণার উত্তরাধিকার বহন করারও একটি মুহূর্ত। নায়করাজ রাজ্জাকের মতো শিল্পীরা পর্দা থেকে বিদায় নিলেও তাঁদের সৃষ্টি, অভিনয় এবং মানুষের হৃদয়ে গড়ে তোলা জায়গা সহজে মুছে যায় না।

শাকিব খানের ভাষায়, রাজ্জাক নেই, কিন্তু তাঁর স্নেহ, শিক্ষা ও আশীর্বাদ এখনো পথ দেখায়। আর বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে নায়করাজের নামও থেকে যাবে সেই আলো হিসেবেই, যার স্মৃতি সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হয়ে উঠবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত