নেপাল সীমান্তে কৃত্রিম হ্রদ ভাঙার শঙ্কা ৭২ ঘণ্টায়

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৩ বার

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ ভূমিধসের ফলে আকস্মিক বন্যার পর এবার নতুন বিপদের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চীনের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভূমিধসে সৃষ্ট একটি কৃত্রিম হ্রদ আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ভেঙে পড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। এতে নেপালের ভাটি অঞ্চলে নতুন করে বড় ধরনের বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) এবং দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান জানিয়েছেন, গত বুধবার তিব্বত ও নেপাল সীমান্তের গিরং এলাকার কাছে লেন্দে নদীতে পাহাড় ও কাদার বিশাল স্তূপ ধসে পড়ে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং নেপালের ভাটি অঞ্চলের ভটে কোশি ও ত্রিশূলী নদীতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।

বন্যার কারণে যখন উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা চলছে, তখন চীনা কর্তৃপক্ষ হিমালয় সীমান্তে আরও একটি বড় ঝুঁকি শনাক্ত করেছে। সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, চোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর সংযোগস্থলে ভূমিধসের কারণে একটি বিশাল কৃত্রিম হ্রদ বা ব্যারিয়ার লেক তৈরি হয়েছে।

চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় হ্রদটির পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হ্রদটিতে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমা হয়েছিল। পানি ইতোমধ্যে হ্রদের ওপর দিয়ে উপচে পড়তে শুরু করেছে।

চীনা কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, আবহাওয়া ও পরিবেশগত পরিস্থিতির কারণে আগামী তিন দিনে হ্রদটিতে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি জমা হতে পারে। এতে পানির চাপ দ্রুত বাড়তে পারে এবং আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বাঁধসদৃশ প্রাকৃতিক বাধাটি যেকোনো সময় ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

হ্রদটি ভেঙে গেলে বিপুল পরিমাণ পানি হঠাৎ নিচের দিকে নেমে আসতে পারে। এর ফলে সীমান্তবর্তী এলাকা এবং নেপালের ভাটি অঞ্চলে নতুন করে আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে তিব্বতের সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকারী দলও মোতায়েন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দুই গ্রামবাসীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

উদ্ধার ও জরুরি ব্যবস্থাপনায় সহায়তার জন্য বেইজিং ও চেংদু থেকে অগ্নিনির্বাপক এবং বিশেষ উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে। গিরং শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা সম্ভব হলেও বন্দরসংলগ্ন কিছু এলাকা এখনো বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

সীমান্তবর্তী এই দুর্যোগের ফলে চীন ও নেপালের মধ্যে যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে নদীর গতিপথে আকস্মিক পরিবর্তন এবং পানির প্রবাহ বেড়ে গেলে সীমান্তবর্তী সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিমালয় অঞ্চলের ভৌগোলিক কাঠামো এবং বরফ ও হিমবাহের স্তর ক্রমেই অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। এর সঙ্গে অতিবৃষ্টি, উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং ভূমিধসের মতো প্রাকৃতিক ঘটনাগুলো যুক্ত হয়ে হিমালয়ের নদী অববাহিকায় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে এ ধরনের প্রাকৃতিক বাধা তৈরি হয়ে হ্রদ সৃষ্টি হলে সেটিকে ‘গ্লেশিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড’ বা হ্রদভাঙা আকস্মিক বন্যার মতো বিপজ্জনক পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করা হয়। প্রাকৃতিক বাধা হঠাৎ ভেঙে গেলে অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পানি নিচের দিকে নেমে এসে বিস্তীর্ণ এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে।

এটি অবশ্য হিমালয় অঞ্চলে এ ধরনের প্রথম ঘটনা নয়। এর আগেও তিব্বত ও নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকায় হিমবাহ ও ভূমিধসের কারণে আকস্মিক বন্যা দেখা গেছে।

২০২৫ সালের আগস্টেও উচ্চ তাপমাত্রার কারণে তিব্বতের একটি হিমবাহ হ্রদ উপচে ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি হয়েছিল। ওই ঘটনায় অন্তত নয়জনের মৃত্যু হয় এবং নেপাল ও চীনের মধ্যে সংযোগকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

বর্তমান পরিস্থিতিতে চীনা কর্তৃপক্ষের প্রধান উদ্বেগ হলো কৃত্রিম হ্রদটির পানির স্তর দ্রুত বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক বাধাটির স্থায়িত্ব। আগামী ৭২ ঘণ্টা তাই সংশ্লিষ্ট এলাকার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নেপাল সীমান্তের সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যার পর নতুন করে হ্রদ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও আগাম সতর্কতার গুরুত্বও সামনে এসেছে। পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে সীমান্তের দুই পাশেই বড় ধরনের মানবিক ও অবকাঠামোগত সংকট তৈরি হতে পারে।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত