সর্বশেষ :

চরম সংকটে গাজায় হামাসের সরকারি কর্মচারীদের বেতন বিতরণ: গোপনীয়তার মধ্যে টিকে থাকার লড়াই

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৮ আগস্ট, ২০২৫
  • ১৪০ বার
চরম সংকটে গাজায় হামাসের সরকারি কর্মচারীদের বেতন বিতরণ: গোপনীয়তার মধ্যে টিকে থাকার লড়াই

প্রকাশ: ০৮ অগাস্ট ‘২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের সংঘর্ষ দীর্ঘ প্রায় দুই বছর চললেও, এই মারাত্মক পরিস্থিতির মধ্যেও হামাস গোপনে প্রায় ৩০ হাজার সরকারি কর্মচারীর হাতে নগদ বেতন পৌঁছে দিচ্ছে। এই কার্যক্রমে বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ৭০ লাখ মার্কিন ডলার, যা স্থানীয় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পরও চালু রয়েছে। সরকারি কর্মচারীরা জানান, তারা প্রতি ১০ সপ্তাহ অন্তর পুরনো বেতনের মাত্র এক-পঞ্চমাংশ বা তারও কম নগদ অর্থ পাচ্ছেন, যা এই অঞ্চলের ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি ও খাদ্য সংকটের মধ্যে বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন।

গাজায় কার্যকর কোনও ব্যাংকিং ব্যবস্থা না থাকায় বেতন বিতরণ কার্যক্রম অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও জটিল। ইসরায়েলি বাহিনী হামাসের ‘বেতন বিতরণ কেন্দ্রগুলো’কে নিয়মিত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে, তাই এই বেতন পৌঁছানোর জন্য গোপন সংকেত ও এনক্রিপট করা মেসেজের মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানে ‘চা খেতে’ যাওয়ার অজুহাত দিয়ে হাতে সীল করা খামে বেতন তুলে দেওয়া হয়।

হামাসের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বেতন নিতে বের হওয়ার সময় নিজের প্রাণহানি হতে পারে বলে তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের বিদায় জানান। একাধিকবার বেতন বিতরণ কেন্দ্র ধ্বংস হলেও তিনি জীবিত ফিরেছেন। ‘আলা’ নামের এক স্কুলশিক্ষক বলেন, তাঁর হাতে আসা ছেঁড়া পুরোনো নোটে প্রায় ৩০০ ডলার রয়েছে, যা স্থানীয় দোকানিরা নিতেও অনীহা দেখায়। তার মতো কর্মচারীরা মূলত খাবারের জন্য খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রে যান, কিন্তু অনেক সময়ই ফিরে আসেন হাত খালি।

২০২৫ সালের মার্চে ইসরায়েল দাবি করেছে, হামাসের অর্থপ্রধান ইসমাইল বারহুমকে হত্যা করেছে, যিনি সংগঠনের সামরিক শাখায় অর্থ সরবরাহ করতেন। গাজার প্রশাসনিক কাঠামো ধ্বংসপ্রাপ্ত হলেও হামাসের কাছে রয়েছে ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গের মাধ্যমে সংরক্ষিত বিশাল অর্থ, যা মূলত তাদের বেতন ও সামরিক কার্যক্রম চালাতে সাহায্য করছে।

হামাসের অর্থের প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচিত হয় গাজায় আরোপিত আমদানি শুল্ক ও কর, কাতার থেকে আসা অনুদান এবং ইরানের অর্থায়ন। এছাড়া মুসলিম ব্রাদারহুডও তাদের বাজেটের অংশ হামাসকে সরবরাহ করত বলে জানা গেছে। যুদ্ধে থাকা অবস্থায় হামাস বিভিন্ন ব্যবসার ওপর কর আদায় অব্যাহত রেখেছে, যার কারণে সিগারেটের দাম স্বাভাবিকের অনেক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

নগদ অর্থের পাশাপাশি হামাস স্থানীয় ‘জরুরি কমিটি’র মাধ্যমে খাবার সরবরাহ করলেও, ইসরায়েলি হামলায় কমিটির নেতৃত্বের পরিবর্তন হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। এই দুরবস্থায় হামাসের প্রতি অসন্তুষ্টিও প্রকাশ পেয়েছে। বিধবা নারী নিসরিন খালেদ বলেন, তার সন্তানরা শুধু ক্ষুধায় কাঁদে না, পাশের বাসার হামাস সমর্থকদের খাবার পেতে দেখে আরও কষ্ট পায়। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘৭ অক্টোবরের আগে কেন হামাস প্রয়োজনীয় খাদ্য, পানি ও ওষুধ মজুত করেনি?’

গাজার অবর্ণনীয় যুদ্ধ পরিবেশের মাঝে সরকারি কর্মচারীদের বেতন গোপনে বিতরণের এই চিত্র তুলে ধরে, সেখানে টিকে থাকার সংগ্রাম, মানবিক দুর্দশা ও রাজনৈতিক সংকট যেন এক সুরে বাঁধা এক কঠিন বাস্তবতা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com