জাতিসংঘের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা খলিলুর রহমানের

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৩৬ বার
জাতিসংঘের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা খলিলুর রহমানের

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। একই সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে তাকে সমর্থন ও সহযোগিতা করার জন্য জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নতুন অধিবেশনের সূচনা বক্তব্যে খলিলুর রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের প্রতি তাঁর আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মর্যাদাপূর্ণ এই পদে তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সমর্থন দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান তিনি। জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক বহুপাক্ষিক কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার পর খলিলুর রহমান সভাপতির দায়িত্বে তাঁর প্রথম বক্তব্য দেন। এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আগামী এক বছর তিনি সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম অধিবেশন ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত চলবে।

সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের বক্তব্যে খলিলুর রহমান জাতিসংঘের দীর্ঘ পথচলা ও বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আট দশকেরও বেশি সময় ধরে জাতিসংঘ বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার পর ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যুদ্ধের অভিশাপ থেকে রক্ষা করার লক্ষ্যেই আন্তর্জাতিক এই সংস্থার প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে জাতিসংঘের দায়িত্বও আরও বিস্তৃত হয়েছে।

খলিলুর রহমানের বক্তব্যে উঠে আসে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের প্রত্যাশা ও সংকটের কথাও। তাঁর মতে, জাতিসংঘ এখন শুধু সংঘাত ও যুদ্ধ প্রতিরোধের একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম নয়; জলবায়ু পরিবর্তন, দারিদ্র্য, উন্নয়ন, মানবাধিকার, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো নতুন ও জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাতেও সংস্থাটিকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হচ্ছে। বর্তমান বিশ্বে একদিকে যেমন যুদ্ধ ও মানবিক সংকট বাড়ছে, অন্যদিকে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি নতুন ঝুঁকিও তৈরি করছে।

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্যও এসব বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এবারের অধিবেশনের থিম হলো ‘আস্থা পুনর্গঠন, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর একটি জাতিসংঘ’। এই প্রতিপাদ্যের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জাতিসংঘকে আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

জাতিসংঘের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে ২ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ড. খলিলুর রহমান ১৯৩ সদস্যরাষ্ট্রের মধ্যে ৯৯টি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস কাকুরিস পেয়েছিলেন ৯১ ভোট। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ অর্জন করে।

নির্বাচিত হওয়ার পর দেওয়া বক্তব্যেও খলিলুর রহমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিলেন। সে সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে তাঁকে এই পদে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য এবং নির্বাচনী প্রচারে শক্তিশালী ও ধারাবাহিক সমর্থন দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্রগুলোর আস্থা ও বিশ্বাসের জন্যও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

নতুন দায়িত্বকে তিনি কেবল আনুষ্ঠানিক একটি পদ হিসেবে দেখছেন না। বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মতপার্থক্যের মধ্যেও ঐকমত্য তৈরির সুযোগ সৃষ্টি, সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আস্থা বাড়ানো এবং আলোচনার মাধ্যমে কার্যকর সমাধানে পৌঁছানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর ঘোষিত অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে গতি আনা, জলবায়ু ও পরিবেশ সুরক্ষা, মানবাধিকার, নতুন প্রযুক্তির সুশাসন এবং জাতিসংঘের সংস্কার।

বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় এই দায়িত্বের গুরুত্বও বিশেষভাবে বেড়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত, যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক সংকট অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, উন্নয়ন অর্থায়নের ঘাটতি এবং প্রযুক্তির দ্রুত প্রসার আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সামনে নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে। এমন একটি সময়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে একজন বাংলাদেশির আসীন হওয়া দেশের কূটনৈতিক সক্ষমতা ও বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম, উন্নয়ন সহযোগিতা ও বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতার প্রেক্ষাপটে খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন পরিচালনার বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশ যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, তা সাধারণ পরিষদের আলোচনায় আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরার সুযোগও তৈরি হয়েছে।

খলিলুর রহমানের নিজের পেশাগত জীবনও জাতিসংঘ ও বহুপাক্ষিক কূটনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের সাক্ষ্য বহন করে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর জাতিসংঘ-সংশ্লিষ্টতার অভিজ্ঞতা তিন দশকেরও বেশি সময়ের। তিনি সাধারণ পরিষদের ১৬টি অধিবেশনে অংশ নিয়েছেন এবং নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সচিবালয় ও জেনেভায় জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনসহ বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করেছেন। এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাঁকে সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালনে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর খলিলুর রহমান যে বার্তা দিয়েছেন, তাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও আস্থা পুনর্গঠনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, বর্তমান সংকটময় বিশ্বে জাতিসংঘকে আরও কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানুষের প্রত্যাশার প্রতি সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ নতুন প্রযুক্তিগুলো কীভাবে দায়িত্বশীল ও ন্যায়সংগতভাবে পরিচালিত হবে, সেটিও আন্তর্জাতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশের জন্যও খলিলুর রহমানের এই দায়িত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সুযোগ। তাঁর সভাপতিত্বের সময়ে বাংলাদেশের শান্তি, উন্নয়ন, জলবায়ু ঝুঁকি, মানবিক সহায়তা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার অভিজ্ঞতা বৈশ্বিক আলোচনায় আরও জোরালোভাবে উঠে আসতে পারে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর স্বার্থকে আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণের আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সব মিলিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে খলিলুর রহমানের দায়িত্ব গ্রহণ বাংলাদেশের কূটনীতির জন্য একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। দায়িত্বের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁকে সমর্থনকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি যে বার্তা দিয়েছেন, তাতে ব্যক্তিগত কৃতজ্ঞতার পাশাপাশি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার প্রতিফলনও রয়েছে। আগামী এক বছর যুদ্ধ, জলবায়ু সংকট, মানবিক বিপর্যয়, প্রযুক্তির পরিবর্তন ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সময়ে সাধারণ পরিষদকে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব তাঁর ওপর থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত