প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে। রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের পারস্পরিক সম্পর্ক, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। সেখানে পৌঁছানোর পর রাষ্ট্রদূতকে বিএনপির পক্ষ থেকে স্বাগত জানানো হয়। সাক্ষাতের শুরুতে চীনা রাষ্ট্রদূত রুহুল কবির রিজভীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
সাক্ষাৎটি মূলত সৌজন্য সাক্ষাৎ হলেও এতে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়া, পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করা এবং বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমে সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ সম্পর্কের পরিধি বিস্তৃত হয়েছে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, শিল্প, প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে চীনের সহযোগিতা রয়েছে। ফলে দেশের রাজনৈতিক পরিসরের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে চীনা কূটনীতিকদের নিয়মিত যোগাযোগকে দুই দেশের সম্পর্কের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই দেখা হয়।
রিজভী ও ইয়াও ওয়েনের এই বৈঠকও সেই ধারাবাহিক যোগাযোগের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা পরিবর্তন ও নতুন বাস্তবতার মধ্যে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর মতবিনিময় বাড়ছে। এ ধরনের সাক্ষাতে দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার সুযোগ পায়। একই সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়েও অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। পাশাপাশি চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে চীনের অংশগ্রহণের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণেরও যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে বলে বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো মত দিয়ে আসছে।
রাজনৈতিক দিক থেকেও বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয়গুলোতে বাংলাদেশ ও চীনের পারস্পরিক যোগাযোগের গুরুত্ব রয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে চীনা কূটনীতিকদের যোগাযোগও বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
রুহুল কবির রিজভী বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারকদের একজন। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন, গণতন্ত্র, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে দলটির অবস্থান তুলে ধরতে তিনি নিয়মিত বক্তব্য দিয়ে আসছেন। অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনও বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের সময় দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে সক্রিয় যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছেন।
এই প্রেক্ষাপটে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সরাসরি সাক্ষাৎকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকে। তবে বৈঠকটি সৌজন্য সাক্ষাৎ হওয়ায় এর আলোচনার সব বিষয় আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশের সম্পর্ক, রাজনৈতিক বিষয় এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতাই ছিল আলোচনার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র।
সাক্ষাতে চীনা দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন লিউ ইউইন এবং রাজনৈতিক অ্যাটাশে লিং শুয়ান উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির পক্ষে রুহুল কবির রিজভীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) কাজী নজরুল ইসলাম এবং সহকারী ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) জাহেদুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমে সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং ভবিষ্যতে পারস্পরিক যোগাযোগ আরও জোরদার করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ককে কেবল কূটনৈতিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না রেখে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও উন্নয়ন সহযোগিতার আরও বিস্তৃত ক্ষেত্রে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক সম্পর্ক বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে চীনের মতো বড় অর্থনৈতিক শক্তির সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়টিও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত। রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যেও এ ধরনের কূটনৈতিক যোগাযোগ দুই দেশের সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।
রিজভী ও ইয়াও ওয়েনের এই সৌজন্য সাক্ষাৎ তাই শুধু একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠক নয়, বরং বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক যোগাযোগ হিসেবেও আলোচনায় এসেছে। বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মতবিনিময় হয়েছে, তা ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও চীনের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোকে আরও বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করা হয়েছে।