গ্যাস-তেল সংকটে জনজীবন বিষিয়ে উঠছে: শিবির সভাপতি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২৩ বার
গ্যাস-তেল সংকটে জনজীবন বিষিয়ে উঠছে: শিবির সভাপতি

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশে গ্যাস, তেল ও কয়লার সংকট সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপক ভোগান্তি তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। তার অভিযোগ, অন্ধ দলীয়করণ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের কারণে মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার যে পথে এগোচ্ছে সেটি সঠিক নয় এবং জনগণের স্বার্থে সরকারকে সেই পথ থেকে ফিরে আসতে হবে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা শিল্পকলা অ্যাকাডেমির হলরুমে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কুমিল্লা মহানগর শাখার উদ্যোগে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে নূরুল ইসলাম সাদ্দাম দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জ্বালানি খাতের সমস্যার প্রভাব শুধু যানবাহন বা শিল্পকারখানায় সীমাবদ্ধ থাকছে না; এর সঙ্গে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িয়ে আছে। তার মতে, গ্যাস, তেল ও কয়লার সংকট দীর্ঘায়িত হলে এর চাপ আরও বিস্তৃতভাবে সাধারণ মানুষের ওপর পড়তে পারে।

তিনি অভিযোগ করেন, অন্ধ দলীয়করণ এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মানুষকে জিম্মি করে ফেলা হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো একটি খাতে সংকট তৈরি হলে তার প্রভাব একাধিক ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাকেই অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হয়। এ অবস্থায় জ্বালানি খাতে কার্যকর ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, বর্তমান পথ থেকে ফিরে এসে জনগণের প্রত্যাশা ও প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি অর্থনীতি ও জনজীবনের ওপর তার প্রভাব বিবেচনা করাও জরুরি বলে তিনি মনে করেন। জ্বালানি সংকটের মতো বিষয় দ্রুত সমাধান করা না গেলে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে বলেও তার বক্তব্যে উঠে আসে।

অনুষ্ঠানে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি দাবি করেন, ছয় দফা দাবিতে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ওই কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং আগামী ১৯ তারিখে আরও একটি লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান।

রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, মানুষের প্রত্যাশা ও দাবিকে রাজনৈতিক দলগুলোর গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তার মতে, জনগণের অংশগ্রহণ কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচির গ্রহণযোগ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। একই সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে নূরুল ইসলাম সাদ্দাম সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের সুনাম নষ্ট করার জন্য ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ তাদের লুটপাট করা অর্থ ব্যবহার করছে। তবে তার এ বক্তব্য একটি রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই এসেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কোনো বক্তব্য অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় রাজনীতিতে বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে। একইভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের ওপর ডিম ছুড়ে মারার ঘটনাও ঘটছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ নেওয়া উচিত বলে মত দেন তিনি।

ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়েও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি। তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচন দেবে না—এমনটা বোঝা যাচ্ছে। দলটি গণতান্ত্রিক কোনো ব্যবস্থায় বিশ্বাস করে না এবং নিজেদের দলেও গণতান্ত্রিক চর্চা করে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে সরকার ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে শিক্ষার্থীদের অধিকার ও ক্যাম্পাসের গণতান্ত্রিক পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি জানান, ছাত্রশিবির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাদের দাবি ও প্রত্যাশাগুলো সরকারের কাছে তুলে ধরবে। নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

নির্বাচনে কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সরকার যদি কোনো ধরনের কারচুপি করে, তাহলে সেটি মারাত্মক ভুল হবে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামলে সরকারের পক্ষে ক্ষমতায় টিকে থাকাও কঠিন হয়ে যেতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে নির্বাচন কীভাবে আয়োজন করা হবে এবং এ বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা কী, সে সম্পর্কে অনুষ্ঠানে বিস্তারিত কোনো তথ্য তিনি দেননি।

কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মূল আয়োজন ছিল এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ঘিরে। সাফল্য অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও নেতৃত্বের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মেধা ও সাফল্যের স্বীকৃতিও অনুষ্ঠানে গুরুত্ব পায়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি নাজমুল হাসান পঞ্চায়েত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

নূরুল ইসলাম সাদ্দামের বক্তব্যে একদিকে দেশের জ্বালানি সংকট ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি উঠে এসেছে, অন্যদিকে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, লংমার্চ, ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনার প্রসঙ্গও স্থান পেয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি খাতের সংকটকে তিনি সাধারণ মানুষের অসন্তোষের সঙ্গে যুক্ত করে দ্রুত সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

জ্বালানি সংকট একটি দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। পরিবহন, কৃষি, শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবন—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই জ্বালানির প্রভাব রয়েছে। ফলে সংকট দীর্ঘ হলে তার চাপ সাধারণ মানুষের ব্যয় ও জীবনযাত্রার ওপরও পড়তে পারে। এ বাস্তবতায় জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সিন্ডিকেট বা অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা খতিয়ে দেখার দাবি রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহল থেকে গুরুত্ব পেতে পারে।

তবে জ্বালানি সংকটের প্রকৃত কারণ, সরবরাহ পরিস্থিতি এবং এর সমাধানে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও অন্যান্য পক্ষের বক্তব্যও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। নূরুল ইসলাম সাদ্দামের বক্তব্য মূলত রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অবস্থান থেকে দেওয়া হয়েছে। তার উত্থাপিত অভিযোগ ও মন্তব্যের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য এবং বাস্তব পরিস্থিতির তথ্য বিশ্লেষণ করেই সংকটের সামগ্রিক চিত্র পাওয়া সম্ভব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত