চোটে আসিয়ান কাপ থেকে ছিটকে গেলেন বিশ্বনাথ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৩০ বার
চোটে আসিয়ান কাপ থেকে ছিটকে গেলেন বিশ্বনাথ

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের জন্য আসন্ন আসিয়ান কাপের আগে এলো দুঃসংবাদ। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছেন জাতীয় দলের ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ। চোটের কারণে তিন থেকে চার সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে ২৭ বছর বয়সী এই ফুটবলারকে। ইতোমধ্যে তিনি জাতীয় দলের ক্যাম্পও ছেড়ে গেছেন।

আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়া ও হংকংয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে ফিফা আসিয়ান কাপ। টুর্নামেন্টে অংশ নিতে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ১৯ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়ার কথা। গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিযোগিতার আগে দলের অন্যতম ডিফেন্ডারের ছিটকে যাওয়া কোচিং স্টাফ ও সতীর্থদের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

জাতীয় দলের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বিশ্বনাথের চোটের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। অনুশীলন ও প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চোটে পড়ায় শেষ মুহূর্তে তাঁকে নিয়ে যে প্রত্যাশা ছিল, তা আর পূরণ হচ্ছে না। বরং এখন বিশ্বনাথকে মাঠে ফেরার জন্য পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

বিশ্বনাথের চোটের ধরন ও মাঠের বাইরে থাকার সময় বিবেচনায় আসন্ন টুর্নামেন্টে তাঁর খেলার সম্ভাবনা নেই। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট সাধারণত খেলোয়াড়দের জন্য বেশ সংবেদনশীল। দ্রুত মাঠে ফেরার চেষ্টা করলে একই জায়গায় পুনরায় চোট পাওয়ার ঝুঁকি থাকে। ফলে চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই তাঁকে ফেরার প্রস্তুতি নিতে হবে।

জাতীয় দলে ফেরার পর আবারও চোটে পড়াটা বিশ্বনাথের জন্য ব্যক্তিগতভাবেও হতাশার। এর আগে দীর্ঘ সময় চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল তাঁকে। ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ভুটানের বিপক্ষে একটি ফিফা প্রীতি ম্যাচে হাঁটুতে চোট পান এই ডিফেন্ডার। সেই চোটের কারণে প্রায় দেড় বছর মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল তাঁকে।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর গত মার্চে ভিয়েতনামের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে জাতীয় দলে ফেরেন বিশ্বনাথ। এরপর সিঙ্গাপুর ও সান মারিনোর বিপক্ষেও বাংলাদেশের জার্সিতে মাঠে নামেন তিনি। জাতীয় দলে ফেরার পর আবারও চোটে পড়ায় তাঁর জন্য পরিস্থিতিটি আরও হতাশাজনক হয়ে উঠেছে।

বিশ্বনাথ ঘোষ বাংলাদেশের রক্ষণভাগে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। শারীরিক সক্ষমতা, গতিশীলতা এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলানোর সামর্থ্যের কারণে জাতীয় দলের রক্ষণভাগে তাঁর উপস্থিতি কোচিং স্টাফদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফলে আসিয়ান কাপের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আগে তাঁকে হারানো বাংলাদেশের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে পারে।

বিশ্বনাথের অনুপস্থিতির পাশাপাশি জাতীয় দলের আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে নিয়েও রয়েছে চোটের দুশ্চিন্তা। দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া গত কয়েক দিন পায়ের পেশিতে টান পড়ার কারণে অনুশীলন করতে পারেননি। অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণও হালকা চোটের কারণে বর্তমানে রিকভারি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন। এ ছাড়া উইঙ্গার ফয়সল আহমেদ ফাহিমও চোটের সমস্যায় ভুগছেন।

ফলে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে বাংলাদেশের প্রস্তুতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা। আন্তর্জাতিক ফুটবলে একটি দলের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের পুরোপুরি ফিট থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের মধ্যে সমন্বয় ও বোঝাপড়া গড়ে উঠতে সময় লাগে। বিশ্বনাথের মতো একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় শেষ মুহূর্তে না থাকায় সেই জায়গায় নতুন সমন্বয় তৈরি করতে হবে।

তবে বিশ্বনাথের চোট বাংলাদেশের পুরো টুর্নামেন্ট পরিকল্পনা থামিয়ে দিচ্ছে না। বরং তাঁর অনুপস্থিতিতে দলের অন্য ডিফেন্ডারদের ওপর দায়িত্ব আরও বাড়বে। কোচিং স্টাফদের এখন রক্ষণভাগের বিকল্প সমন্বয় নিয়ে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে জামাল ভূঁইয়া, তপু বর্মণ ও ফয়সল আহমেদের চোট পরিস্থিতিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

একজন খেলোয়াড় দীর্ঘ সময় পর জাতীয় দলে ফিরে আবার চোটে পড়লে তাঁর মানসিক অবস্থার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। বিশ্বনাথের ক্ষেত্রেও বিষয়টি আবেগের। দীর্ঘ দেড় বছরের বিরতির পর জাতীয় দলের জার্সিতে ফেরার পর তিনি আবারও গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেলেন। তবে তাঁর সামনে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে মাঠে ফেরা।

বাংলাদেশ দলের জন্য আসিয়ান কাপের প্রস্তুতি তাই শুধু কৌশলগত নয়, খেলোয়াড়দের ফিটনেস ব্যবস্থাপনাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। টুর্নামেন্টের আগে হাতে এখনও কয়েক দিন সময় থাকলেও চোট পাওয়া খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে ঝুঁকি নেওয়ার সুযোগ কম। বিশেষ করে হ্যামস্ট্রিংয়ের মতো চোটে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পুনর্বাসন ছাড়া মাঠে ফেরানো হলে ভবিষ্যতে আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য খেলোয়াড়কে হারানোর আশঙ্কা থাকে।

১৯ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশে বাংলাদেশ দল রওনা হওয়ার আগে স্কোয়াডের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলবে। এই সময়ের মধ্যে যারা পুরোপুরি ফিট থাকবেন, তাঁদের নিয়েই মূল পরিকল্পনা সাজাতে হবে কোচিং স্টাফদের। বিশ্বনাথের অনুপস্থিতি পূরণ করতে রক্ষণভাগে যে পরিবর্তন আসবে, সেটিও প্রস্তুতি ম্যাচ ও অনুশীলনে যাচাই করার সুযোগ থাকবে।

বাংলাদেশ ফুটবলে দীর্ঘদিন ধরে চোটের কারণে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি দলীয় পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলেছে। এবারও আসিয়ান কাপের আগে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় খেলোয়াড়দের ফিটনেস ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব নতুন করে সামনে এসেছে। একটি প্রতিযোগিতায় ভালো ফল করতে শুধু প্রতিভাবান খেলোয়াড় থাকাই যথেষ্ট নয়; তাঁদের ধারাবাহিকভাবে ফিট রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বনাথের জন্য এখন লক্ষ্য থাকবে দ্রুত নয়, নিরাপদে মাঠে ফেরা। তিন থেকে চার সপ্তাহের পুনর্বাসন শেষে তাঁর শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জাতীয় দলের হয়ে আবারও মাঠে ফেরার অপেক্ষায় থাকবেন এই ডিফেন্ডার। আর বাংলাদেশ দলকে বিশ্বনাথকে ছাড়াই আসিয়ান কাপে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হবে।

আসন্ন টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের প্রতিটি ম্যাচই দলের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করার সুযোগ। সেই যাত্রার শুরুতেই গুরুত্বপূর্ণ একজন ডিফেন্ডারকে হারানো নিঃসন্দেহে অস্বস্তিকর। তবে চোটের ঝুঁকি এড়িয়ে সুস্থ খেলোয়াড়দের নিয়ে সেরা সমন্বয় তৈরি করতে পারলে বিশ্বনাথের অনুপস্থিতি সামলে প্রতিযোগিতায় ভালো করার প্রত্যাশা থাকছেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত