বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারে যৌথ সভা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১০ বার
বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারে যৌথ সভা

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও সক্রিয় করার লক্ষ্যে যৌথ সভা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। রোববার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। সভায় সাংগঠনিক কর্মতৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে বিকেল ৫টায় যৌথ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। দলটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সভায় যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকদের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব এবং যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় মূলত দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের বর্তমান অবস্থা, মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম বাড়ানো এবং বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সর্বসম্মতিক্রমে সাংগঠনিক কর্মতৎপরতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়।

বিএনপির ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলীয় সংগঠনকে সক্রিয় রাখা এবং কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতাকর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সভায় গুরুত্ব পেয়েছে। দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি আনার পাশাপাশি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যক্রমও আরও সক্রিয় করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সভায় উপস্থিত নেতারা দেশের রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। এমন পরিস্থিতিতে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকা এবং সাংগঠনিকভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্ব পালন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষগুলোর বক্তব্য এই সভার প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

দলীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সাংগঠনিক কার্যক্রম শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তৃণমূল পর্যায়ের সংগঠনকে সক্রিয় করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন ইউনিটে নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখা এবং সাংগঠনিক দুর্বলতা থাকলে তা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বিএনপির অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয়ও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সভায় নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ বা সাংগঠনিক জটিলতা থাকলে তা দ্রুত সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। দলের কার্যক্রম যাতে ব্যক্তিগত বিরোধ বা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং সংগঠন সম্প্রসারণের বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক উপস্থিতি বজায় রাখা, নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সংগঠনের মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকেও নিজ নিজ সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে আরও কার্যকরভাবে কাজ করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

যৌথ সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ এবং সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স উপস্থিত ছিলেন। সাংগঠনিক সম্পাদকদের মধ্যে কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, মাহবুবের রহমান শামীম, সৈয়দ শাহীন শওকত, আসাদুল হাবিব দুলু, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, শরীফুল আলম, শামা ওবায়েদ ও অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ সংশ্লিষ্ট নেতারা সভায় অংশ নেন।

সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকদের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব এবং যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি বা আহ্বায়ক, সাধারণ সম্পাদক ও সদস্য সচিবরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন। ফলে সভাটিতে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি রাজধানী ও অঙ্গসংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতি ছিল।

বিএনপির সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তকে দলটির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে দলটির বিভিন্ন যৌথ সভায় কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার এবং কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত তৃণমূল পর্যায়ে কার্যকর করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আগস্টে দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি নিয়েও নয়াপল্টনে যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক পরিসরে বিভিন্ন দল ও সংগঠনের তৎপরতা বাড়ার প্রেক্ষাপটে বিএনপির এই সাংগঠনিক উদ্যোগও তাৎপর্যপূর্ণ। দলটির জন্য কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা, স্থানীয় ইউনিটগুলোকে সক্রিয় রাখা এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো সাংগঠনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

যৌথ সভায় দলীয় ঐক্যের ওপর দেওয়া গুরুত্বও এ প্রক্রিয়ার একটি অংশ। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নেতাকর্মীদের পারস্পরিক সমন্বয় এবং ঐক্য ধরে রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে স্থানীয় নেতৃত্বের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সভায় পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অভিযোগ তুলে এর বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিএনপির প্রকাশিত বিবৃতিতে এই বিষয়টিকে সাংগঠনিক কর্মতৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অন্যতম আলোচ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দলটির নেতারা মনে করছেন, রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দলীয় নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।

তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন দলের বক্তব্য ও অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। বিএনপির যৌথ সভায় উত্থাপিত অভিযোগগুলো দলটির নিজস্ব বক্তব্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঘটনার পৃথক যাচাই প্রয়োজন। সভায় অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের বক্তব্যও ছিল না।

সব মিলিয়ে, নয়াপল্টনের যৌথ সভায় বিএনপি সাংগঠনিক কার্যক্রমকে নতুন করে সক্রিয় করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, মহানগর পর্যায় এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম বাড়ানোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ বিরোধ দ্রুত মীমাংসা, নেতাকর্মীদের ঐক্য ধরে রাখা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সাংগঠনিকভাবে সতর্ক থাকার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে এই সিদ্ধান্তগুলো মাঠপর্যায়ে কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেটিই দলটির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত