প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সৌদি আরবের ৯৬তম জাতীয় দিবস উপলক্ষে ঢাকায় দেশটির দূতাবাস আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর শেরাটন ঢাকার গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের প্রতি অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি চিঠি হস্তান্তর করেন।
অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহর হাতে ওই শুভেচ্ছা চিঠি তুলে দেন। চিঠিতে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে সৌদি বাদশাহ, রাজপরিবার, সৌদি সরকার এবং দেশটির জনগণের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন ও উষ্ণ শুভেচ্ছা জানানো হয়। সৌদি জাতীয় দিবসকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই কূটনৈতিক সংবর্ধনায় বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও আমন্ত্রিত অতিথিরাও অংশ নেন।
শুভেচ্ছা বার্তায় সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও জনগণের মধ্যে বিদ্যমান যোগাযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। চিঠিতে বলা হয়, দুই দেশের সম্পর্ক কেবল প্রচলিত দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে দীর্ঘদিনের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও পারস্পরিক জনগোষ্ঠীর সম্পর্কও জড়িত। বিশেষ করে সৌদি আরবে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ও সামাজিক সেতুবন্ধন হিসেবে ভূমিকা রাখছেন বলে উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে মুসলিম বিশ্বের কাছে সৌদি আরবের বিশেষ গুরুত্বের কথাও তুলে ধরা হয়। মক্কার মসজিদুল হারাম এবং মদিনার মসজিদে নববীর ব্যবস্থাপনা ও সেবার ক্ষেত্রে সৌদি আরবের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত মুসলমানদের হজ ও ওমরাহ পালনে দেশটির সহযোগিতা ও সেবার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সৌদি আরবের জাতীয় দিবসের শুভেচ্ছা বার্তায় এসব বিষয় তুলে ধরে দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্কের গুরুত্বও প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশিরা দুই দেশের অর্থনীতি ও পারিবারিক জীবনের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও একটি বড় সংযোগ তৈরি করেছেন। ফলে দুই দেশের সম্পর্কের আলোচনায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান নিয়মিতভাবেই গুরুত্ব পেয়ে থাকে। ডা. শফিকুর রহমানের শুভেচ্ছা বার্তাতেও এই মানবিক যোগাযোগের বিষয়টি উঠে এসেছে।
শুভেচ্ছা বার্তায় দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও জোরদার হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। একই সঙ্গে সৌদি আরবের জনগণ, সরকার ও রাজপরিবারের প্রতি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানানো হয়। জাতীয় দিবসের মতো একটি রাষ্ট্রীয় উপলক্ষে এমন শুভেচ্ছা বিনিময় দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগেরও অংশ হিসেবে দেখা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় করেন। বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও আমন্ত্রিত ব্যক্তিদের সঙ্গে তার সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। এ সময় বাংলাদেশের রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের যোগাযোগও অনুষ্ঠানের আবহে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল হালিম এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের উপস্থিত ছিলেন। বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুরও অনুষ্ঠানে ছিলেন।
সৌদি আরবের জাতীয় দিবস উপলক্ষে ঢাকায় আয়োজিত এই সংবর্ধনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্কের গুরুত্বকেও সামনে নিয়ে এসেছে। দুই দেশের মধ্যে ধর্মীয় সম্পর্কের পাশাপাশি শ্রমবাজার, প্রবাসী বাংলাদেশি, অর্থনৈতিক যোগাযোগ এবং জনগণের পারস্পরিক সম্পর্কও দীর্ঘদিন ধরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
বাংলাদেশের জন্য সৌদি আরব একটি গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। দেশটিতে বসবাস ও কর্মরত বাংলাদেশিদের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত সামাজিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে হজ ও ওমরাহ পালনের জন্য প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি সৌদি আরবে যান। এসব কারণে সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সাধারণ কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও পারিবারিক অর্থনীতির সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।
জাতীয় দিবসের সংবর্ধনায় বিরোধীদলীয় নেতার অংশগ্রহণ এবং সৌদি বাদশাহর উদ্দেশে শুভেচ্ছা চিঠি হস্তান্তর সেই দীর্ঘ সম্পর্কের ধারাবাহিকতারই একটি আনুষ্ঠানিক প্রকাশ। চিঠিতে দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি সৌদি আরবের জনগণ ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার আকাঙ্ক্ষাও প্রকাশ পেয়েছে।
অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান সম্পর্কের বিভিন্ন দিক আবারও আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান, ধর্মীয় যোগাযোগ এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেওয়া শুভেচ্ছা বার্তায় এসব সম্পর্কের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগকে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশার কথা জানানো হয়েছে।