প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ১ অক্টোবর ফেনী সফরকে কেন্দ্র করে জেলার প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। সফরসূচিতে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থান, জনসভাস্থল, হেলিপ্যাড এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তাব্যবস্থা সরেজমিনে পর্যালোচনা শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এরই অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী শুক্রবার দিনভর ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলার বিভিন্ন সম্ভাব্য ভেন্যু পরিদর্শন করেছেন।
সম্ভাব্য এই সফরকে ঘিরে প্রশাসনের পাশাপাশি পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে নিরাপত্তা, যাতায়াত, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়। তাই সফরের সম্ভাব্য স্থানগুলো আগে থেকেই পরিদর্শন করে বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার ডিআইজি আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে পরশুরাম ও ফুলগাজীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করেন। এ সময় সম্ভাব্য জনসভাস্থলসহ সফরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানের নিরাপত্তাব্যবস্থা, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ, আশপাশের পরিবেশ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্য নেন তিনি। একই সঙ্গে সফরকে কেন্দ্র করে দায়িত্ব বণ্টন ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা করা হয়।
পরিদর্শনের সময় ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদারসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী, পরশুরাম, ফেনী সদর, দাগনভূঞা ও সোনাগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারাও ডিআইজির সঙ্গে ছিলেন। ফলে সম্ভাব্য সফরকে সামনে রেখে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশের প্রস্তুতির বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
পরিদর্শনের অংশ হিসেবে ডিআইজি পরশুরামের মুহুরী নদীর স্টিল ব্রিজসংলগ্ন সম্ভাব্য জনসভাস্থল ঘুরে দেখেন। পাশাপাশি পরশুরাম পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে সম্ভাব্য অস্থায়ী হেলিপ্যাডের স্থান, ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠ, বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ মাঠ এবং ফুলগাজী ডাকবাংলোও পরিদর্শন করেন। সম্ভাব্য প্রতিটি স্থানের ভৌগোলিক অবস্থান, আশপাশের পরিবেশ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে কোনো একটি স্থান শুধু জনসভা আয়োজনের জন্য উপযুক্ত কি না, সেটিই প্রশাসনের একমাত্র বিবেচনা নয়। একই সঙ্গে সেখানে বিপুল মানুষের সমাগম হলে নিরাপদ চলাচল কীভাবে নিশ্চিত করা যাবে, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ কতটা রয়েছে এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় কীভাবে কার্যকর করা হবে—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ডিআইজির মাঠপর্যায়ের পরিদর্শনে এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পরিদর্শনের সময় নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও সুসংহত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। সফরের সম্ভাব্য স্থানগুলোতে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আগাম প্রস্তুতি, পারস্পরিক যোগাযোগ এবং সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারাও নিজেদের দায়িত্ব অনুযায়ী প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছেন।
ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার ডিআইজির পরিদর্শনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিভাগীয় কমিশনারের ফেনী সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সফরসূচি সামনে রেখে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে সফরের চূড়ান্ত কর্মসূচি ও ভেন্যু সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
এদিকে আজ শনিবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন ফেনী সফরে আসার কথা রয়েছে। সফরকালে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফরের বিভিন্ন ভেন্যু এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি পরিদর্শন করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়ের এই পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি আরও সমন্বিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ফেনী সফর স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করেছে। গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ব্যক্তির সফরকে কেন্দ্র করে কোনো এলাকায় প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই স্থানীয় পর্যায়ে নানা প্রস্তুতি দেখা যায়। সম্ভাব্য জনসভাস্থলগুলোতে মানুষের চলাচল, যানবাহন ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তার বিষয়গুলোও তখন বিশেষ গুরুত্ব পায়। ফলে সফরের প্রস্তুতি শুধু নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন শাখাকেও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হয়।
ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজী সীমান্তবর্তী এবং ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হওয়ায় এসব অঞ্চলে কোনো উচ্চপর্যায়ের সফর আয়োজনের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সম্ভাব্য ভেন্যুগুলো আগে থেকে পরিদর্শনের মাধ্যমে বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপত্তা পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনার সুযোগ থাকে। এ কারণেই ডিআইজির পরিদর্শনকে প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা সম্ভাব্য সফরকে সামনে রেখে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছেন। সফরের চূড়ান্ত সময়সূচি ও স্থান নির্ধারিত হলে সে অনুযায়ী নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার পরিধি আরও স্পষ্ট হবে। এর আগে সম্ভাব্য স্থানগুলো ঘুরে দেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির ঘাটতি চিহ্নিত করা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর কাজ অব্যাহত থাকবে।
সব মিলিয়ে, ১ অক্টোবরকে সামনে রেখে ফেনীতে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর ঘিরে এখন থেকেই প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা তৎপরতা দৃশ্যমান হয়েছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির মাঠপর্যায়ের পরিদর্শনের পর বিভাগীয় কমিশনারের সফর এবং জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ধারাবাহিক প্রস্তুতি এ কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিচ্ছে। সম্ভাব্য সফর নির্বিঘ্ন ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত প্রস্তুতিই এখন মূল লক্ষ্য হয়ে উঠেছে।