নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা জুলিয়াস সিজারের ডাকসু ভিপি প্রার্থীতা ঘিরে তুমুল বিতর্ক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১২ আগস্ট, ২০২৫
  • ১২৬ বার

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভাইস-প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে চিহ্নিত ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা জুলিয়াস সিজার তালুকদারের মনোনয়নপত্র সংগ্রহের ঘটনাকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। মঙ্গলবার দুপুরে তিনি ডাকসু নির্বাচন কমিশনের চিফ রিটার্নিং অফিসার ড. মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের কাছ থেকে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন। তবে তার অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সহিংসতার অভিযোগের কারণে শিক্ষার্থী মহল, প্রাক্তন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ছাত্রলীগ মনোনীত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী ছিলেন জুলিয়াস সিজার তালুকদার। সেই নির্বাচনে তার বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলা, ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে বাধা, কৃত্রিম লাইন তৈরি করে ভোটারদের ভোটাধিকার হরণ এবং শিক্ষার্থী নির্যাতনের একাধিক অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের দাবি, ওই সময় সিজারের নেতৃত্বে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং ক্যাম্পাসে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মশিউর আমিন শুভ স্মৃতিচারণ করে বলেন, “তখন আমরা প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। ফরিদ ভাইকে হলে নেওয়ার সময় সিজারের বাহিনী আমাদের উপরও হামলা চালায়। সেই ঘটনায় সাবেক ডাকসু ভিপি নূরুল হক নূর, এনসিপি নেতা আখতার হোসেন এবং বর্তমান ছাত্রদল নেতা মাহমুদসহ অনেকেই আহত হয়েছিলেন।” অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনের পরও এস এম হলে হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা মিছিল করলে সিজারের নেতৃত্বে পুনরায় তাদের উপর আক্রমণ চালানো হয়।

তৎকালীন ছাত্রদলের জিএস প্রার্থী আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক বলেন, “আমি সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম। ফরিদ, যিনি হল সংসদের স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন, তার কানের পর্দা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছিল ছাত্রলীগের হাতে, আর সেই নেতৃত্বে ছিলেন সিজার। এমনকি আমাকে এস এম হলে প্রবেশ করতেও বাধা দেওয়া হয়, যদিও একজন প্রার্থী হিসেবে সব ভোটকেন্দ্রে পর্যবেক্ষণ করার অধিকার আমার ছিল।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ হীল বাকী প্রশ্ন তোলেন, “যে ব্যক্তি অতীতে এত সহিংস ঘটনায় জড়িত ছিল, তিনি এখনো কিভাবে ক্যাম্পাসে অবাধে ঘুরে বেড়ান এবং নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন—এটা প্রশাসনের কাছে বড় প্রশ্ন।”

বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক আবু সাদিক কায়েম এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “সিজারের বিরুদ্ধে থাকা সুস্পষ্ট অপরাধের প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে মনোনয়নের সুযোগ দিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষুব্ধ করেছে। অতীতের ন্যক্কারজনক ঘটনাগুলোর তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন হলে ভোটার তালিকায় থাকা নিষিদ্ধ ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদেরও শাস্তির আওতায় আনতে হবে, নতুবা ফ্যাসিবাদমুক্ত ক্যাম্পাস গঠনে প্রশাসনের ব্যর্থতা স্পষ্ট হবে।”

তবে অভিযোগ বিষয়ে জুলিয়াস সিজার তালুকদার নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, “আমি ছাত্রলীগ নেতা গোলাম রব্বানীর অনুসারী ছিলাম, কিন্তু ছাত্রলীগে কোনো পদে ছিলাম না।” তার এই বক্তব্য বিতর্কের আগুন কমাতে ব্যর্থ হয়েছে, বরং নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে শিক্ষার্থীদের মনে—ডাকসুর মত সর্বোচ্চ ছাত্র প্রতিনিধিত্বমূলক আসনে এমন বিতর্কিত ব্যক্তিত্বের অংশগ্রহণ বিশ্ববিদ্যালয় গণতন্ত্রের জন্য কতটা স্বাস্থ্যকর হবে।

আপনি চাইলে আমি এই সংবাদটির আরও গভীর অনুসন্ধানী সংস্করণও তৈরি করে দিতে পারি যেখানে ২০১৯ সালের ঘটনা, ছাত্র রাজনীতির সহিংসতার প্যাটার্ন এবং বর্তমান প্রার্থিতা ঘিরে আইনি দিকগুলোও বিশ্লেষণ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com