পদ্মায় মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান, আটক ৭ জেলে

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৭ বার
পদ্মায় মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান, আটক ৭ জেলে

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া এলাকায় পদ্মা নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণে পরিচালিত অভিযানে সাত জেলেকে আটক করেছে নৌপুলিশ। এ সময় পাঁচ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও ১০ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। সোমবার রাত ২টা থেকে সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত উপজেলার মজলিশপুর ও কলাবাগান এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মৎস্য সংরক্ষণ ও সুরক্ষা আইনে তিনটি মামলা করা হয়েছে। পরে তাঁদের রাজবাড়ীর আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মা ইলিশের প্রজনন ও বংশবিস্তার নির্বিঘ্ন রাখতে নদীতে অবৈধ মাছ ধরার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। অভিযানে জব্দ করা ইলিশ মাছ বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে। দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ত্রিনাথ সাহা অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত নৌপুলিশের সদস্যরা পদ্মা নদীর সংশ্লিষ্ট এলাকায় অভিযান চালান। রাতের অন্ধকারে নদীতে মাছ ধরার কার্যক্রম নজরদারির অংশ হিসেবে মজলিশপুর ও কলাবাগান এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সাতজনকে আটক করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে পাঁচ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল এবং ১০ কেজি ইলিশ উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দ করা জালের ধরন ও পরিমাণ নদীতে অবৈধভাবে মাছ ধরার সরঞ্জাম ব্যবহারের বিষয়টি সামনে এনেছে।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার মেঝোমিয়ারের ডাঙ্গি গ্রামের মো. রিপন খান, ইকরা মৃধা, মুন্সির ডাঙ্গি গ্রামের শেখ আয়নাল, তালেব খার ডাঙ্গি গ্রামের মিজান শেখ এবং আমিন ফকিরের ডাঙ্গি গ্রামের সোবাহান শেখ রয়েছেন। তাঁদের বয়স যথাক্রমে ৩৫, ২৪, ৫৭, ২৭ ও ২৫ বছর। এ ছাড়া গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের জয় সরকার (২১) ও আব্দুর রহিম শেখ (১৯) আটক হয়েছেন। পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ওসি ত্রিনাথ সাহা জানান, মা ইলিশ রক্ষায় পরিচালিত অভিযানের অংশ হিসেবে ওই সাতজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার করা ইলিশ মাছ বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মৎস্য সংরক্ষণ ও সুরক্ষা আইনে তিনটি মামলা দায়েরের পর আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে অভিযানে আটক ব্যক্তিরা কোন পরিস্থিতিতে মাছ ধরছিলেন এবং জব্দ করা জাল দিয়ে কতক্ষণ ধরে মাছ ধরা হচ্ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।

মা ইলিশ রক্ষার বিষয়টি বাংলাদেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ইলিশের জীবনচক্রে প্রজননকাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে মা ইলিশ ডিম ছাড়ার জন্য নদীতে আসে। প্রজননের সুযোগ বাধাগ্রস্ত হলে ভবিষ্যতে ইলিশের পোনা উৎপাদন ও মাছের স্বাভাবিক বংশবিস্তার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই প্রজনন মৌসুমে নির্ধারিত এলাকায় মাছ ধরা বন্ধ রাখা এবং নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার প্রতিরোধ করা মৎস্যসম্পদ রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়।

পদ্মা নদীর দৌলতদিয়া অঞ্চল নদীকেন্দ্রিক জীবিকা ও মৎস্য আহরণের জন্য পরিচিত। এ এলাকার অনেক মানুষ মাছ ধরা, মাছ পরিবহন, বিক্রি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশার ওপর নির্ভরশীল। ফলে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার সময় একদিকে যেমন মা ইলিশের প্রজনন রক্ষা করা প্রয়োজন, অন্যদিকে নদীর ওপর নির্ভরশীল জেলেদের জীবন-জীবিকার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার পাশাপাশি প্রকৃত জেলেদের জন্য সহায়তা ও বিকল্প আয়ের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে আইন মানার পরিবেশ আরও শক্তিশালী হতে পারে।

নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ব্যবহারের বিষয়টিও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে উদ্বেগের কারণ। এ ধরনের জালে ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের মাছ আটকে পড়তে পারে। ফলে শুধু ইলিশ নয়, নদীর অন্যান্য মাছের পোনা ও জলজ প্রাণীর ওপরও ক্ষতিকর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। নদীতে মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তার সুরক্ষিত রাখতে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ করা এবং অবৈধ মাছ ধরার সরঞ্জাম জব্দ করার মতো পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ। তবে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং বৈধভাবে মাছ ধরার নিয়ম সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেওয়াও প্রয়োজন।

মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের অভিযান সফল করতে নদীপথে নিয়মিত নজরদারি, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা এবং আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে রাতের বেলায় নদীতে অবৈধ মাছ ধরার কার্যক্রম শনাক্ত করতে নৌপুলিশ ও সংশ্লিষ্ট মৎস্য বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে জব্দ করা জাল ও মাছের পরিমাণ, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ এবং মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশ করা হলে অভিযান সম্পর্কে জনসাধারণের আস্থা বাড়তে পারে।

এ অভিযানে জব্দ করা ১০ কেজি ইলিশ এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নৌপুলিশ। এতে জব্দ করা মাছ ব্যবহারযোগ্যভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে মা ইলিশ রক্ষার অভিযানের মূল উদ্দেশ্য কেবল অবৈধ মাছ ধরা বন্ধ করা নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদে ইলিশের প্রজনন, নদীর জীববৈচিত্র্য এবং দেশের মৎস্যসম্পদের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা।

আটক সাত জেলের বিরুদ্ধে দায়ের করা তিনটি মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া এখন আদালতের মাধ্যমে এগোবে। তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের নিষ্পত্তি আইনানুগ প্রক্রিয়ায় হবে। একই সঙ্গে নদীতে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার বন্ধ এবং প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরার বিধিনিষেধ কার্যকর রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

পদ্মা নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় এ অভিযান মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে চলমান আইন প্রয়োগের একটি অংশ। তবে দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ফল পেতে নিয়মিত অভিযান, জেলেদের সচেতনতা, আইন মেনে মাছ ধরার পরিবেশ এবং জীবিকা-সহায়তার মধ্যে সমন্বয় জরুরি। ইলিশের প্রজনন সুরক্ষিত থাকলে ভবিষ্যতে নদীতে মাছের প্রাপ্যতা বজায় রাখা এবং মৎস্যনির্ভর জনগোষ্ঠীর জীবিকা টিকিয়ে রাখার সম্ভাবনাও বাড়বে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com