ফটিকছড়ির দ্বীনি মহাসম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৬ বার
ফটিকছড়ির দ্বীনি মহাসম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী বার্ষিক দ্বীনি মহাসম্মেলনে যোগ দিতে শুক্রবার চট্টগ্রাম সফরে যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির ও দেশের প্রবীণ আলেম আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর দোয়া গ্রহণ এবং তাঁর সভাপতিত্বে আয়োজিত ধর্মীয় সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে মন্ত্রীর। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদরাসা প্রাঙ্গণে আয়োজক, শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে বিমানযোগে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে তিনি ফটিকছড়ির ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলূম বাবুনগর মাদরাসায় যাবেন। সেখানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ, তাঁর দোয়া গ্রহণ এবং বার্ষিক মহাসম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।

আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাদরাসাটির ১০৪তম দুই দিনব্যাপী বার্ষিক দ্বীনি মহাসম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলনটি ঘিরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আলেম-ওলামা, ইসলামী চিন্তাবিদ, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং সাধারণ মানুষের সমাগম ঘটেছে। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ধরে রেখে আয়োজিত এই সম্মেলনে ধর্মীয় আলোচনা, ইসলামী শিক্ষা ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা একজন মন্ত্রীর ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক এই সফর স্থানীয় পর্যায়েও বিশেষ আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ফটিকছড়ি ও আশপাশের এলাকার মানুষের কাছে বাবুনগর মাদরাসা একটি পরিচিত ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্র। প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক সম্মেলনকে ঘিরে প্রতিবছরই বিভিন্ন এলাকা থেকে ধর্মপ্রাণ মানুষ সেখানে উপস্থিত হন। এবার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ একাধিক মন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধির অংশগ্রহণের কথা থাকায় সম্মেলনটি বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনেরও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানিয়েছেন, দুই মন্ত্রীই শুক্রবার বাবুনগর মাদরাসার মহাসম্মেলনে অংশ নেবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরে মাদরাসার সম্মেলনে যোগ দেওয়া ছাড়া অন্য কোনো কর্মসূচি নির্ধারিত নেই। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি মাদরাসায় গিয়ে তিনি জুমার নামাজ আদায় করবেন এবং পরে সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্ত্রীদের সফরের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মাদরাসা কর্তৃপক্ষও অতিথিদের অভ্যর্থনা এবং সম্মেলনের সার্বিক ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন করেছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে এবারের সম্মেলন আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবে সফরকে ঘিরে নিরাপত্তা ও যাতায়াত ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর আগমন এবং একই সময়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগমের সম্ভাবনা থাকায় সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখা আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জন্য বিশেষ দায়িত্বের বিষয়।

মহাসম্মেলনে আরও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনের সংসদ সদস্য মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দীন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর এবং চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর। এ ছাড়া হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত আলেম-ওলামাদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর সম্মেলনের দুই দিনই উপস্থিত থাকছেন বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের কারণে সম্মেলনটি ফটিকছড়ির ধর্মীয় ও সামাজিক পরিসরেও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষের একই আয়োজনে উপস্থিতি স্থানীয় পর্যায়ে মতবিনিময় ও যোগাযোগের একটি ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। তবে সম্মেলনের মূল আয়োজন ধর্মীয় আলোচনা ও দ্বীনি শিক্ষাকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বাদ ফজর মাদরাসা প্রাঙ্গণে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির এবং জামিয়া বাবুনগরের প্রধান পরিচালক আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ওলামা-মাশায়েখ, ইসলামী চিন্তাবিদ এবং ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা অংশ নিয়েছেন। দুই দিনের এই আয়োজনের বিভিন্ন অধিবেশনে ধর্মীয় আলোচনা ও বয়ানের মধ্য দিয়ে ইসলামী শিক্ষা, বিশ্বাস, নৈতিকতা এবং ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে ধর্মীয় মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরার কথা রয়েছে।

সম্মেলনে বয়ান দেওয়ার জন্য দেশের বিভিন্ন এলাকার পরিচিত আলেমদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মুফতি রশিদুর রহমান ফারুক বর্ণভী, মাওলানা মুফতি মুস্তাকুন্নবী কাসেমী, মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী, মুফতি মাহমুদুল হাসান ভূজপুরী, মুফতি হাবিবুল্লাহ মাহমুদ কাসেমী, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মুফতি সাখাওয়াত হোসেন রাজি, মুফতি রেজাউল করিম আবরার, মাওলানা গাজী ইয়াকুব ওসমানী এবং মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মারুফসহ আরও অনেকে। তাঁদের আলোচনায় ধর্মীয় জ্ঞানচর্চা, ইসলামী আদর্শ, নৈতিক জীবনযাপন এবং সমাজে ধর্মীয় শিক্ষার ভূমিকার মতো বিষয় গুরুত্ব পাবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলূম বাবুনগর মাদরাসার ১০৪তম বার্ষিক দ্বীনি মহাসম্মেলন হওয়ায় এবারের আয়োজন প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও শিক্ষাগত ঐতিহ্যের সঙ্গেও যুক্ত। শতাধিক বছরের ধারাবাহিকতায় পরিচালিত এই ধরনের আয়োজন কেবল একটি ধর্মীয় সমাবেশ নয়; বরং বিভিন্ন এলাকার আলেম, শিক্ষার্থী, ধর্মীয় অনুসারী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ হিসেবেও বিবেচিত হয়। প্রতিবছর এ ধরনের সম্মেলনে অংশ নিতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসেন। ফলে স্থানীয় জনজীবনেও সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়।

বাবুনগর মাদরাসার সঙ্গে আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির হওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সম্মেলনে বিভিন্ন অঞ্চলের ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি প্রতিষ্ঠানটির সাংগঠনিক ও ধর্মীয় গুরুত্বকে সামনে নিয়ে এসেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং দোয়া গ্রহণের কর্মসূচিও এ সফরের অন্যতম আলোচিত বিষয়।

মাদরাসার প্রধান পরিচালকের নাতি মাওলানা রহমত উল্লাহ বাবুনগরী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আগমনের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, মন্ত্রীর সফর উপলক্ষে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। আয়োজকদের কাছে অতিথিদের যথাযথ অভ্যর্থনা জানানোর পাশাপাশি সম্মেলনে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মানুষের যাতায়াত, অবস্থান এবং সম্মেলনস্থলে শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়টি আয়োজনের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত।

অন্যদিকে, ধর্মীয় সমাবেশে সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধির অংশগ্রহণের বিষয়টি প্রশাসন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে যোগাযোগের একটি উপলক্ষ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বের পরিধি মূলত দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। এমন দায়িত্বে থাকা একজন মন্ত্রীর স্থানীয় পর্যায়ের ধর্মীয় আয়োজনে অংশগ্রহণের কারণে তাঁর সফর নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে এ সফরের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য মহাসম্মেলনে যোগ দেওয়া, আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং বক্তব্য প্রদান।

দুই দিনের এই আয়োজনের শেষ দিনে ধর্মীয় আলোচনা ও বিভিন্ন অধিবেশন শেষে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সম্মেলন সমাপ্ত হওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকরা আশা করছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা আলেম-ওলামা, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে সম্মেলনটি সফলভাবে সম্পন্ন হবে। একই সঙ্গে মন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি আয়োজনটিতে বাড়তি গুরুত্ব যোগ করবে।

সব মিলিয়ে শুক্রবারের এই সফরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনের অংশগ্রহণে বাবুনগর মাদরাসার ১০৪তম বার্ষিক দ্বীনি মহাসম্মেলনের দ্বিতীয় দিনটি বিশেষ তাৎপর্য পেতে যাচ্ছে। এখন আয়োজকদের মূল লক্ষ্য অতিথিদের অংশগ্রহণ, ধর্মীয় অধিবেশন এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতির মধ্য দিয়ে পুরো আয়োজন সুশৃঙ্খল ও সফলভাবে সম্পন্ন করা।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com