জ্বালানি ও বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৫ বার
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও মজবুত : মাহদী আমিন
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও মজবুত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তাঁর মতে, দুই দেশের সম্পর্ক এখন আর কেবল মানুষে-মানুষে যোগাযোগ, শিক্ষা কিংবা সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি এবং উন্নয়ন অংশীদারত্বের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত জ্বালানি নিরাপত্তাবিষয়ক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মাহদী আমিন। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস এবং আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) যৌথভাবে ‘পাওয়ারিং বাংলাদেশ’স নেক্সট গ্রোথ চ্যাপ্টার: আ পাথওয়ে টু এনার্জি সিকিউরিটি অ্যান্ড স্ট্যাবিলিটি’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেমিনারে জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ, বিনিয়োগের সুযোগ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক সম্পর্কের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষা, পর্যটন এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে। এই সম্পর্কের পেছনে প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাঁর ভাষায়, প্রবাসী বাংলাদেশিরা দুই দেশের মধ্যে একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা, কর্মদক্ষতা, শিক্ষা ও সামাজিক যোগাযোগ বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বহুমাত্রিক জীবনধারার সংযোগ তৈরি করেছে।

দুই দেশের মানুষের মধ্যে এই যোগাযোগকে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে দেখছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। কারণ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কেবল রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বৈঠক কিংবা কূটনৈতিক আলোচনার মধ্য দিয়ে বিকশিত হয় না; শিক্ষা, গবেষণা, ব্যবসা, কর্মসংস্থান এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে দীর্ঘস্থায়ী ও কার্যকর করে তোলে। বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী, পেশাজীবী ও প্রবাসী নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারেন।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রসঙ্গে মাহদী আমিন জানান, বর্তমানে ৫০টিরও বেশি মার্কিন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে সরাসরি বিনিয়োগ করেছে। তাঁর মতে, এই বিনিয়োগ দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তবে সম্ভাবনা শুধু তৈরি পোশাকশিল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে বহুমুখী করতে চামড়া, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং কৃষিপণ্যের মতো সম্ভাবনাময় খাতেও নতুন উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, নীতিগত ধারাবাহিকতা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বজায় রেখে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার এসব খাতে রপ্তানি সম্প্রসারণে কাজ করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের বাজারে চাহিদা বাড়ছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাকশিল্প দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। তবে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা, পণ্যের চাহিদার পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নতুন বাস্তবতায় রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। চামড়া, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে বিনিয়োগ বাড়লে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। এসব খাতে মার্কিন প্রযুক্তি, পুঁজি ও বাজারসংযোগ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জ্বালানি খাতকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, শেভরন ও এক্সিলারেট এনার্জির মতো মার্কিন কোম্পানির সঙ্গে বাংলাদেশের সফল অংশীদারত্ব রয়েছে। বিশেষ করে প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান, উত্তোলন এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের অবকাঠামো উন্নয়নে এসব প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা রয়েছে। ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি জানান, বর্তমান সরকার দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও ব্যাপক পরিসরে গ্যাস ও কয়লা অনুসন্ধানের পরিকল্পনা করছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং বিদেশি বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে মার্কিন জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও বিনিয়োগ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই জ্বালানির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পায়, শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কমে এবং নতুন বিনিয়োগের সিদ্ধান্তও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ফলে জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ এবং দেশীয় সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের নিজস্ব গ্যাস ও কয়লা সম্পদের সম্ভাবনা যাচাই, অনুসন্ধান কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এসব উদ্যোগের ক্ষেত্রে পরিবেশগত প্রভাব, অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা, জ্বালানি ব্যয়ের সক্ষমতা এবং জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের পাশাপাশি দেশের সম্পদের যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

সেমিনারে মাহদী আমিন সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নেও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের পরিকল্পনায় ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ডের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি বলেন, এসব সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাস্টারকার্ড ও ভিসার মতো আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা ব্যবহার করা গেলে সুবিধাভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করা সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে লেনদেনের নিরাপত্তা এবং উপকারভোগীদের তথ্য সংরক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।

ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ডের মতো উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তা এবং কৃষি খাতে সহায়তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা। বিশেষ করে নিম্নআয়ের পরিবার, কৃষক এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারি সহায়তা সহজলভ্য হলে তাদের দৈনন্দিন অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা কমতে পারে। তবে এসব কর্মসূচির সফলতা নির্ভর করবে সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন, কার্যকর বাস্তবায়ন, নিয়মিত তদারকি এবং স্বচ্ছ অর্থ বিতরণ ব্যবস্থার ওপর।

শিক্ষা খাতেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি জানান, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ এবং বৃত্তির সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। এর ফলে দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের আরও সুযোগ পেতে পারেন।

বর্তমান বিশ্বে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, চিকিৎসা, ব্যবসা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক দক্ষতা অর্জন তরুণ প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারিত হলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা আধুনিক গবেষণা ও পেশাগত অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন। পরবর্তী সময়ে তাঁদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা দেশের উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে। এ ক্ষেত্রে বৃত্তি, গবেষণা সহযোগিতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন মাহদী আমিন। তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের আন্তরিক ও গভীর সম্পর্কের বিষয়টি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক যোগাযোগ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

মাহদী আমিন বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত নতুন সরকার আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করবে। পারস্পরিক আস্থা, সম্মান এবং অভিন্ন অর্থনৈতিক স্বার্থের ভিত্তিতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শু শিয়াং। তিনি জ্বালানি নিরাপত্তা ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে জ্বালানি খাতের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন। শেভরনের মতো আন্তর্জাতিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে।

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম. মাশরুর রিয়াজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিভিন্ন খাতের অভিজ্ঞ ব্যক্তি ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। প্যানেল আলোচনায় ছিলেন জিই ভার্নোভার এশিয়া অঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার সারতাজ ভূঁইয়া, এক্সিলারেট এনার্জির কান্ট্রি ম্যানেজার মো. হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, বিএসআরএম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমীর আলি হোসেন এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রকৌশল অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন।

বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে সেমিনারটি শুধু জ্বালানি নিরাপত্তার আলোচনায় সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়গুলোও সামনে আসে। জ্বালানি খাতের সঙ্গে শিল্প ও ব্যবসার সরাসরি সম্পর্ক থাকায় এসব বিষয়ে সরকারি নীতিনির্ধারক, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।

সেমিনার শেষে মাহদী আমিন রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত ‘৩০তম ইউএস ট্রেড শো ২০২৬’-এর বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। তিন দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্য, সেবা ও প্রযুক্তি তুলে ধরা হচ্ছে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগাযোগ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে এই আয়োজনকে দেখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে মাহদী আমিনের বক্তব্যে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সহযোগিতার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে। জ্বালানি নিরাপত্তা, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, সামাজিক সুরক্ষা, উচ্চশিক্ষা এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন—এসব ক্ষেত্রকে সামনে রেখে দুই দেশের অংশীদারত্ব আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা জানিয়েছে সরকার। তবে এই প্রত্যাশাকে বাস্তব সাফল্যে রূপ দিতে হলে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, নীতিগত স্থিতিশীলতা, জ্বালানি খাতের কার্যকর পরিকল্পনা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতির পরবর্তী প্রবৃদ্ধির অধ্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই অংশীদারত্ব কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখে, তা নির্ভর করবে ঘোষিত পরিকল্পনাগুলোর বাস্তবায়নের ওপর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com