অবশেষে রাজাপুরের ইউএনও রাহুল চন্দকে স্ট্যান্ড রিলিজ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট, ২০২৫
  • ৩৮ বার

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ‘ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহুল চন্দকে অবশেষে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদের সামনে এক মানববন্ধনে তার গ্রেপ্তার এবং চাকরি থেকে অপসারণের দাবির পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এই নির্দেশ আসে। স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে আলোচিত এ ঘটনাকে ঘিরে রাজাপুর ও আশপাশের জনমনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, রাহুল চন্দ গত বছরের জুলাই মাসে ঢাকার সাভারে সংঘটিত গুলিবর্ষণ ও গণহত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার ৫ নম্বর আসামি হলেও এখনও পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তারা বলেন, সাভারের সেই ঘটনায় সাভার ডেইরি ফার্ম স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র আলিফ আহমেদ সিয়াম প্রাণ হারায়। তার হত্যার দায়ে দায়ের করা মামলায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি তৎকালীন সাভারের ইউএনও রাহুল চন্দের নামও আসামির তালিকায় উল্লেখ করা হয়। কিন্তু একজন এজাহারভুক্ত আসামিকে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রাখা জুলাই বিপ্লবের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জুলাই যোদ্ধা মোহাম্মদ মুসা ও মোস্তাফিজ, উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি জাকারিয়া সুমন, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা বাইজিদ, জামায়াত নেতা আব্দুল আলিম এবং ইসলামি ছাত্রশিবির সভাপতি সোলায়মানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তারা একযোগে রাহুল চন্দকে চাকরি থেকে অপসারণ, অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং বিচারের দাবি করেন।

এদিকে, ঝালকাঠি জেলা বিএনপি ও জেলা জামায়াতে ইসলামি পৃথকভাবে এক বিবৃতিতে রাহুল চন্দের অপসারণ ও বিচারের দাবি জানিয়েছে। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন বলেন, “জুলাই বিপ্লবের সময় হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্বদানকারী একজন ব্যক্তি কীভাবে প্রশাসনে বহাল থাকেন, তা আমাদের বোধগম্য নয়। এজাহারভুক্ত আসামি হয়েও তার গ্রেপ্তার হয়নি, বরং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন—এ থেকে বোঝা যায়, প্রশাসনের ভেতরে এখনও ফ্যাসিবাদী শক্তি সক্রিয়।”

ঝালকাঠি জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান মন্তব্য করেন, “রাহুল চন্দের মতো ক্যাডারচরিত্রের ব্যক্তিরা প্রশাসনে বহাল থাকাটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সাভারের ছাত্র আলিফ আহমেদ সিয়াম হত্যাকাণ্ডে তার নাম আসামি হিসেবে থাকায় অবিলম্বে তাকে গ্রেপ্তার এবং অপসারণ করা উচিত।” তিনি এ বিষয়ে জনগণের দাবিকে সামনে আনার জন্য গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানান।

আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা গোলাম আজম সৈকত বলেন, “রাহুল চন্দকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত এবং রাজাপুর থেকে অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।” বিএনপির ঝালকাঠি-১ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা আরও কঠোর অবস্থান নিয়ে বলেন, “শুধু স্ট্যান্ড রিলিজ যথেষ্ট নয়, আমরা গণহত্যার দায়ে তার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, রাহুল চন্দকে রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদ থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। চিঠিটি স্বাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব বারিউল করিম খান।

পটভূমি হিসেবে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার সাভারে ঢাকামুখী লং মার্চে পুলিশ গুলিবর্ষণ করলে ছাত্র আলিফ আহমেদ সিয়াম নিহত হন। এ ঘটনার পর সিয়ামের বাবা বুলবুল কবির সাভার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন, যেখানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১ নম্বর আসামি এবং ইউএনও রাহুল চন্দ ৫ নম্বর আসামি হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। এই মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া এখনও চলমান।

রাজাপুরসহ ঝালকাঠির রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনা ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। স্থানীয় মানুষ এটিকে আন্দোলনের একটি প্রাথমিক বিজয় হিসেবে দেখলেও তারা একবাক্যে বলছেন, শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, ন্যায়বিচারের জন্য সঠিক আইনি পদক্ষেপ এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই হবে তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত