প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে দীর্ঘ চার মাস পর আবারও ভারত থেকে চাল আমদানি শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ভারতীয় পেট্রাপোল বন্দর থেকে ৩১৫ মেট্রিক টন চাল বোঝাই ৯টি ট্রাক বেনাপোল বন্দরের ৩১ নম্বর ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে প্রবেশ করে। এই প্রথম চাল আসার ঘটনায় বন্দর ও আমদানিকারক মহল উল্লসিত।
বেনাপোল বন্দরের ডেপুটি ডিরেক্টর মামুন কবীর তরফদার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল সর্বশেষ এ বন্দর দিয়ে চাল আমদানি হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার সম্প্রতি বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে। তবে শুল্ক কমানো না হওয়ায় আপাতত খুব বেশি পরিমাণ চাল আমদানির সম্ভাবনা নেই।
আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হাজী মুসা করিম অ্যান্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুস সামাদ বলেন, “আমরা বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় ভারত থেকে ৯টি ট্রাকে ৩১৫ মেট্রিক টন মোটা চাল আমদানি করেছি। ইতোমধ্যে বেনাপোল কাস্টমস হাউসে বিল অব এন্ট্রি জমা দেওয়া হয়েছে। আরও চাল বোঝাই ট্রাক পেট্রাপোল বন্দর থেকে আসার অপেক্ষায় রয়েছে।” তিনি আরও জানান, চলতি বছরের ২৩ জুলাই থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আহ্বানে বেসরকারি আমদানিকারকরা আবেদন করেছিলেন। বেনাপোল বন্দরসহ সারাদেশের বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী ইতোমধ্যে আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) পেয়েছেন। অনুমতি পাওয়ার পর অনেকে এলসি খুলেছেন। ফলে আগামী রবিবার থেকে চাল আমদানির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
চাল আমদানি শুরু হলে বাজারে প্রতি কেজিতে ৫ থেকে ৭ টাকা দাম কমতে পারে বলে জানান আব্দুস সামাদ। বর্তমানে ভালো মানের চিকন চালের দাম ৬৭ থেকে ৭০ টাকা এবং মোটা স্বর্ণা জাতের চালের দাম ৫০ থেকে ৫২ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
বেনাপোল আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি আলহাজ মহসিন মিলন জানান, চার মাস বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার থেকে চাল আমদানি শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে ৩১৫ মেট্রিক টন চাল এসেছে এবং সামনে আরও অনেক চাল বোঝাই ট্রাক বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় আছে।
সরকারি ও বেসরকারি সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, ভারত থেকে চাল আমদানির ফলে দেশের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং সাধারণ ভোক্তারা কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবেন। এছাড়া, আমদানির ধারাবাহিকতায় বাজারে চালের চাহিদা মেটাতে এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।