প্রকাশ: ২৩ অগাস্ট ‘২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতি নিয়ে সাম্প্রতিক ইঙ্গিতে কেঁপে উঠেছে বৈশ্বিক মুদ্রাবাজার। ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল শুক্রবার এক বক্তব্যে সেপ্টেম্বরে সুদহার কমতে পারে বলে আভাস দিলেও নির্দিষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি। তবে তার ওই মন্তব্যের পরই বৈশ্বিক বাজারে ডলারের দরপতন ঘটে, অন্যদিকে ইউরো, ইয়েনসহ অন্যান্য মুদ্রার মান বৃদ্ধি পায়।
সপ্তাহের শেষ দিনে বিশ্বের প্রধান ছয় মুদ্রার বিপরীতে ডলারের অবস্থান নির্দেশক ডলার ইনডেক্স ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৯৭ দশমিক ৫৮–এ। যা পাওয়েলের বক্তব্যের আগে ছিল ৯৮ দশমিক ৭০। এর প্রভাবে ইউরোর মান বেড়ে দাঁড়ায় ১ দশমিক ১৭৩৯ ডলার এবং জাপানি ইয়েনের বিপরীতে ডলারের মান নেমে আসে ১৪৬ দশমিক ৬২–এ। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ফেডের অবস্থান বিনিয়োগকারীদের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করলেও সুদের হার কমার সম্ভাবনা স্পষ্টতই বেড়ে গেছে।
পাওয়েল শ্রমবাজারের অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, কর্মী চাহিদা ও সরবরাহ—দুটোই কমে যাওয়ায় ঝুঁকি বাড়ছে। তার মতে, এই ঝুঁকি বাস্তবে পরিণত হলে তা দ্রুত সামনে এসে দাঁড়াতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইওমিং রাজ্যে অনুষ্ঠিত ফেডের বার্ষিক সম্মেলনে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের সামনে এ কথা বলেন তিনি।
টরন্টোভিত্তিক করপের প্রধান বাজার কৌশলবিদ কার্ল শামোটা বিশ্লেষণ করে বলেন, পাওয়েলের বার্তা বাজারের প্রত্যাশার সঙ্গে পুরোপুরি মিলেনি। তবুও বাজার এখন শিথিল নীতির দিকে প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ডলারের পতনই তার স্পষ্ট প্রমাণ।
অন্যদিকে, সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুলে দেখা যাচ্ছে, সেপ্টেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকে সুদ কমার সম্ভাবনা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১ শতাংশে, যেখানে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত তা ছিল মাত্র ৭২ শতাংশ। শুধু তাই নয়, বছরের শেষ নাগাদ মোট ৫৬ ভিত্তি পয়েন্ট সুদ কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে, যা আগে ধরা হয়েছিল ৪৮ ভিত্তি পয়েন্ট।
জুলাই মাসে প্রত্যাশার তুলনায় কম কর্মসংস্থান এবং শুল্কজনিত মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে থাকার কারণে ব্যবসায়ীরা ধারণা করছেন, সুদের হার কমানোর জন্য এটাই উপযুক্ত সময়। তবে আগস্টে উৎপাদক মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার তুলনায় বেশি হওয়া এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নতুন গতি আসায় কিছুটা সংশয়ও দেখা দিয়েছে। তবুও শ্রমবাজারের দুর্বলতাই এখন ফেডের নীতিনির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কর্মসংস্থানকে টিকিয়ে রাখা ফেডের অন্যতম দায়িত্ব। ফলে আসন্ন সেপ্টেম্বরে সুদহার হ্রাসের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতি তার প্রভাব অনুভব করবে। বিশেষ করে উদীয়মান অর্থনীতিগুলো, যারা ডলারের ওঠানামায় সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়, তারা এক অনিশ্চিত কিন্তু সম্ভাবনাময় সময়ের দিকে এগোচ্ছে।