সর্বশেষ :

ভিয়েতনামে টাইফুন কাজিকির তাণ্ডবের শঙ্কা, সরে যাওয়ার নির্দেশ প্রায় ৬ লাখ মানুষকে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৫
  • ১০৬ বার

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ‘২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ভিয়েতনামের উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন কাজিকি, যার আঘাতে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যেই দেশটির কর্তৃপক্ষ পাঁচ লাখ ছিয়াশি হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, স্থলভাগে পৌঁছানোর আগে ঝড়টি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে এবং এর প্রভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও এএফপি জানিয়েছে, ভিয়েতনামের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও ঝড়ের প্রভাব পড়তে পারে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, টাইফুন কাজিকির প্রভাবে ইতোমধ্যেই ঘণ্টায় প্রায় ১৬৬ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইছে। স্থানীয় সময় সোমবার ভোরে ঝড়টি স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সে কারণে থান হোয়া, কোয়াং ট্রাই, হিউ এবং দা নাং প্রদেশের জনগণকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বলা হয়েছে। এ অবস্থায় স্থানীয় প্রশাসন জরুরি অবস্থা জারি করেছে, অনেকগুলো ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং সব নৌযানকে উপকূলে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

টাইফুন কাজিকি ইতোমধ্যেই চীনের হাইনান অতিক্রম করেছে। চীনের আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ঝড়ের প্রভাবে সেখানে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হচ্ছে এবং ৩২০ মিলিলিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। ভিয়েতনামের উপকূলে ঝড় প্রবেশ করলে ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার গতিতে বাতাস বইতে পারে এবং তিনশ থেকে তিনশো পঞ্চাশ মিলিলিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ভূমিধস ও নিচু এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভিয়েতনামের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। কৃষি ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি এবং এই মুহূর্তে পর্যটন, মাছ ধরা কিংবা সমুদ্রপথে কোনো ধরনের যাতায়াত নিরাপদ নয়। জনগণকে ঘরে অবস্থান না করে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স রোববার ও সোমবার কমপক্ষে ২২টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করেছে। এর ফলে হাজারো যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। দেশটির বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের ভিড় দেখা দিয়েছে, অনেকেই বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা খুঁজছেন।

কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, এই ঝড়টি গত বছরের সেপ্টেম্বরে আঘাত হানা টাইফুন ইয়াগির মতোই ভয়াবহ হতে পারে। ইয়াগি তখন শত শত মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল এবং বহু অবকাঠামো ধ্বংস করেছিল। এ কারণে জনগণকে আগেভাগে সরিয়ে নেওয়া ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, টাইফুন কাজিকি ভিয়েতনামে প্রবেশের পর ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়লেও প্রাথমিক ধাক্কা ভয়াবহ হবে। আগামী কয়েকদিন দেশজুড়ে ভারী বৃষ্টিপাত, বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি থাকায় জরুরি সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যেই উপকূলবর্তী ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে শত শত মাছ ধরার নৌকা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com