২৬ আগস্ট ২০২৫| নিজস্ব সংবাদদাতা| একটি বাংলাদেশ অনলাইন
দেশে পরিবেশবান্ধব কারখানার সংখ্যা নতুন করে দুইটি কারখানা সংযোজনের মাধ্যমে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬৩-এ। সম্প্রতি ঢাকার টঙ্গী শিল্প এলাকার এ জি ড্রেসেস লিমিটেড ও গাজীপুরের বোর্ডবাজারের ফিন বাংলা অ্যাপারেলস লিমিটেড নতুন পরিবেশবান্ধব সনদ অর্জন করেছে। উভয় কারখানাই ‘লিড প্লাটিনাম’ শ্রেণিতে স্বীকৃত, যেখানে এ জি ড্রেসেসের প্রাপ্ত নম্বর ১০৬ এবং ফিন বাংলা অ্যাপারেলসের ১০৪।
এই সনদযুক্ত পরিবেশবান্ধব স্বীকৃতি প্রদান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (USGBC), যার লিড (LEED) সনদ বিশ্বব্যাপী স্থাপনা ও উৎপাদন পর্যায়ে পরিবেশগত মান বজায় রাখার স্বীকৃতি হিসেবে পরিচিত। লিড সনদ অর্জনের জন্য প্রতিটি প্রকল্পকে নির্মাণ থেকে উৎপাদন পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণ করতে হয়। ১১০ নম্বরের মধ্যে ৮০-এর বেশি পেলে ‘লিড প্লাটিনাম’, ৬০–৭৯ পেলে ‘লিড গোল্ড’, ৫০–৫৯ পেলে ‘লিড সিলভার’ এবং ৪০–৪৯ পেলে ‘লিড সার্টিফায়েড’ শ্রেণির স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।
এর আগে হবিগঞ্জের ফয়সাল স্পিনিং মিলস ইউনিট-১, ২ ও ৩ লিড সিলভার সনদ অর্জন করে। এই তিনটি কারখানার প্রত্যেকটি ৫৮ নম্বর পেয়ে বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব শিল্প স্থাপনার তালিকায় সংযোজিত হয়েছে।
বিশ্বের শীর্ষ ১০ পরিবেশবান্ধব কারখানার মধ্যে বাংলাদেশের ১১টি প্রতিষ্ঠান স্থান করে নিয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ মানের স্বীকৃতি অর্জন করেছে গাজীপুরের তানিশা ফেব্রিকসের অ্যাডমিন বিল্ডিং, যা ১১০ নম্বরের মধ্যে ১০৭ নম্বর পেয়ে শীর্ষে উঠেছে। এছাড়া দেশের অন্যান্য শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো হলো গাজীপুরের এসএম সৌর্সিং, তানিশা ফেব্রিকসের আরএমজি বিল্ডিং, ময়মনসিংহের গ্রিন টেক্সটাইল, গাজীপুরের ইস্প্রিট অ্যাপারেলস, নিট এশিয়া, ইন্ট্রিগ্রা ড্রেসেস, নারায়ণগঞ্জের রেমি হোল্ডিংস ও ফতুল্লা অ্যাপারেলস, গাজীপুরের লিডা টেক্সটাইল অ্যান্ড ডাইং এবং লিজ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিজ।
বর্তমানে বাংলাদেশের ২৬৩টি পরিবেশবান্ধব কারখানার মধ্যে ১১১টি কারখানা প্লাটিনাম ও ১৩৩টি কারখানা গোল্ড সনদপ্রাপ্ত। বাকি ১৯টির মধ্যে ১৫টি সিলভার এবং ৪টি সার্টিফায়েড সনদপ্রাপ্ত। এটি প্রমাণ করছে যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প ক্রমশ আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশগত মান বজায় রাখার দিকে এগোচ্ছে এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো পরিবেশ সুরক্ষা ও স্থায়িত্বে সচেতনতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।
সংস্থাগুলো লিড সনদের মাধ্যমে তাদের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় পরিবেশবান্ধব পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, যা কার্বন নির্গমন কমানো, পানি ও শক্তি সংরক্ষণ, এবং কর্মীদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়ক হচ্ছে। এ ধরণের উদ্যোগ কেবল বাংলাদেশের শিল্প খাতকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলছে না, বরং বৈশ্বিক বাজারে দেশের পোশাক খাতের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানও শক্তিশালী করছে।