প্রকাশ ২৬ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা
একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বগুড়ার সারিয়াকান্দি এলাকায় শুক্রবার ভোরে একটি দুঃখজনক সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলেসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিরা হলেন সুলতানপুর এলাকার অটোরিকশাচালক শুকুর আলী (৪০), গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কুটিবাড়ি এলাকার বিপুল মিয়া (৩৮) এবং তাঁর পাঁচ বছরের ছেলে বিপ্লব মিয়া। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন বিপুল মিয়ার স্ত্রী মমতা বেগম (৩২) এবং মেয়ে রূপামনি (৯)। সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিপুল মিয়া তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্য থেকে ফেরার পথে বগুড়ায় পৌঁছান। এরপর তারা অটোরিকশা নিয়ে সারিয়াকান্দি শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। বগুড়া শহর থেকে অটোরিকশা যাত্রা শুরু করার পর তারা ফুলবাড়ি কাঁঠালতলা এলাকায় পৌঁছালে দুর্ঘটনা ঘটে। এখানে একটি বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের পর স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা বিপুল মিয়া, তাঁর ছেলে বিপ্লব মিয়া এবং অটোরিকশার চালক শুকুর আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত মমতা বেগম ও রূপামনিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ওসি জামিরুল ইসলাম জানান, নিহত ব্যক্তিদের লাশ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ নির্ধারণের জন্য একটি তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় ট্রাকটি উচ্চ গতিতে চলছিল। স্থানীয় সুত্রের মতে, ওই সড়কটি সরু ও অনেক জায়গায় বালু-পাথর মিশ্রিত হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। সম্প্রতি এখানে কয়েকটি অনুরূপ দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা প্রশাসনের প্রতি আরও সতর্কতা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
অঞ্চলের ব্যবসায়ী ও পথচারীরা বলছেন, সারিয়াকান্দি-বগুড়া সড়কে যানবাহনের চলাচল বৃদ্ধি পাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। বিশেষ করে বালুবাহী ট্রাক, বড় বাস ও সিএনজি বা অটোরিকশার সঙ্গে অন্য ছোট যানবাহনের সংঘর্ষের সম্ভাবনা বেশি। তারা আশা করছেন, স্থানীয় প্রশাসন এবং ট্রাফিক পুলিশ দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।
পরিবারের সদস্যদের প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি, তবে প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, নিহত বিপুল মিয়া ও তার পরিবার স্থানীয়ভাবে অত্যন্ত পরিচিত এবং সাদাসিধে জীবনযাপন করতেন। দুর্ঘটনার সংবাদে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষ করে শিশু বিপ্লব মিয়া ও রূপামনির কিশোর বয়সে অকাল মৃত্যু স্থানীয়দের জন্য দুঃখজনক বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সড়কটি চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং অনেক স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এই পথে চলাচল করে। সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগ প্রয়োজন।
এ ধরনের দুর্ঘটনার কারণে পরিবারগুলোর মানসিক ও আর্থিক ক্ষতি ব্যাপক। নিহতদের পরিবার এখন শোকে আক্রান্ত এবং স্থানীয় কমিউনিটি তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে প্রাথমিক সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এই দুর্ঘটনা বাংলাদেশের সড়ক নিরাপত্তা ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের উপর নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ দ্রুতগতিতে চলাচল করা, অপর্যাপ্ত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্ঘটনার জন্য অনুপযুক্ত সড়ক অবকাঠামো। সারিয়াকান্দি-বগুড়া সড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
স্থানীয় প্রশাসনও দুর্ঘটনার কারণে জনসাধারণকে সতর্ক করেছে। পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে যানবাহনের গতিবেগ নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত সিগন্যাল এবং নিয়মিত পুলিশ пат্রোলের ব্যবস্থা নিতে হবে। দুর্ঘটনা তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংক্ষেপে, বগুড়ার সারিয়াকান্দি এলাকায় এই ভয়াবহ ট্রাফিক দুর্ঘটনা একটি পরিবারকে অকাল মৃত্যুতে নিয়ে গেছে। বাবা-ছেলে ও অটোরিকশা চালকের মৃত্যুতে স্থানীয় কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমেছে। আহত মা ও কন্যা বর্তমানে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে সড়ক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক আইন প্রয়োগের গুরুত্ব।