কক্সবাজারে লম্বা ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর শহর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৭৩ বার
কক্সবাজারে লম্বা ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর শহর

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা এবং সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে কয়েকদিনের দীর্ঘ ছুটি উপলক্ষে কক্সবাজারে পর্যটকদের ঢল অব্যাহত আছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটির সুযোগে আসা পর্যটকরা শহরের সৈকত, হোটেল-মোটেল, গেস্টহাউস এবং পর্যটন স্পটগুলোকে মুখরিত করেছে। হোটেল ও আবাসিক মোটেলগুলো এত বেশি ভিড়ের কারণে ব্যবস্থাপনা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে, কারণ ফাঁকা কক্ষ পাওয়া যাচ্ছে না।

গত মঙ্গলবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত পর্যটকরা কক্সবাজারে এসে পৌঁছেছেন এবং বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত সৈকতের বেলাভূমি, কলাতলী, লাবণী ও শহরের অন্যান্য পর্যটন স্পটগুলো ভ্রমণপিপাসু মানুষের পদচারণায় পূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে হঠাৎ মুষলধারে বৃষ্টিপাত দর্শনার্থীদের আনন্দ উদযাপনে ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সমুদ্রের ওপর নিম্নচাপ এবং উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টিপাত চলবে, যা পর্যটকদের আনন্দকে সীমিত করেছে।

শরতের ঠান্ডা-গরম আবহাওয়ায় সূর্যাস্ত দেখা এবং সাগরের নোনা পানিতে গোসল করতে গিয়ে সব বয়সের মানুষ সৈকত ও বেলাভূমিতে উপস্থিত হয়েছেন। হোটেল-মোটেল জোন, লাবণী, কলাতলী, শৈবাল সড়ক এবং বাইপাস রাস্তাগুলোতে ভিড় ও যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বড় বাসগুলো টার্মিনালে অবস্থান করলেও মাঝারি ও ব্যক্তিগত মালিকানাধীন গাড়ি শহরের পর্যটন এলাকা অতিক্রম করার চেষ্টা করছে, যার ফলে স্থান-ভিত্তিক যানজট দেখা দিয়েছে।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শহর ও জেলাজুড়ে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশ এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের কর্মকর্তারা পর্যটন স্পটগুলোতে নিয়মিত টহল দিচ্ছেন। কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ জানান, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী পর্যটকরা ভিড় করে আসছেন। কেউ মঙ্গলবার রাতে এসেছেন, কেউ বুধবার। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ নিয়োগ করা হয়েছে।

পর্যটক সচেতনতার জন্য জেলা প্রশাসনের বিচ কর্মীরা মাইকিংয়ের মাধ্যমে তথ্য প্রদান ও সতর্কবার্তা দিচ্ছেন। সমুদ্রে গোসলকালে বিপদাপন্ন পর্যটকদের রক্ষা করতে লাইফগার্ডদের সতর্ক অবস্থান অব্যাহত রয়েছে। পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত সাধারণ চিকিৎসা ও খাবার- পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে তথ্যকেন্দ্রগুলোতে।

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া এলাকা থেকে পরিবারসহ কক্সবাজার আসা আবদুল মোহাইমিন বলেন, প্রবাস থেকে ফিরে পরিবারের ইচ্ছায় টানা ছুটিতে তারা কক্সবাজারের হোটেল ওশান প্যারাডাইসে উঠেছেন। পুরো হোটেল ভিড়পূর্ণ। ওশান প্যারাডাইস লিমিটেডের বিপণন ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজ নুর সোমেল জানান, এবারের পর্যটন মৌসুমটি শুরু থেকেই ভিড়ের সঙ্গে শুরু হয়েছে। দুর্গাপূজা এবং সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে পর্যটকরা একত্রে কক্সবাজারে এসেছেন।

কক্সবাজার ট্যুর্স অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিল্কী জানান, পর্যটকের উপস্থিতি কেবল কক্সবাজারে নয়, ইনানী, হিমছড়িসহ সব পর্যটন স্পটে বেড়েছে। পর্যটন মৌসুমের শুরুতে এই উপস্থিতি পর্যটন খাতের জন্য আশান্বিত করছে। কলাতলীর সি নাইট গেস্ট হাউসের ব্যবস্থাপক শফিক ফরাজী জানিয়েছেন, হোটেল-মোটেলগুলোতে লোকসমাগম বেড়েছে এবং আগামী দিনে কতটা থাকবে, সেটাই দেখার বিষয়।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে দায়িত্বপালনকারী সি সেফ লাইফগার্ডের সুপারভাইজার মোহাম্মদ ওসমান জানান, বিশ্ব পর্যটন দিবস থেকে পর্যটক আগমন শুরু হয়েছে এবং শনিবার পর্যন্ত এই ঢেউ অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, পর্যটকরা সকাল থেকেই ঢেউয়ের সঙ্গে খেলছেন, কিন্তু অনেক সময় বিপদ সীমার বাইরে চলে যায়। তাই তাদের নিরাপদে রাখার জন্য বারবার সতর্ক করা হচ্ছে।

নবাগত জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান বলেন, মঙ্গলবার থেকে সৈকতের সব পয়েন্টে লোকসমাগম বেড়েছে, বিশেষ করে সুগন্ধা, লাবনী ও কলাতলী পয়েন্টে ভিড় বেশি। সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। পর্যটক হয়রানির অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে মাঠে কাজ করছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

কক্সবাজার পুলিশ সুপার সাইফুদ্দিন শাহীন জানান, বাড়তি পর্যটক ও দর্শনার্থীদের কথা মাথায় রেখে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে। পোশাকধারী পুলিশ, সাদা পোশাকের পুলিশ এবং পর্যটক বেশে থাকা নারী সদস্যরা সৈকতে তদারকি করছেন। পর্যটক সমাগম এবং দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জনের কারণে এলিট ফোর্স, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীও নিরাপত্তা তদারকিতে মাঠে রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে কক্সবাজার পর্যটন নগরী কয়েকদিন ধরে দেশের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে মুখরিত থাকলেও, নিরাপত্তা, যানজট এবং আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের আনন্দ, ব্যবসায়িক লেনদেন এবং পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের জন্য স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পর্যটন কর্মকর্তারা সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত