উখিয়া সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনায় রোহিঙ্গা যুবক আহত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৬৬ বার
উখিয়া সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনায় রোহিঙ্গা যুবক আহত

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

রাতভর গোলাগুলির গড়্যে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার সীমান্ত এলাকায় এক রোহিঙ্গা যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন — এ খবর পাওয়া গেছে স্থানীয় ও সীমান্ত সূত্র থেকে। গুলির শব্দ উপকূলীয় বাংলাদেশ-পার্শ্ববর্তী মিয়ানমার সীমান্ত জুড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা থেমে থেমে শোনা গেছে; মানুষ আতঙ্কে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। খবর পাওয়া পর্যন্ত আহত যুবককে স্থানীয় আশ্রয়শিবির থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় ও সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটেছে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন সংলগ্ন রহমতের বিল সীমান্ত এলাকা ও তার পার্শ্ববর্তী রাখাইন রাজ্যে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শুরু হওয়া গোলাগুলি টানা প্রায় চার ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে চলেছে। সীমান্ত এলাকায় থাকা পান্থীদের কথায়, “রাতভর এমন আওয়াজ শুনিনি আগে।”

আহত যুবকের নাম মো. ইয়াস বলে স্থানীয়দের দাবি। তিনি উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১২ এর বাসিন্দা বলে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, রহমতের বিল পার্শ্ববর্তী মিয়ানমার অংশ থেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি বাংলাদেশে পালিয়ে আসার চেষ্টা করছেন।

উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, রাতভর গোলাগুলির ফলে গড়েই ছড়িয়েছে উদ্বেগ ও অস্থিরতা। তাঁর কথায়, রাখাইন রাজ্যের অভ্যন্তরে গোলাগুলি শুরু হলে, সীমান্ত শহরতলীর তুলনামূলকভাবে শান্ত এলাকা পর্যন্ত শব্দ পৌঁছে গেছে। গোলাগুলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, “বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। নাফ নদী ও স্থলসীমান্তে টহল জোরদার করা হয়েছে।”

যদিও স্থানীয়ভাবে মো. ইয়াসের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, বিজিবির পক্ষ থেকে এই দাবি স্বাভাবিকভাবে স্বীকৃত নয়। বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের এপারে কোনো গুলি ছুটে আসেনি এবং তাদের কাছে গুলিতে বাংলাদেশি পক্ষ আহত বা প্রাণহানির কোনো তথ্য নেই।

সীমান্ত এলাকায় কাজ করা মানুষদের বক্তব্য, রাতভর এমন দিকনির্দেশহীন গুলি এবং শব্দ গতিতে অস্থির হয়ে পড়েছেন তারা। বলা হচ্ছে, গুলির বিস্তৃতি এলাকায় অনেক বাসিন্দা শুতে পারেননি। বিশেষ করে উখিয়ার থাইংখালী এলাকার স্কুলশিক্ষক মো. কমরুদ্দিন জানান, “গোলাগুলি থেমে থেমে, হঠাৎ আবার শুরু হয় — ভয়ে ঘুমাতে পারিনি।”

উল্লেখ্য, গোলাগুলির ঘটনাটি নতুন নয়। এই মাসের ৪ অক্টোবর রাতেই বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি শোনা গিয়েছিল।  সীমান্তের একাধিক সূত্র দাবি করে, মিয়ানমারের আরাসা (ARSA) ও দেশটির বাহিনীর একপক্ষে পরিচালিত ওই সংঘর্ষে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং আরাকান আর্মির মধ্যে লড়াইয়ের দৃশ্য দেখা যায়।

গোলাগুলির শ্রুতিমধুর শব্দ এবং আপেক্ষিক নীরবতা নিয়ে সীমান্তের মানুষ মানসিক ও নিরাপত্তার দিক থেকে খুবই বিপন্ন অনুভব করছেন। নাভির ওপারে অবস্থিত রাখাইন রাজ্যের ঢেকুবনিয়া এলাকায় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে বেশ কিছু দিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সীমান্তের উপকণ্ঠে এই ধরণের সংঘর্ষের প্রভাব বাংলাদেশে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে — উদ্বাস্তুদের উদ্বেগ থেকে শুরু করে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি পর্যন্ত।

সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনায় মূল প্রশ্নগুলো হলো — গোলাগুলি ঠিক কোন গোষ্ঠীর মধ্যে হচ্ছিল? আহত যুবকের বন্দুকবিদ্ধ হওয়া কিভাবে ঘটল — অভ্যন্তরীণ লড়াই নেওয়া স্থান থেকে গুলি ছুটে আসল না অন্য কোনো উৎস থেকে? এবং এই সংঘর্ষ কি বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে অপেক্ষা রাখতে হবে মিয়ানমারি সংবাদ মাধ্যম, সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী এবং রাজনৈতিক সূত্রদের বিবৃতি ও ঘটনার পরবর্তী তদন্ত রিপোর্টের।

এই ঘটনার মাধ্যমে উভয় দেশের সীমান্ত জনপদ ও আশ্রয়শিবির অঞ্চলে জনসাধারণের নিরাপত্তা, হতাশা ও উদ্বেগ আরও বাতিল হয়েছে। একদিকে যুদ্ধক্ষেত্রের গোলাগুলি — অন্যদিকে শান্ত সীমান্তের মানবিক অবস্থা — এই মিলিত প্রেক্ষাপটে পড়ুয়া বলা যায়, সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা আজও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েই গেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত