সাব-জেলে অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের বিষয়ে ব্যারিস্টার আরমানের আহ্বান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৯১ বার
সাব-জেলে অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের বিষয়ে ব্যারিস্টার আরমানের আহ্বান

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সাব-জেলে অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের বিষয় নিয়ে দেশের বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ব্যারিস্টার আরমান। তিনি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান যে, সেনানিবাসের ভেতরে অবস্থানরত আসামিদের বিচার প্রক্রিয়া কোনোভাবে প্রভাবিত করতে দেওয়া উচিত নয় এবং জেলকোড পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসরণ হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ব্যারিস্টার আরমান বলেন, “আসামিরা যদি গ্রেপ্তার অবস্থায় ক্যান্টনমেন্টে অবস্থান করে বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জনগণের সামনে প্রমাণ করতে হবে যে এখানে কোনো প্রকার সম্পৃক্ততা নেই এবং তারা কোনোভাবেই ক্যান্টনমেন্ট থেকে বিচারকে প্রভাবিত করতে পারবে না।”

তিনি আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনীকে যেন কোনোভাবেই রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা না হয়। “একজন ভুক্তভোগী হিসেবে আমি আশা করি যে দেশপ্রেমিক সেনা সদস্যদের মাধ্যমে যেন ভাড়াটে হত্যার মতো কর্মকাণ্ড আর করা না হয়। জনগণের রক্ষক সেনাবাহিনী যেন কখনো জনগণের মুখোমুখি হুমকিতে না আসে এবং তারা কোনো শক্তির পুতুল হয়ে না যায়, তা এই বিচারের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

ব্যারিস্টার আরমানের বক্তব্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের দেশত্যাগ নিয়ে উচ্চপদস্থ কমিশন গঠনের আহ্বান। তিনি বলেন, “যখন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা দেশ ত্যাগ করেছেন, তখন তাদের পাসপোর্ট বাতিল এবং ওয়ারেন্ট ছিল। এ অবস্থায় ক্যান্টনমেন্টের ভেতর থেকে কীভাবে তারা দেশত্যাগ করতে পেরেছে, তা তদন্তের জন্য একটি উচ্চপদস্থ কমিশন গঠন করা উচিত।”

তিনি বলেন, “যারা সেই সময় দায়িত্বে ছিলেন বা যাদের তত্ত্বাবধানে দেশত্যাগ হয়েছে, তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। কেননা যারা বিচারাধীন এবং যারা দেশত্যাগ করেছে, তারা যেন কোনোভাবে বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে না পারে। এটি নিশ্চিত করতে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে।”

সাম্প্রতিক সময়ে সাব-জেল এবং সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও গ্রেপ্তার কার্যক্রম নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ব্যারিস্টার আরমানের আহ্বান সুস্পষ্টভাবে বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং সেনা কর্মকর্তাদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার উপর গুরুত্বারোপ করেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ব্যারিস্টার আরমানের প্রস্তাবিত উচ্চপদস্থ কমিশন গঠনের মাধ্যমে কেবল দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা হবে না, বরং সাব-জেল ও সেনানিবাসের মধ্যে অবস্থানরত অভিযুক্তদের সঙ্গে সংযুক্ত সম্ভাব্য অনিয়মও খতিয়ে দেখা সম্ভব হবে। এতে দেশের বিচার ব্যবস্থায় জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে এমন ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে সরকারও ইতিমধ্যেই সাব-জেল ও সেনানিবাসে গ্রেপ্তার থাকা কর্মকর্তাদের আচরণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা পর্যালোচনা শুরু করেছে। ব্যারিস্টার আরমানের আহ্বান সেই প্রক্রিয়াকে আরও দৃঢ় এবং ন্যায্য করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত