ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক ‘অসাধারণ সফল’ দাবি নেতানিয়াহুর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬
  • ৫ বার
ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক ‘অসাধারণ সফল’ দাবি নেতানিয়াহুর

প্রকাশ: ২৯ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, সংঘাত ও চরম উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম আলোচিত দুই রাষ্ট্রপ্রধানের এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে ওভাল অফিসে আয়োজিত এই কৌশলগত বৈঠকটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে ব্যাপক আলোচনার ঝড় তুলেছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট এক দাপ্তরিক বার্তার মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটিকে অত্যন্ত ‘ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিশ্ব রাজনীতিতে যখন নানা সমীকরণ বদলে যাচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে এই দুই নেতার মুখোমুখি বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার পথরেখা নির্ধারণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

ওভাল অফিসে অনুষ্ঠিত এই কর্মব্যস্ত দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কেবল ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেই নয়, বরং একই দিনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও পৃথক আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। তবে বিশ্বজুড়ে বর্তমান সবচেয়ে সংবেদনশীল ইস্যু অর্থাৎ মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যকার এই বৈঠকটিই সব মহলের নজর কেড়েছে। হোয়াইট হাউসে বৈঠক শেষে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাঁর দাপ্তরিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন। সেই ভিডিও বার্তায় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনাকে তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের এবং দীর্ঘ কর্মমেয়াদকালের অন্যতম ‘সেরা আলোচনা’ হিসেবে সগৌরবে উল্লেখ করেছেন।

উভয় নেতার মধ্যকার এই সরাসরি বৈঠকের পটভূমি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে নতুন করে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই ছিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর প্রথম মুখোমুখি সরাসরি বৈঠক। দীর্ঘ এই যুদ্ধাবস্থা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকটের প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মূলত দুটি অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও স্পর্শকাতর বিষয় সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে বলে জানিয়েছেন নেতানিয়াহু। এর মধ্যে প্রথম এবং প্রধান বিষয়টি ছিল যেকোনো মূল্যে নিশ্চিত করা যে ইরান যেন বিশ্বশান্তির জন্য হুমকিস্বরূপ কোনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে। আর দ্বিতীয় বিষয়টি ছিল ইসরায়েলের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বিক সুরক্ষার জন্য ভবিষ্যতে যেসব প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন, তার নিখুঁত সমন্বয় দুই দেশের নীতিনির্ধারকরা কীভাবে করবে তা চূড়ান্ত করা।

বিশ্বের দুই প্রভাবশালী নেতার এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উভয় দেশের শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারক ও মন্ত্রীরা স্বশরীরে উপস্থিত ছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বৈঠকে অংশ নেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথসহ প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ সামরিক ও কূটনৈতিক কর্মকর্তারা এই অত্যন্ত গোপনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ওভাল অফিসের এই ঘামঝরানো বৈঠকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে একটি এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার প্রদান করেন। সেই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় জানান যে ওয়াশিংটন প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমের ওপর অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।

বিশেষ করে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে আলোচিত ইরানের ‘পিক্যাক্স মাউন্টেন’ পারমাণবিক সাইট প্রসঙ্গে অত্যন্ত হুশিয়ারির সুরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন যে সেখানে ঠিক কী ধরনের গোপনীয় কর্মকাণ্ড ঘটছে বা ঘটতে যাচ্ছে, সে বিষয়ে তাঁর প্রশাসন পুরোপুরি অবগত রয়েছে। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে ইতিমধ্যে মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর সামরিক পদক্ষেপে ইরানের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা ও অবকাঠামোর বড় ধরনের ক্ষতি সাধন করা হয়েছে। তেহরান যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্মানজনক সমঝোতা বা নতুন চুক্তিতে উপনীত হতে ব্যর্থ হয়, তবে প্রয়োজনে ওই ‘পিক্যাক্স মাউন্টেন’ সাইটসহ ইরানের অবশিষ্ট পরমাণু স্থাপনাগুলোও সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হবে বলে সরাসরি হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে ইতিপূর্বে স্বাক্ষরিত বিভিন্ন সমঝোতা স্মারক ও চুক্তির অধীনে বজায় থাকা যুদ্ধবিরতি সম্প্রতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে এক ভয়াবহ উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার এমন এক চরম অনিশ্চিত ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই অত্যন্ত কৌশলগত বৈঠকটি সম্পন্ন হলো। দুই নেতার এই দীর্ঘ আলাপচারিতা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের গতিপথকে কোন দিকে নিয়ে যায় এবং ইরানের বিরুদ্ধে তারা যৌথভাবে কী ধরনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই এখন সারাবিশ্বের রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের তীক্ষ্ণ ও কৌতূহলী দৃষ্টি নিবন্ধ রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত