২৬০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তিতে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৪ বার
২৬০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তিতে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত

প্রকাশ: ১৮ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাশিত একটি সুখবর সামনে এসেছে। শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি আর আবরার) জানিয়েছেন, সারাদেশে সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিলিয়ে দুই হাজার ছয়শোরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে নেওয়া হচ্ছে। এই উদ্যোগ আগামীকাল থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে নিজের দফতরে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ড. আবরার জানান, এই উদ্যোগ দেশের নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করবে। তিনি বলেন, “এমপিওভুক্তি শুধু আর্থিক সুবিধার বিষয় নয়; এটি শিক্ষকদের মান, মর্যাদা এবং পেশাদারিত্ব বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। আমরা চাই এই প্রক্রিয়ায় কারিগরি শিক্ষার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হোক, কারণ ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান ও দক্ষ জনশক্তির জন্য এটি অপরিহার্য।”

এর আগে একই দিন ড. আবরারের সভাপতিত্বে নন-এমপিও ঐক্য পরিষদের সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক কর্মচারী ঐক্য জোটের চেয়ারম্যান ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূইয়া, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমান, গণসংহতি আন্দোলনের আহ্বায়ক জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের সহ-সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সম্পাদক ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির শিক্ষা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ওমর ফারুক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মো. ফয়সালসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

বৈঠকে আলোচনা হয় নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার সমাধান, এমপিওভুক্তির নীতিমালা, বাস্তবায়ন কৌশল এবং সরকারের চলমান পদক্ষেপ সম্পর্কে। শিক্ষকরা তাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন, যা এই উদ্যোগকে আরও মানবিক ও সমন্বিত করার নির্দেশনা দিয়েছে।

ড. আবরার বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো যদি এখনই ঘোষণা দেয় যে, ক্ষমতায় এলে এই এমপিও প্রক্রিয়াকে তারা অব্যাহত রাখবে এবং শিক্ষকদের মান ও মর্যাদা বাড়াবে, তবে তা বৃহত্তর জাতীয় ঐকমত্য স্থাপন করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আন্দোলনরত শিক্ষকদের ঘরে ফেরানো এবং শান্তিপূর্ণভাবে শিক্ষা খাতকে এগিয়ে নেওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সরকার চেষ্টা করছে যাতে এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় থাকে।

চলতি অর্থবছরে নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে ইতিমধ্যেই ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ বিভিন্ন খাতে যেমন বাসা ভাড়া বৃদ্ধি ও বোনাসে ব্যবহার হয়েছে। এমপিওভুক্তির জন্য যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে একাধিকবার পরীক্ষা ও যাচাইয়ের পর বিবেচনা করা হবে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠান পূর্বে একাধিকবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, তাদের বিষয়ে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হবে।

শিক্ষা উপদেষ্টা আরও বলেন, এমপিও প্রদান মূলত কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে দেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়ার একটি কৌশল। তাই শুধুমাত্র সংখ্যার জন্য ঢালাওভাবে এমপিও দেওয়া হবে না। কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব ও শিক্ষকদের দক্ষতা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজনৈতিক দলগুলোরও এই বিষয়ে স্পষ্ট মনোযোগ থাকবে এবং তারা কারিগরি শিক্ষার বিকাশে সমর্থন প্রদান করবে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এমপিওভুক্তি শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের পেশাগত মনোবলও বৃদ্ধি করবে। দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্তির জন্য আন্দোলনরত শিক্ষকেরা এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। ড. আবরার বলেন, “শিক্ষকদের জন্য এটি শুধু একটি সুবিধা নয়, এটি তাদের পেশাগত মর্যাদা ও সম্মানের প্রতীক।”

এই উদ্যোগ দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে এমপিওভুক্তি নতুন প্রজন্মকে দক্ষ কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করবে। সরকারের লক্ষ্য, এমপিওভুক্তি প্রক্রিয়া যেন দীর্ঘমেয়াদী এবং স্বচ্ছ হয় এবং এটি দেশের সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

চূড়ান্তভাবে, দেশের দুই হাজার ছয়শোরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হলে এটি দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা এবং শিক্ষকদের প্রাপ্য মর্যাদা নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি এটি শিক্ষাক্ষেত্রে রাজনৈতিক সমন্বয় এবং জাতীয় ঐকমত্যের দিকেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। শিক্ষকদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং কারিগরি শিক্ষার বিকাশ ঘটানো দেশের সার্বিক উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে।

এভাবে দেখা যাচ্ছে, এমপিওভুক্তি শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বরং এটি দেশের শিক্ষা খাতকে আরও শক্তিশালী, আধুনিক ও দক্ষ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আগামী সময়ে এই উদ্যোগ শিক্ষকদের জীবনে স্থায়ী প্রভাব ফেলবে এবং দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত