ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফ্যাসিবাদের ছায়া থেকে এখনও মুক্ত নয়

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪১ বার

প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, দেশের প্রাচীনতম এবং খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এখনও ফ্যাসিবাদের প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত নয়—এই শঙ্কা প্রকাশ করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। তার দাবি, দীর্ঘ ষোল বছরের মধ্যে যে ফ্যাসিবাদী কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তার প্রায় ৯০ শতাংশ এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছে এবং এটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতাকে ধ্বংসের পথে রাখছে।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খান উল্লেখ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব শিক্ষক ফ্যাসিবাদের সহায়ক হয়ে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে রাজনৈতিক মন্তব্য করেছেন, তাদের চাকরি বাতিল করা উচিত। তিনি আরও বলেন, প্রশাসনিক ভবন, বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগের বিভিন্ন পদে ছাত্রলীগের ক্যাডার নিয়োগের ব্যবস্থা বাতিল করা জরুরি, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়কে তার মৌলিক শিক্ষামূলক ও স্বাধীনতামূলক চরিত্রে ফিরিয়ে আনা যায়।

গণঅধিকার পরিষদের এই নেতা মনে করেন, দেশে এখনো বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরে ফ্যাসিবাদের শিকড় অটুট আছে। তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদকে লালন করে ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশ’ গঠনের ঘোষণা দেওয়া জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। গত পনেরো মাসে ফ্যাসিবাদ উৎখাতের নামে এই ধরনের প্রতারণা চলেছে। প্রকৃত সংস্কার এবং জবাবদিহি ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ফ্যাসিবাদের প্রভাব থেকে মুক্ত করা সম্ভব নয়।”

রাশেদ খানের মন্তব্যের প্রেক্ষাপট হিসেবে উল্লেখযোগ্য, সম্প্রতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় শিক্ষক প্রকাশ্যে তাদের মতামত ব্যক্ত করেছিলেন। এই মন্তব্যগুলোকে গণঅধিকার পরিষদের নেতা ফ্যাসিবাদী সমর্থনের মতো আখ্যায়িত করেছেন। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী ভিসি অফিস ঘেরাও করে আন্দোলন চালিয়েছেন এবং দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুত করে বিচারের মুখোমুখি আনা উচিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা ও শিক্ষাব্যবস্থার সুনাম রক্ষা করা যে কতটা জরুরি, তা রাশেদ খানের বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি বলেন, শুধুমাত্র প্রশাসনিক পদক্ষেপ বা চাকরিচ্যুতি নয়, পুরো প্রতিষ্ঠানকে সংস্কার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের প্রভাব মোকাবিলা করা সম্ভব। তার মতে, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও স্বাধীন পরিবেশে শিক্ষালাভ নিশ্চিত করতে হলে, শিক্ষক ও প্রশাসনিক দপ্তরের মধ্যে ফ্যাসিবাদী ছায়া সম্পূর্ণরূপে দূর করতে হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাসিবাদের এই ছায়া কেবল শিক্ষাক্ষেত্রে নয়, সমগ্র রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটকেও প্রভাবিত করছে। বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা, বুদ্ধিজীবী প্রজন্ম ও নতুন নেতৃত্ব গঠনের কেন্দ্রীয় স্থান। যদি এখানে ফ্যাসিবাদের কাঠামো বজায় থাকে, তাহলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের রাজনৈতিক ও সামাজিক চেতনায় গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

রাশেদ খানের বক্তব্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো জনগণ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা। তিনি বলেন, “যে শিক্ষার্থী ও নাগরিকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা এবং শিক্ষার মান রক্ষা করতে আগ্রহী, তাদেরই এই ফ্যাসিবাদী কাঠামোর বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে হবে। সংস্কার তখনই কার্যকর হবে, যখন প্রশাসন, শিক্ষক, এবং শিক্ষার্থীরা একসাথে আন্দোলনে অংশ নেবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাসিবাদী কাঠামোর মধ্যে ছাত্রলীগের নিয়োগ ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের দিকেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই ধরনের নিয়োগ শিক্ষার্থীদের স্বাধীন চিন্তাভাবনা ও সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গিকে বাধাপ্রাপ্ত করে এবং রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ শিক্ষার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীন চিন্তাধারার কেন্দ্রের পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের শক্তি কেন্দ্র হিসেবে পরিণত হয়।

রাশেদ খান সতর্ক করেছেন যে, যদি এসব ফ্যাসিবাদী ছায়া দীর্ঘস্থায়ীভাবে বহাল থাকে, তবে তা দেশের শিক্ষাব্যবস্থা, সমাজ এবং রাজনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তিনি বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের একটি প্রতীক, এটি যদি রাজনৈতিক প্রভাব ও ফ্যাসিবাদের ছায়া থেকে মুক্ত না থাকে, তাহলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ারও ওপর প্রভাব পড়বে।”

সংক্ষিপ্তভাবে, রাশেদ খানের বক্তব্য শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেই কেন্দ্র করে সীমাবদ্ধ নয়, এটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও রাজনৈতিক চেতনার সঙ্গে সম্পর্কিত বৃহত্তর সমস্যাকে সামনে তুলে ধরেছে। তার মতে, প্রকৃত সংস্কার এবং জবাবদিহি নিশ্চিত না করলে শিক্ষার মান, স্বাধীনতা ও বিশ্ববিদ্যালয়কে রাষ্ট্রের নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক কেন্দ্রে পরিণত করার চেষ্টা ব্যর্থ হবে।

এই দাবিগুলো স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজর কাড়ার মতো। শিক্ষার্থীরা ইতিমধ্যেই আন্দোলন শুরু করেছে, প্রশাসন এবং শিক্ষকমণ্ডলীকে সতর্ক করেছে এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাসিবাদী কাঠামোতে সংস্কারের প্রক্রিয়াকে দেশের গণতান্ত্রিক ও শিক্ষাগত অগ্রগতির জন্য অত্যন্ত জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা উচিত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত