প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২৫ মঙ্গলবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
শিক্ষা অধিদফতর সোমবার নতুন একটি নির্দেশনা জারি করেছে, যার মাধ্যমে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ব্যবস্থায় প্রেরণের ক্ষেত্রে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) প্রফেসর বি এম আব্দুল হান্নান স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন ইএফটির মাধ্যমে সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হচ্ছে।
নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, এ কার্যক্রমের জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানদের মাধ্যমে অনলাইনে শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও ব্যাংক হিসাব-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তা সিস্টেমে যুক্ত করা হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে ইএফটির মাধ্যমে এমপিও অর্থ পাঠানো হচ্ছে। তবে শিক্ষা অধিদফতর জানিয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাব নম্বর বা রাউটিং নম্বর ভুল থাকার, ব্যাংক হিসাব সাময়িকভাবে স্থগিত থাকার অথবা সচল না থাকার কারণে অর্থ তাদের অ্যাকাউন্টে জমা না হয়ে ফেরত আসছে।
ফেরত আসা অর্থ পুনরায় প্রেরণের সুবিধা দিতে নতুনভাবে ইএফটি মডিউলে ‘Salary Bounce’ নামের অপশন যোগ করা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান এ নতুন অপশনের মাধ্যমে শিক্ষক-কর্মচারীদের সঠিক ব্যাংক তথ্য হালনাগাদ করলে বাউন্স ব্যাক হওয়া অর্থ পুনরায় তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রেরণ করা হবে। তবে ভুল বা ভুয়া তথ্য প্রদানের কারণে ইএফটি প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটলে এর সম্পূর্ণ দায়ভার প্রতিষ্ঠান প্রধানের উপর বর্তাবে।
শিক্ষা অধিদফতর সব প্রতিষ্ঠান প্রধানকে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছে যাতে শিক্ষকমাধ্যমে বেতন প্রেরণের ক্ষেত্রে কোনো বিলম্ব বা সমস্যা না হয়। বিশেষভাবে বলা হয়েছে, সঠিক ব্যাংক তথ্য দ্রুত ইএফটি সিস্টেমে অনলাইনে হালনাগাদ করা অপরিহার্য।
নির্দেশনার ফলে শিক্ষকমূল্যায়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও দোষনিরোধী ব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে। এ পদক্ষেপটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গত বছর কয়েকটি ঘটনার মাধ্যমে দেখা গেছে যে, ব্যাংক তথ্যের ভুল বা অপর্যাপ্ত তথ্যের কারণে এমপিও অর্থ শিক্ষক ও কর্মচারীদের অ্যাকাউন্টে সময়মতো পৌঁছায়নি, ফলে তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনেও জটিলতা সৃষ্টি হয়। নতুন ‘Salary Bounce’ সুবিধার মাধ্যমে ফেরত আসা অর্থ দ্রুত পুনঃপ্রেরণ নিশ্চিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য আর্থিক নিরাপত্তা বজায় থাকবে।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইএফটির মাধ্যমে অর্থ প্রদানের নিয়ম শিক্ষকদের জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক, কারণ এতে খসড়া ও ম্যানুয়াল লেনদেনের ঝুঁকি কমে এবং আর্থিক প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও দ্রুত হবে। একই সঙ্গে নির্দেশনার মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। কারণ ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদান পুরো প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে ব্যর্থতা ডেকে আনতে পারে এবং শিক্ষকদের বেতন প্রেরণে বিলম্ব ঘটাতে পারে।
এদিকে, বিশেষজ্ঞরা আরও উল্লেখ করেছেন যে, প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে এমপিও প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়করণ দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি বড় অগ্রগতি। তবে এটি কার্যকরভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ভূমিকা অপরিহার্য। সঠিক তথ্য যাচাই, হালনাগাদ ও নিয়মিত মনিটরিং ছাড়া প্রক্রিয়া স্থির ও নিরাপদ হবে না। ফলে নির্দেশনার মাধ্যমে শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য আর্থিক নিরাপত্তা এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
শিক্ষক ও কর্মচারীরা ইতোমধ্যেই এই নতুন পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, এটি তাদের আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনার পাশাপাশি বেতন প্রাপ্যতায় নিশ্চিততা দেবে। এছাড়া, প্রক্রিয়ার ত্রুটি বা ব্যর্থতার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ দায়ভার প্রতিষ্ঠান প্রধানের উপর রাখার মাধ্যমে প্রক্রিয়ার প্রতি দায়িত্বশীলতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
শিক্ষা অধিদফতর জানিয়েছে, প্রক্রিয়ায় যেকোনো ধরনের বিলম্ব বা সমস্যার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এর মাধ্যমে সরকারের আর্থিক সংস্থান সরাসরি শিক্ষকদের কাছে নিরাপদ ও দ্রুত পৌঁছবে।
নতুন নির্দেশনার ফলে আশা করা হচ্ছে, শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন বিতরণ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ, দ্রুত ও দায়বদ্ধ হবে, যা শিক্ষা খাতে দায়িত্বশীলতা ও কর্মদক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করবে। এটি একই সঙ্গে একটি উদাহরণ হিসেবে থাকবে যে, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল সিস্টেমের ব্যবহার দেশের শিক্ষা প্রশাসনে কতটা কার্যকর এবং প্রভাবশালী হতে পারে।