৫৮ দিনের বন্ধের পর ফের শুরু হলো সমুদ্রপথে মাছ ধরা।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১২ জুন, ২০২৫
  • ৮২ বার
৫৮ দিনের বন্ধের পর ফের শুরু হলো সমুদ্রপথে মাছ ধরা।

প্রকাশ:  ১২ জুন ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

দীর্ঘ ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে বঙ্গোপসাগরে আবারও শুরু হয়েছে মাছ ধরা। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বুধবার (১২ জুন) রাত ১২টা পর্যন্ত মাছ ধরার ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষ হতেই বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) ভোর থেকে পটুয়াখালী ও বরিশালের উপকূলীয় এলাকার জেলেরা নেমে পড়েছেন সাগরে মাছ ধরতে। গভীর সমুদ্রে যাত্রার প্রস্তুতি শেষ করে বহু ফিশিং ট্রলার পাড়ি জমিয়েছে মাছের খোঁজে।

সরকার গত ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত দেশের সমুদ্রসীমায় সব ধরনের মৎস্য আহরণ, পরিবহন ও সংরক্ষণ নিষিদ্ধ করেছিল। মূলত সামুদ্রিক মাছের প্রজনন এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার উদ্দেশ্যেই এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত বছর পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা ছিল ৬৫ দিন (২০ মে থেকে ২৩ জুলাই)। কিন্তু ভারতীয় জলসীমার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবার তা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৮ দিনে।

বাংলাদেশি জেলেদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, নিজেদের ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকার সময় ভারতীয় জেলেরা নির্বিঘ্নে বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে মাছ শিকার করে নিয়ে যান। বিশেষ করে, যখন বাংলাদেশের নিষেধাজ্ঞা চলমান থাকে, তখন প্রায় ৩৯ দিন ভারতীয় ফিশিং ট্রলারগুলো সক্রিয়ভাবে বাংলাদেশের উপকূলবর্তী অঞ্চলে প্রবেশ করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে দেশীয় জেলেরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদে অসাম্য তৈরি হয়।

এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার চলতি বছর থেকে নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা পুনর্বিন্যাস করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এখন থেকে প্রতিবছর ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ দিন দেশব্যাপী সমুদ্রসীমায় মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে। এই সময়ের সঙ্গে ভারতীয় নিষেধাজ্ঞার সময়সীমাও প্রায় মিলে যায়, ফলে ভবিষ্যতে বিদেশি জেলেদের দ্বারা বাংলাদেশের জলসীমা লঙ্ঘনের সম্ভাবনা কমে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও ভারতের নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে ১৪ জুন, অর্থাৎ বাংলাদেশের তুলনায় দুই দিন পরে, তবুও এই সমন্বিত উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন মৎস্য বিশেষজ্ঞরা।

বছরের এই বিশেষ সময়টিতে মাছ ধরা বন্ধ রাখায় বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য কিছুটা স্বস্তির সুযোগ পায়, যা ভবিষ্যতের জন্য টেকসই মৎস্যসম্পদ গঠনে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অপরদিকে, নিষেধাজ্ঞা শেষে মাছ ধরায় ফেরার সুযোগ পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন উপকূলীয় অঞ্চলের হাজারো জেলে পরিবার।

সাগরে মাছ ধরার মৌসুমের শুরুতে জেলেরা যেমন নতুন করে জীবিকা নির্বাহের আশায় বুক বাঁধছেন, তেমনি মৎস্য অধিদপ্তর থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসনও এবার নজরদারির ওপর জোর দিচ্ছে যাতে নিষেধাজ্ঞা না ভেঙে ভবিষ্যতে আবারও অনিয়ম বা অনুপ্রবেশ না ঘটে। এই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত এবং কার্যকর বাস্তবায়ন যদি সঠিকভাবে অব্যাহত থাকে, তবে তা বাংলাদেশের মৎস্য খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com