রাতের তাপমাত্রা কমে শীত বাড়ছে দেশজুড়ে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৭০ বার
তাপমাত্রা কমে শীত বাড়ছে

প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

গত এক দিনের ব্যবধানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা এক থেকে তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে শীতের আমেজ জেঁকে বসেছে। রাজধানী ঢাকাসহ উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণ অংশে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আগামী কয়েক দিনের রাতের তাপমাত্রা আরও কমে শীত তীব্র হতে পারে।

গতকাল বুধবার রাতে দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। দিনাজপুরে ১১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় কম। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ একেএম নাজমুল হক জানিয়েছেন, শীত শুরু হয়ে গেছে, এবং আগামীকাল থেকে রাতের তাপমাত্রা আরও কমে যেতে পারে। আগামী সপ্তাহে — বিশেষ করে শনিবারের পর — তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, কয়েক দিনের মধ্যে উত্তরাঞ্চলের কিছু জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে, এবং চলতি মাসের শেষ ও জানুয়ারির প্রথমার্ধে শীতের দাপট আরও বাড়বে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর ও দেশের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকারী সংগঠনগুলো জানান, রংপুর, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনা বিভাগের কিছু জেলায় রাতের তাপমাত্রা ১০ থেকে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি নেমে আসার শঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, বরিশালসহ কিছু বিভাগে তাপমাত্রা ১৩–১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। বেশ কিছু দুর্যোগপ্রবণ নয় এমন অঞ্চলেও রাতে তাপমাত্রা সাময়িকভাবে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে শীতান্ত অনুভূত হতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, শীত এবার গত বছরের তুলনায় একটু দেরিতে হলেও গতি­­কেই বেছে নিচ্ছে।

আবাসিক এলাকায় শীত অনুভূত হওয়া শুরু করেছে। সকালের হালকা কুয়াশা, সন্ধ্যার ঠাণ্ডা বাতাস, রাতে ঘন কুয়াশা ও ঠাণ্ডা — এই আবহাওয়ার কারণে মানুষ গায়ে শাল, জ্যাকেট, হাফ-জুতা, মোজা — সবই খুলে নিচ্ছেন। স্কুল-কলেজ, অফিস, বাজার, রাস্তাঘাটে রোজকার যাতায়াতে নতুনভাবে শীত মিশেছে মানুষের জীবনে। সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়া, অফিস বা দোকানে যাওয়া, স্কুলে যাওয়ার সময় — কমবুড়ো আর বাচ্চাদের জন্য গরম কাপড় ছাড়া বের হওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

বিভিন্ন বয়স, পেশার মানুষ শীতের প্রভাব অনুভব করছেন। শিশু, বৃদ্ধ, গৃহবতীরা — তারা বলছেন, ভোর বা রাতে ঘুম ভেঙে ঠাণ্ডার কারণে কষ্ট হয়। অনেকেই গরম পানি, গরম খাবার, শীতের কাপড়, নির্বাচিত পোশাক ব্যবহার করছেন। গ্রামে বা শহরে, বিশেষ করে বাতাস-নোংরা এলাকায়, শীতের সঙ্গে আর্দ্রতা মেশা হলে ঠাণ্ডার অনুভূতি আরও বাড়ে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট, কাশি, গলা খারাপ, জ্বরের মতো গুরুতর স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ছে।

একদিকে শীত বাড়ছে — অন্যদিকে মানুষ, সমাজ, পরিবার সবাইকে নতুনভাবে প্রস্তুত হতে হবে। গরম পোশাক, মোজা-জুতা, কম্বল, গরম পানি, হালকা ও পুষ্টিকর খাবার, যথাযথ আবাসন ব্যবস্থাপনা — এসবই এখন সময়োপযোগী। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু, গর্ভবতী মা ও শীতকে বেশি সংবেদনশীল যারা — তাদের জন্য গরম পোশাক এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষার দিকে বেশি নজর দেওয়া জরুরি।

কৃষিজমি, মাছ চাষ, গবাদিপশু পালনসহ গ্রামীণ জীবনে শীতের প্রভাব পড়বে। বিদেশি বা গ্লোবাল জলবায়ু পরিবর্তন, দিক পরিবর্তন, বাতাসের আদ্রতা — এসব কারণে এই শীত একটু অন্যরকম। তাই সক্রিয়ভাবে আবহাওয়া মনিটর করতে হবে, বাড়িতে ফুয়েল, গ্যাস, ইলেকট্রিক হিটার, বা গরম পানি ব্যবস্থাপনায় সচেতন হতে হবে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সময় মতো গরম কাপড়, হিটার বা গরম পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। অফিস, কারখানা, দোকান, হাট-বাজার — যে কোনো জায়গায় শীতে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে সকালে বা রাতে যেকোনো কাজ করতে যাওয়া মানুষের জন্য গরম পোশাক ও সাজগোজ জরুরি।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ২৪–৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাতে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। দিনের তাপমাত্রা বেশি বদল হবে না। সন্ধ্যার পর থেকে রাতে ঠাণ্ডা অনুভূত হবে। আগামী শুক্রবার ও শনিবার থেকে রাতের তাপমাত্রা আরও কমে যেতে পারে। এর সঙ্গে যেতে পারে কুয়াশা, উষ্ণ কাপড়ের চাহিদা, এবং সম্ভাব্য শীতজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি।

শীতের আগমন মানে শুধু ঠাণ্ডা নয়, মানে নতুন প্রস্তুতি, নতুন জীবনযাত্রা। প্রতিটি মানুষ, পরিবার, সম্প্রদায়কে সময় মতো সচেতন হতে হবে — গরম কাপড়, স্বাস্থ্যবিধি, নিরাপদ আবাসন, গরম খাবার, এবং নিজেদের যত্ন নেওয়াই এখন প্রধান কাজ। শীত আসছে, প্রস্তুতি থাকলে — আমরা সুরক্ষিত থাকতে পারব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত