আবারও তিন ছেলের আগমন, খুশির পাশাপাশি ভরণপোষণে দুশ্চিন্তা দিনমজুর পিতার

নিজস্ব সংবাদদাতা
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১২ জুলাই, ২০২৫
  • ৫০ বার
আবারও তিন ছেলের আগমন, খুশির পাশাপাশি ভরণপোষণে দুশ্চিন্তা দিনমজুর পিতার

প্রকাশ: ১২ জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ভৈরব শহরের এক গরিব দিনমজুর পরিবারে একসঙ্গে তিনটি ছেলেসন্তানের জন্ম যেমন এনেছে সীমাহীন আনন্দ, তেমনি সৃষ্টি করেছে ভরণপোষণের গভীর উদ্বেগ। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার বোড়ালনগর গ্রামের বাসিন্দা হাছেনা বেগম (৩২) ও তার স্বামী ওয়ালিউল্লাহ মিয়া এই নতুন আগমনে যেমন ঈশ্বরের রহমত হিসেবে দেখছেন, তেমনি পিতৃত্বের দায়িত্ব পালনে বাস্তবতার কঠিন হিসাব-নিকাশে পড়েছেন।

গত ২৯ জুন রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভৈরব শহরের হলিটার্চ মেডিক্যাল কেয়ার অ্যান্ড হসপিটালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনটি সুস্থ ছেলেসন্তানের জন্ম দেন হাছেনা বেগম। নবজাতক ও তাদের মা বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের গাইনি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. সফিকুল ইসলাম। এই আনন্দঘন ঘটনার খবর হাসপাতালজুড়ে এবং এরপর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এক প্রশংসার আবহে।

তবে বাস্তবতা অনেক ভিন্ন। হাছেনা বেগমের স্বামী ওয়ালিউল্লাহ মিয়া একজন দিনমজুর। কৃষিকাজ করে কোনোমতে দিন চলে তাদের। ইতিমধ্যে তাদের সংসারে রয়েছে তিন ছেলেসন্তান। নতুন করে তিন নবজাতকের আগমন, অর্থাৎ মোট ছয় সন্তানের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে তার কণ্ঠে ফুটে ওঠে হতাশার সুর। তিনি বলেন, “আমি খুবই খুশি, আল্লাহ আমাদের এই আনন্দ দিয়েছেন। কিন্তু চিন্তাও অনেক বেড়েছে। দুধ, ওষুধ, জামাকাপড়—সবকিছু চালিয়ে নেওয়া এখন কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে।”

শুধু ওয়ালিউল্লাহ নন, হাছেনার শাশুড়িও আনন্দের মাঝেও দুশ্চিন্তার কথা বলেন। তিনি বলেন, “আমরা খুশি, কিন্তু গরিব মানুষ তো। চিকিৎসকদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ, তারা ভালোভাবে ডেলিভারি করিয়েছেন। তবে এখন আমাদের সামনে বড় দায়িত্ব।”

হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়জুল আলম জানান, পরিবারটি আর্থিকভাবে দুর্বল হওয়ায় হাসপাতাল থেকে কিছু সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। “আমরা পরিবারটির অবস্থা বুঝে মানবিক দিক বিবেচনায় যতটুকু সম্ভব সাহায্য করতে চেষ্টা করছি,” বলেন তিনি।

সন্তানের জন্ম মানেই একজন পরিবারপ্রধানের কাছে একটি নতুন দায়িত্ব, নতুন স্বপ্ন। কিন্তু যখন এই দায়িত্ব একসঙ্গে তিনগুণ হয়ে আসে, তখন স্বপ্নের পাশে বাস্তবতাও দাঁড়ায় কঠিন প্রশ্ন হয়ে। বিশেষ করে একজন দিনমজুরের পরিবারে, যেখানে প্রতিদিনের উপার্জনই তিন বেলার খাবার নিশ্চিত করতে যথেষ্ট হয় না।

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে এখনো অসংখ্য পরিবার রয়েছে যাদের কাছে নতুন সন্তানের জন্ম যেমন খুশির, তেমনি উদ্বেগেরও। এই পরিবারটি সেই চিত্রকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে এই ঘটনা হতে পারে এক দৃষ্টান্ত, যেখানে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া যায়—একটি পরিবারকে না ভেঙে, বরং এগিয়ে যেতে সহায়তা করতে।

হাছেনা বেগমের তিন নবজাতকের আগমন নিঃসন্দেহে এক আশীর্বাদ। তবে এই আশীর্বাদ যেন ভবিষ্যতের এক বোঝা না হয়ে দাঁড়ায়—সেই দায় রাষ্ট্র, সমাজ এবং আমাদের সবার। এখন দেখার বিষয়, মানবিকতা এই নিরীহ পরিবারটিকে কতদূর পথ দেখায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত