রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় কঠিন প্রতিযোগিতা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৯ বার
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় কঠিন প্রতিযোগিতা

প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে ভর্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আজ শনিবার শুরু হয়েছে। সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এবং আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলোতে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যায়। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ও ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট (আইবিএ) নিয়ে গঠিত এই ইউনিটে সীমিতসংখ্যক আসনের বিপরীতে বিপুলসংখ্যক আবেদনকারীর অংশগ্রহণ এবারের ভর্তি পরীক্ষাকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এক ঘণ্টাব্যাপী এমসিকিউ পদ্ধতিতে ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অন্য ইউনিটগুলোর মতো একাধিক পালায় নয়, বরং এক পালায়ই এ পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। এই ইউনিটে মোট আসন রয়েছে ৫৮৪টি। এর মধ্যে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে ৫৪০টি এবং ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটে ৪৪টি আসন। বিপরীতে আবেদন করেছেন ৩০ হাজার ৮৮৬ জন শিক্ষার্থী। হিসাব অনুযায়ী প্রতি আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন গড়ে ৫৩ জন ভর্তি-ইচ্ছুক পরীক্ষার্থী। এই পরিসংখ্যানই বলে দেয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বি’ ইউনিটে ভর্তির লড়াই কতটা কঠিন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ৯টার পর থেকেই পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোর সামনে ভিড় করতে শুরু করেন। কেউ কেউ দূরদূরান্ত থেকে ভোরেই রওনা হয়ে এসেছেন, যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা ছাড়াই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন। সকাল সোয়া ১০টার দিকে কেন্দ্রগুলোর গেট খুলে দেওয়া হলে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষার্থীদের প্রবেশ করানো হয়। প্রবেশপথে কঠোর তল্লাশির মধ্য দিয়ে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেখা যায়। মুঠোফোন, ক্যালকুলেটরসহ যেকোনো ধরনের মেমোরিযুক্ত ইলেকট্রনিক ডিভাইস সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনগুলোতেই মূলত এ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

অনেক অভিভাবক জানান, সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁদের প্রত্যাশা ও দুশ্চিন্তা দুটোই রয়েছে। কেউ বলছেন, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ বা আইবিএতে পড়াশোনা মানেই ভবিষ্যতে ভালো ক্যারিয়ারের সম্ভাবনা, আবার কেউ বলছেন, এত প্রতিযোগিতার ভিড়ে সন্তানের সফলতা নিয়ে উৎকণ্ঠা থাকাই স্বাভাবিক। পরীক্ষার্থীদের অনেকেই জানান, দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নিয়ে তাঁরা এই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। কেউ কোচিং সেন্টার, কেউ অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, আবার কেউ নিজ উদ্যোগে পড়াশোনা করেছেন। সবারই আশা, কঠিন এই প্রতিযোগিতায় নিজেদের সেরাটা দিতে পারবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি পরীক্ষার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বেশ তৎপর। ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সালেহ্ হাসান নকীব। পরীক্ষা শেষে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনের সামনে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করবেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজনই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।

এবারের ভর্তি পরীক্ষার একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, দ্বিতীয়বারের মতো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরে দেশের পাঁচটি বিভাগীয় শহরে আঞ্চলিক কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে অনেক শিক্ষার্থী নিজ নিজ বিভাগের কাছাকাছি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। ঢাকা বিভাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিভাগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিভাগে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিভাগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং রংপুর অঞ্চলে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে করে ভ্রমণঝামেলা ও অতিরিক্ত খরচ কিছুটা কমেছে বলে মনে করছেন অভিভাবকেরা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা সূচি অনুযায়ী, এর আগে ১৬ জানুয়ারি ‘সি’ ইউনিট এবং ১৭ জানুয়ারি ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল শুক্রবার ‘সি’ ইউনিটের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, আজই ‘এ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ করার প্রস্তুতি রয়েছে। ফলে কয়েক দিনের মধ্যেই তিনটি ইউনিটের ফলাফল সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা।

ভর্তি পরীক্ষার মৌসুম মানেই শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। অনেকের কাছে এটি স্বপ্নপূরণের প্রথম ধাপ, আবার কারও কাছে নতুন করে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুযোগ পাওয়া দেশের অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা। তাই সীমিত আসনের বিপরীতে হাজারো পরীক্ষার্থীর এই প্রতিযোগিতা শুধু সংখ্যার হিসাবেই নয়, মানসিক চাপের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভর্তি পরীক্ষার এই চাপ সামাল দিতে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা জরুরি। একই সঙ্গে ফল যাই হোক না কেন, সেটিকে জীবনের শেষ কথা হিসেবে না ধরে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকা প্রয়োজন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য আজকের দিনটি তাই শুধু একটি পরীক্ষা নয়, বরং তাঁদের ভবিষ্যৎ পথচলার একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত