ইএফটিতে বেতন নিশ্চিতে মাউশির জরুরি নির্দেশনা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৩ বার
ইএফটিতে বেতন নিশ্চিতে মাউশির জরুরি নির্দেশনা

প্রকাশ: ২৬  জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের চলতি জানুয়ারি মাসের বেতন নির্বিঘ্নে ও সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করতে জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)। ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ব্যবস্থায় বেতন পাঠানোর লক্ষ্যে জারি করা এই নির্দেশনায় প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে বিল সাবমিট করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্ভুল তথ্যের ভিত্তিতে ইএফটি কার্যক্রম পরিচালনা না হলে বেতন প্রেরণে জটিলতা তৈরি হতে পারে, যা শিক্ষক-কর্মচারীদের ভোগান্তি বাড়াবে।

মাউশির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অধিদফতরাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত জনবলের এমপিও অর্থ ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ইএফটি ব্যবস্থায় দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে গত জুলাই মাস পর্যন্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে সরাসরি এমপিও অর্থ পাঠানো হয়। তবে কার্যক্রম আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ ও প্রাতিষ্ঠানিক করতে আগস্ট মাস থেকে প্রতিষ্ঠানপ্রধান কর্তৃক অনলাইনে বিল সাবমিট করার ব্যবস্থা চালু করা হয়। এই পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রাপ্যতা যাচাই, কর্তন সংযোজন এবং তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের এমপিও কার্যক্রমে ব্যবহৃত আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে ইএমআইএস সিস্টেমের এমপিও–ইএফটি মডিউলে লগইন করে বিল সাবমিট করতে হবে। প্রতিটি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর জন্য বিধিমোতাবেক প্রাপ্য এমপিও অর্থ নির্ধারণ করে আলাদাভাবে বিল দাখিল করতে হবে। প্রতিষ্ঠানপ্রধানের দাখিল করা তথ্যের ভিত্তিতেই ইএফটির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানো হবে বলে নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষক-কর্মচারীর ক্ষেত্রে মৃত্যুবরণ, পদত্যাগ, সাময়িক বরখাস্ত কিংবা অনুমোদনহীন অনুপস্থিতির কারণে আংশিক বা সম্পূর্ণ বেতন কর্তনের প্রয়োজন হলে তা বিল সাবমিটের সময় যথাযথভাবে উল্লেখ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট মাসে বিধিমোতাবেক যে পরিমাণ অর্থ প্রাপ্য, সেটি সঠিকভাবে নির্ধারণ করেই বিল দাখিল করতে হবে। মাউশি স্পষ্ট করেছে, ইএফটির মাধ্যমে এমপিও অর্থ প্রেরণের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানপ্রধানের দাখিল করা তথ্যই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। ফলে ভুল তথ্যের কারণে বেতন প্রেরণে জটিলতা দেখা দিলে বা অতিরিক্ত অর্থ পাঠানো হলে তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে বহন করতে হবে।

শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, এই নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য হলো এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। অতীতে বিভিন্ন সময় ভুল তথ্য, বিল জমা দিতে বিলম্ব কিংবা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বেতন পেতে দেরি হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। নতুন ইএফটি ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে সেই সমস্যাগুলো কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এর সাফল্য অনেকাংশেই নির্ভর করছে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার ওপর।

নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, শুধুমাত্র আইবাসে যাচাইয়ের মাধ্যমে বৈধ হিসেবে চিহ্নিত জনবলের তথ্যই বিল সাবমিট অপশনে যুক্ত হয়েছে। যাদের তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য প্রদান ও যাচাই সম্পন্ন হওয়ার পর পরবর্তী সময়ে বিল সাবমিটের সুযোগ দেওয়া হবে। এর ফলে অবৈধ বা যাচাইবিহীন জনবল যেন কোনোভাবেই এমপিও সুবিধার আওতায় না আসে, সেটি নিশ্চিত করতে চায় মাউশি।

এই প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের আগামী ২৭ জানুয়ারির মধ্যে এমপিওর বিল সাবমিট করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে। সময়মতো বিল সাবমিট না করলে জানুয়ারি মাসের বেতন প্রেরণে বিলম্ব হতে পারে—এমন সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বিল সাবমিট করা হলে বেতন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য এই নির্দেশনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেক শিক্ষক বলছেন, ইএফটি ব্যবস্থায় বেতন সরাসরি ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়ায় স্বচ্ছতা বাড়ছে এবং মধ্যস্বত্বভোগী বা অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতার সুযোগ কমছে। তবে একই সঙ্গে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে তথ্য ভুলভাবে সাবমিট করা হয়, তাহলে তার ভোগান্তি শিক্ষক-কর্মচারীদেরই পোহাতে হবে। তাই প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এমপিও ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তর একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। দীর্ঘদিন ধরে এমপিও বেতন ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা অভিযোগ ছিল। কখনো বিল আটকে থাকা, কখনো তথ্য সংশোধনের দীর্ঘসূত্রতা—এসব সমস্যায় শিক্ষক-কর্মচারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ইএফটি ও অনলাইন বিল সাবমিট ব্যবস্থা চালু হলে এসব সমস্যা ধীরে ধীরে কমবে। তবে শুরুতে কিছু প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ থাকা স্বাভাবিক, যা সমন্বিত উদ্যোগে সমাধান করা সম্ভব।

মাউশির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইএমআইএস সিস্টেমকে আরও ব্যবহারবান্ধব ও নির্ভুল করতে নিয়মিত আপডেট দেওয়া হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা সঠিকভাবে বিল সাবমিট করতে পারেন। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার করার পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে কোনো অনিয়ম বা অবহেলা দ্রুত শনাক্ত করা যায়।

সব মিলিয়ে, জানুয়ারি মাসের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে মাউশির এই জরুরি নির্দেশনা শিক্ষা প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সময়মতো ও সঠিকভাবে বিল সাবমিট করা হলে শিক্ষক-কর্মচারীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে বেতন পাবেন—এমন প্রত্যাশাই সবার। এখন দেখার বিষয়, প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের সমন্বিত উদ্যোগ ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া কতটা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত