ঢাবি ভর্তিতে বিষয় পছন্দক্রমে ভুল নয়: মানতে হবে ৫ নির্দেশনা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৭৩ বার
ঢাবি ভর্তিতে বিষয় পছন্দক্রমে ভুল নয়: মানতে হবে ৫ নির্দেশনা

প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তি হতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য শুরু হয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ—বিষয় পছন্দক্রম ফরম পূরণ। ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মেধাক্রমপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের জন্য এটি শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত বিভাগে ভর্তির পথ নির্ধারণ করে দেয়। এ প্রক্রিয়ায় সামান্য ভুল কিংবা অবহেলা পুরো বছরের স্বপ্নকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিতে পারে। এ কারণেই বিষয় পছন্দক্রম ফরম পূরণে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনলাইন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যারা ফরম পূরণ করতে ব্যর্থ হবেন, তারা কোনো বিষয় মনোনয়ন পাবেন না এবং এর ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিবিষয়ক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ভর্তি কমিটি বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি সংক্রান্ত সব ইউনিটে যেসব শিক্ষার্থী ভর্তিযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন—অর্থাৎ যারা উত্তীর্ণ ও মেধাক্রমপ্রাপ্ত—তাদের সবাইকে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অনলাইনে শিক্ষার্থী তথ্য বিস্তারিত ফরম ও বিষয় পছন্দক্রম পূরণ করতে হবে। এই ফরমই পরবর্তী ধাপে বিভাগ বণ্টনের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ইউনিটের জন্য একজন শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে একটিমাত্র বিস্তারিত ফরম ও বিষয় পছন্দক্রম প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ আলাদা আলাদাভাবে ইউনিটভিত্তিক ফরম পূরণের কোনো প্রয়োজন নেই। অনেক শিক্ষার্থী এই বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্ত হন এবং মনে করেন, একাধিক ইউনিটে উত্তীর্ণ হলে আলাদা ফরম লাগবে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।

বিষয় পছন্দক্রম পূরণের আগে শিক্ষার্থীদের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ একটি পরামর্শ দিয়েছে ভর্তি কমিটি। অনলাইনে ফরম পূরণের পূর্বে ভর্তি–বিষয়ক ওয়েবসাইটে লগইন করে নিজ নিজ ইউনিট অনুযায়ী ভর্তিযোগ্য বিষয়গুলোর তালিকা ভালোভাবে দেখে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই তালিকা অনুযায়ী আগেই বিষয় পছন্দক্রমের একটি খসড়া প্রস্তুত করে রাখলে ফরম পূরণের সময় ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। অনেক সময় তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে পছন্দের বিভাগ বাদ পড়ে যায় বা কম পছন্দের বিভাগ উপরের দিকে চলে আসে, যা পরে সংশোধন করা কঠিন হয়ে পড়ে।

প্রযুক্তিগত দিক থেকেও সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের অনলাইনে বিস্তারিত ফরম ও বিষয় পছন্দক্রম পূরণের ক্ষেত্রে ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ কম্পিউটার ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছে। মোবাইল ফোনে ফরম পূরণ করতে গিয়ে অনেক সময় তথ্য ঠিকমতো দেখা যায় না বা সাবমিশন–সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হয়, যা পুরো প্রক্রিয়াকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে।

ভর্তি কমিটির বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে একজন শিক্ষার্থী একাধিকবার ফরম পূরণ করতে পারবেন। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে—একাধিকবার ফরম পূরণ করা হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শিক্ষার্থীর সর্বপ্রথম পূরণকৃত ফরমটিই চূড়ান্ত ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ পরে ফরম পূরণ করলেও সেটি কার্যকর হবে না, যদি না নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা পরিবর্তন করা হয়।

এই জায়গায় এসে অনেক শিক্ষার্থীর জন্য বাড়তি সতর্কতা জরুরি হয়ে পড়ে। যদি কোনো শিক্ষার্থী প্রথমবার পূরণ করা ফরমের পরিবর্তে পরবর্তীতে পূরণ করা অন্য কোনো ফরমকে চূড়ান্তভাবে দাখিল করতে চান, তবে তাকে একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট ফরমটি ডাউনলোড করে তাতে স্বাক্ষর করতে হবে এবং সঙ্গে উচ্চমাধ্যমিকের রেজিস্ট্রেশন কার্ডের কপি সংযুক্ত করতে হবে। এরপর তিন কার্যদিবসের মধ্যে ঢাবির কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিসে সশরীরে উপস্থিত হয়ে তা জমা দিতে হবে। প্রশাসনিক ভবনের কক্ষ নম্বর ২১৪–এ এই ফরম জমা দিতে হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এটি না করলে, সর্বপ্রথম পূরণকৃত ফরমটিই চূড়ান্ত ও কার্যকর বলে বিবেচিত হবে।

ভর্তি–সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিষয় পছন্দক্রম ফরম পূরণ আসলে ভর্তি পরীক্ষার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি। এখানে সঠিক সিদ্ধান্ত না নিতে পারলে ভালো মেধাক্রম থাকা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত বিভাগ পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। প্রতিবছরই দেখা যায়, অনেক শিক্ষার্থী অসাবধানতাবশত পছন্দক্রমে ভুল করে বসেন এবং পরে তা সংশোধনের সুযোগ পান না। এ কারণেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবার শুরু থেকেই বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়ে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করার চেষ্টা করছে।

ঢাবিতে ভর্তি হওয়া মানেই শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ নয়; এটি অনেক শিক্ষার্থীর জীবনে একটি স্বপ্নপূরণের মুহূর্ত। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে পড়াশোনার সুযোগ পেতে শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার বছরের পর বছর পরিশ্রম করে থাকে। সেই দীর্ঘ প্রস্তুতির ফল যেন একটি ফরম পূরণের ভুলে নষ্ট না হয়ে যায়—এই বার্তাই স্পষ্টভাবে দিতে চেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের উচিত এই সময়টাতে আবেগ নয়, বরং বাস্তবতা ও নিজের সামর্থ্য বিবেচনা করে বিষয় পছন্দক্রম সাজানো। আগ্রহ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, চাকরির সম্ভাবনা ও ব্যক্তিগত দক্ষতা—সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে পছন্দক্রম নির্ধারণ করলে পরবর্তীতে হতাশা কম হবে।

সব মিলিয়ে, ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিকভাবে বিষয় পছন্দক্রম ফরম পূরণ করাই এখন তাদের প্রধান দায়িত্ব। কর্তৃপক্ষের দেওয়া পাঁচ নির্দেশনা মেনে চললে এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপটি নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত