শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়েবসাইট হালনাগাদে কঠোর নির্দেশনা: সময়সীমা ৩১ জুলাই

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৪ জুলাই, ২০২৫
  • ৩১ বার
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়েবসাইট হালনাগাদে কঠোর নির্দেশনা: সময়সীমা ৩১ জুলাই

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের সব সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ওয়েবসাইট তৈরি ও হালনাগাদের বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এই নির্দেশনার আওতায় আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে এবং বিদ্যমান ওয়েবসাইট থাকলে তা পূর্ণাঙ্গভাবে হালনাগাদ করতে হবে।

সোমবার (১৪ জুলাই) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আজাদ খান স্বাক্ষরিত এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনার কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, একাডেমিক কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল উপস্থিতি ও তথ্য হালনাগাদ করা অত্যাবশ্যক।

এ নির্দেশনায় বলা হয়, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে অবশ্যই নিম্নোক্ত তথ্যসমূহ সংযুক্ত থাকতে হবে—প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি, পাঠদানের সরকারি অনুমোদন ও স্বীকৃতিসংক্রান্ত তথ্য, শ্রেণি ও লিঙ্গভিত্তিক শিক্ষার্থীদের পরিসংখ্যান, অনুমোদিত শাখার বিস্তারিত, শিক্ষক-শিক্ষিকার তালিকা ও পাঠদানের পূর্ণাঙ্গ রুটিন, পাঠ্যসূচি, বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক নোটিশ, এমপিও সংক্রান্ত তথ্য, যোগাযোগের জন্য ফোন ও মোবাইল নম্বর, তথ্য সেবা কেন্দ্র ও অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তার ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর, প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ সকল শিক্ষক-কর্মচারীর তালিকা এবং ব্যবস্থাপনা কমিটির পূর্ণাঙ্গ তথ্য।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনার আলোকে জাতীয় তথ্য বাতায়নের (www.bangladesh.gov.bd) সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি আর্থিক ব্যয় সংযতকরণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আলাদা ওয়েবসাইট চালু ও হালনাগাদ করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের এখনো নিজস্ব ওয়েবসাইট নেই কিংবা বিদ্যমান ওয়েবসাইটটি অকার্যকর বা অপ্রাসঙ্গিক, তাদেরকে বাধ্যতামূলকভাবে নিজস্ব সাইট চালু করতে হবে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার শিক্ষা প্রশাসনে স্বচ্ছতা, তথ্যপ্রবাহে সহজগম্যতা এবং শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কাছে সময়োপযোগী তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি নিশ্চিত করতে চায়। একইসঙ্গে এটি হবে শিক্ষা ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশনের একটি কার্যকর ধাপ।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ওয়েবসাইট হালনাগাদ করার পর তা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের অ্যাডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (EMIS)–এর নির্দিষ্ট মডিউলে আপলোড করতে হবে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই।

এই নির্দেশনা লঙ্ঘন বা অবহেলার কোনো সুযোগ নেই বলে ইঙ্গিত দিয়েছে মাউশি। সময়মতো নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে বলেও আভাস দেওয়া হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘনিষ্ঠ সূত্রে।

দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষা ব্যবস্থায় ডিজিটাল অবকাঠামোর ঘাটতি, তথ্যের অপ্রাপ্যতা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছিল। নতুন এই নির্দেশনা শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সুসংগঠিত ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলার একটি চেষ্টার অংশ বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এখন দেখার বিষয়, সারাদেশের হাজারো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কতটা দ্রুত ও কার্যকরভাবে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে সফল হতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত