কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার লড়াই শুরু কাল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৭ বার
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার লড়াই শুরু কাল

প্রকাশ: ২৯  জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক সূচনা হচ্ছে আগামীকাল শুক্রবার। বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষার মধ্য দিয়েই শুরু হবে এবারের ভর্তি যুদ্ধ। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এক ঘণ্টাব্যাপী এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতি আসনের বিপরীতে যেখানে লড়বেন গড়ে ১৫৪ জন ভর্তিচ্ছু, সেখানে পরীক্ষাকে ঘিরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উত্তেজনা, প্রত্যাশা আর চাপ।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ‘এ’ ইউনিটে মোট ৩০০টি আসনের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ৪৬ হাজার ২৪৭টি। অর্থাৎ সীমিত সংখ্যক আসনের জন্য প্রতিযোগিতা এবারও তীব্র। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মেধাবী শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষায় অংশ নিতে ইতোমধ্যেই কুমিল্লা ও রাজশাহীতে এসে পৌঁছাতে শুরু করেছেন। অনেকেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে শহরের আশপাশের আবাসিক হোটেল, মেস কিংবা আত্মীয়স্বজনের বাসায় অবস্থান করছেন।

ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা শহর ও কোটবাড়ি এলাকা কয়েক দিন ধরেই সরগরম। পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিড়ে শহরের পরিবহন, খাবারের দোকান এবং আবাসন এলাকাগুলোতে বাড়তি ব্যস্ততা দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও এই সময়টাকে বছরের গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে দেখছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তথ্যমতে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কোটবাড়ি অঞ্চলের পাঁচটি কেন্দ্রে ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষায় অংশ নেবেন ৬ হাজার ৫২৯ জন পরীক্ষার্থী। এ ছাড়া কুমিল্লা শহরের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে স্থাপিত ১৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবেন ২৩ হাজার ২৯২ জন। অন্যদিকে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে অংশ নেবেন আরও ১৬ হাজার ৫১৫ জন ভর্তিচ্ছু। অর্থাৎ, একযোগে দুই শহরে বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।

ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। গত ২৮ জানুয়ারি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরীক্ষার্থীদের জন্য বিস্তারিত নির্দেশনা তুলে ধরা হয়। এসব নির্দেশনার মূল লক্ষ্য হলো—যেকোনো ধরনের অনিয়ম, অসদুপায় বা বিশৃঙ্খলা রোধ করে একটি গ্রহণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরীক্ষার হলে কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। পরীক্ষার্থীরা বই, কাগজ, ব্যাগ, মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, ঘড়ি, ক্যামেরা, ট্যাব, এটিএম কার্ড, ব্লুটুথ ডিভাইস কিংবা স্মার্ট ওয়াচ সঙ্গে নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। এমনকি কানে কোনো ডিভাইস লুকিয়ে রাখার সম্ভাবনা ঠেকাতে নিরাপত্তার স্বার্থে পরীক্ষার্থীদের তল্লাশিও করা হবে।

পরীক্ষার্থীদের ওএমআর শিট পূরণ সংক্রান্ত বিষয়েও বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রবেশপত্র অনুযায়ী নাম, পিতার নাম ও মাতার নাম ইংরেজিতে বড় হাতের অক্ষরে সঠিকভাবে লিখতে হবে এবং স্বাক্ষর করতে হবে। প্রবেশপত্র, উপস্থিতি শিট ও ওএমআর শিটে দেওয়া স্বাক্ষর একই না হলে উত্তরপত্র বাতিল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। একইভাবে রোল নম্বর, সেট কোড বা নির্বাচিত বিষয় চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে সামান্য ভুল বা ঘষামাজাও পরীক্ষার ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর প্রতিটি পৃষ্ঠা ভালোভাবে দেখে নিতে হবে, যাতে কোনো ছাপার ত্রুটি না থাকে। কোনো সমস্যা চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শককে জানাতে হবে। পরীক্ষা চলাকালীন কোনো পরীক্ষার্থী কক্ষ ত্যাগ করতে পারবেন না এবং পরীক্ষা শেষে ওএমআর শিট জমা দেওয়ার পরও নির্ধারিত নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত নিজ নিজ আসনে অবস্থান করতে হবে।

পরীক্ষার সময়সূচি অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন এবং ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার হলে ঢুকতে হবে। পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর আর কোনোভাবেই কেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ থাকবে না। এই বিষয়ে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে অনুরোধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

ভর্তি পরীক্ষাকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে পৌঁছাতে ও পরীক্ষা শেষে নিরাপদে ফিরে যেতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষার পর আগামী ৩১ জানুয়ারি ভর্তি পরীক্ষার দ্বিতীয় দিন অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ‘বি’ ইউনিট এবং বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষা নেওয়া হবে। তিনটি ইউনিটের পরীক্ষার ফলাফল ও পরবর্তী ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কে সময়মতো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

অনেক পরীক্ষার্থীই বলছেন, দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি, কোচিং, মডেল টেস্ট আর অনিশ্চয়তার পর এই একটি পরীক্ষাই তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে। অভিভাবকরাও সন্তানের সাফল্যের আশায় উৎকণ্ঠা আর দোয়ায় সময় কাটাচ্ছেন। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া মানে শুধু একটি আসন পাওয়া নয়, বরং একটি সম্ভাবনাময় একাডেমিক জীবনের দরজা খুলে যাওয়া—এই বিশ্বাসই শিক্ষার্থীদের এই কঠিন প্রতিযোগিতায় ঠেলে এনেছে।

সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সংগৃহীত তথ্য, আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশের অন্যান্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসন্ধান এবং অনলাইন তথ্য-উপাত্ত পর্যবেক্ষণ করে সম্পূর্ণ পেশাদারিত্ব, দায়বদ্ধতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে প্রস্তুত করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত