‘ভোটের মাঠে ওসমান হাদিকে মনে পড়ছে’ জাহারা নাফিছা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪২ বার
‘ভোটের মাঠে ওসমান হাদিকে মনে পড়ছে’ জাহারা নাফিছা

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকা-৮ আসনের মির্জা আব্বাস মহিলা কলেজ কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ভোটগ্রহণ চলছে। ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করার পাশাপাশি শহিদ ওসমান হাদিকে স্মরণ করেছেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী জাহারা নাফিছা। ভোটকক্ষে ঢোকার আগে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আজকে ভোট দিতে এসে ওসমান হাদিকে খুবই মনে পড়ছে। কারণ ওসমান হাদি সাহসী ও বলিষ্ঠভাবে সত্য ও ন্যায়-ইনসাফের কথা বলেছে। ওসমান হাদি থাকলে সবাই আরো বেশি আনন্দিত হতো। আমরা ওসমান হাদির মত কাউকে আর পাব না। তার সমকক্ষ কেউ হবে না। তবে যেহেতু এই আসনে আমরা নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীকে পেয়েছি, তিনিও সাহসিকতার সঙ্গে সত্য বলছেন। আমরা চাই তরুণ প্রজন্ম ওসমান হাদির পথ অনুসরণ করে এগিয়ে যাবে।”

জাহারা নাফিছা ভোটকেন্দ্রে দাঁড়িয়ে জানান, তার মতে, দেশে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া মানে কেবল ভোট দেওয়া নয়, বরং এটি একটি নৈতিক দায়িত্বও। তিনি বলেন, “যখন আমরা ভোট দিতে আসি, আমরা শুধু প্রার্থীর জন্য নয়, দেশের ভবিষ্যতের জন্যও দায়িত্ব পালন করি। ওসমান হাদির মত আদর্শ মানুষ আমাদের মধ্যে অনুপ্রেরণা জাগিয়ে দেয়। তার সাহস ও ন্যায়ের পথে আমরা আমাদের ভোটের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করি।”

নির্বাচন ও ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ নিয়েও তিনি বলেন, “ভোট কেন্দ্রে যা দেখছি, তা উৎসবমুখর। ভোটাররা উৎসাহিত, সবাই শান্তিপূর্ণভাবে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছে। তবে মনে রাখতে হবে, আমাদের নির্বাচনে প্রতিটি ভোট গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রতিটি ভোটারের দায়িত্ব মহান।”

জাহারা নাফিছা জামায়াতের নারী বিষয়ক বক্তব্য নিয়েও মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “জামায়াতে ইসলাম আসলে নারী বিদ্বেষী নয়। তাদের বক্তব্য হয়তো সুন্দরভাবে জনগণের কাছে পৌঁছায়নি। অনেকের কাছে এটি নেতিবাচক মনে হয়েছে। তবে আমি মনে করি, ভবিষ্যতে যেকোনো ক্ষমতাসীন সরকারই দেশের সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য দায়িত্বশীল হবে। আশা করি, নির্বাচিত প্রার্থীরা নারী ও যুবাদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি আরও সমানভাবে রাখবেন।”

ঢাকা-৮ আসনে ভোটারের সংখ্যা মোট ২ লাখ ৬৬ হাজার ৪৯৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৪৫ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ২০ হাজার ৬৫১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ জন। এই আসনে মোট ১০৮টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে এবং সেগুলোতে ৫২৭টি ভোটকক্ষ বসানো হয়েছে। এ কেন্দ্রগুলোতে সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে।

আন্তর্জাতিক ও দূরবর্তী এলাকার ভোটারদের জন্য ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে ভোটদানের সুযোগও রাখা হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ঢাকার এই আসনে মোট ৮ হাজার ৯৮২ জন ভোটারের নিবন্ধন করা হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ হাজার ৯৫৬ জন এবং নারী ভোটার ২ হাজার ২৬ জন। তারা তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে অনলাইনের মাধ্যমে ভোট দিতে পারছেন, যা দেশের নির্বাচনে নতুন এক প্রক্রিয়ার সূচনা করেছে।

ঢাকা-৮ আসনের ভোটকেন্দ্রে সকাল থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। ভোটাররা ভোট দিতে আসার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। যুবক-যুবতী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ সক্রিয়ভাবে ভোট কেন্দ্রে এসে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। কেন্দ্রের নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীও সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, ভোট গ্রহণের ক্ষেত্রে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপি, জামায়াত ও অন্যান্য স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অংশগ্রহণ করছেন। ঢাকা-৮ আসনে মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ১১ জন। প্রতিটি প্রার্থীর সমর্থকরা কেন্দ্রগুলোর আশেপাশে উপস্থিত থাকলেও প্রশাসন এবং নিরাপত্তা বাহিনী শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।

জাহারা নাফিছা মনে করেন, ভোটের এই প্রক্রিয়া তরুণদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের অধিকার প্রয়োগ করছি, কিন্তু সাথে সাথে আমাদের দায়িত্বও রয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট প্রদানের মাধ্যমে আমরা দেশের গণতন্ত্রকে আরও মজবুত করতে পারি। এই সুযোগ আমাদের জন্য এক নতুন আশার দ্যোতক।”

রাজধানীর এই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণে নারী ভোটাররা বিশেষভাবে সক্রিয়। তারা দেখাচ্ছেন যে, ভোটের অধিকার শুধুমাত্র পুরুষের নয়, নারীরও সমান অংশ। এই প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নারী ও যুবাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রতিফলন ঘটাবে।

ঢাকা-৮ আসনে ভোটের মাধ্যমে জনগণ কেবল তাদের সংসদ সদস্য নির্বাচন করছেন না, তারা দেশের ভবিষ্যতের নীতি ও মূল্যবোধ নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। জাহারা নাফিছার মতো তরুণ ভোটাররা ইতিহাসে নাম লেখাচ্ছেন, যেখানে তারা শহিদ ওসমান হাদির আদর্শকে স্মরণ করে নতুন প্রজন্মের জন্য উদাহরণ স্থাপন করছেন।

একটি সাধারণ ভোটারের চোখে এই নির্বাচনের তাৎপর্য অনেক গভীর। জাহারা নাফিছা বলেন, “এ ধরনের নির্বাচন আমাদের স্বাধীনতার অনুভূতি আরও শক্তিশালী করে। আমরা শুধুমাত্র ভোট দিচ্ছি না, আমরা দেশের জন্য দায়িত্ব পালন করছি। এই অনুভূতি সত্যিই অনন্য।”

সার্বিকভাবে, ঢাকা-৮ আসনের ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উৎসাহ, নিরাপত্তা বাহিনীর সজাগতা এবং পোস্টাল ভোটের সুযোগ ভোটগ্রহণকে একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও মানবিক রূপ দিয়েছে। তরুণ ভোটাররা শহিদ ওসমান হাদির আদর্শ স্মরণ করে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করছেন, যা ভবিষ্যতের নির্বাচনী পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ এবং মানবিক করবে।

নির্বাচনের এই দিনটি তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করছে। ভোট প্রদানের মাধ্যমে তারা কেবল নিজের অধিকার প্রয়োগ করছেন না, বরং দেশের ন্যায়ের, সত্যের ও গণতান্ত্রিক আদর্শের প্রতি অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করছেন। জাহারা নাফিছা ভোটকেন্দ্র থেকে বিদায় নেওয়ার সময় বলেন, “ওসমান হাদির মতো সাহসী ও ন্যায্য ব্যক্তিত্ব আমাদের সবসময় মনে থাকবে। আমরা তার আদর্শের পথে দেশকে এগিয়ে নেব।”

এভাবে ঢাকা-৮ আসনে ভোটাররা সজাগভাবে অংশগ্রহণ করছেন, যেখানে একদিকে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে, অন্যদিকে শহিদ ওসমান হাদির স্মৃতি এবং নতুন প্রজন্মের দায়িত্ববোধ ভোটকে আরও মানবিক ও অর্থবহ করে তুলছে। এই অভিজ্ঞতা দেশের গণতন্ত্রের শক্তিকে দৃঢ় করছে এবং নির্বাচনকে শুধু রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, মানবিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতার এক প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত