২০ বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র ডাউনলোড শুরু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৩ বার
২০ বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র ডাউনলোড শুরু

প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছভুক্ত পদ্ধতিতে ২০টি সাধারণ ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র ডাউনলোড প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গতকাল শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত ওয়েবসাইট থেকে তাদের প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে পারছেন। গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রবেশপত্র ডাউনলোডের এই প্রক্রিয়া শনিবার থেকে শুরু হয়ে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত চলবে। এই নির্ধারিত সময়ের পর আর কোনো শিক্ষার্থী প্রবেশপত্র সংগ্রহের সুযোগ পাবেন না।

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একই সঙ্গে ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারবেন। শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ, কারণ তারা স্বল্প সময়ে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে পারবেন। গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রবেশের জন্য প্রতিযোগিতা অত্যন্ত তীব্র, যা শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির মান ও শৃঙ্খলা যাচাইয়ের অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে কাজ করে।

এই বছরের ভর্তি পরীক্ষা পরিকল্পনা অনুযায়ী ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৭ মার্চ, যা দিয়ে গুচ্ছ ভর্তি কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে। এরপর ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ৩ এপ্রিল এবং ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১০ এপ্রিল। এতে শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ ইউনিট অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে পারবেন এবং পরীক্ষার দিন ও সময়সূচি অনুযায়ী পরিকল্পনা করতে পারবেন।

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিল গত বছরের ৭ ডিসেম্বর। পরবর্তী সময়ে কয়েক দফা সময়সীমা বর্ধিত করে গত ১৬ জানুয়ারি আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। দীর্ঘ এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এখন চূড়ান্ত পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেছেন। বিষয়টি তাদের জন্য মানসিক উত্তেজনা ও প্রত্যাশার এক মিলিত অনুভূতি সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গুচ্ছ ভর্তি পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিমূলক মনোভাব, সময় ব্যবস্থাপনা ও স্বতন্ত্র চিন্তাশক্তি যাচাই করার জন্য অত্যন্ত কার্যকর একটি ব্যবস্থা।

এই বছরের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় ন্যূনতম পাস নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০। এছাড়া, ভুল উত্তরের জন্য নেতিবাচক নম্বর (নেগেটিভ মার্কিং) থাকছে, যা প্রতি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কেটে নেওয়া হবে। এই নিয়ম শিক্ষার্থীদের আরও সচেতন এবং প্রস্তুতিপূর্ণভাবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে। বিগত বছরের মতো এবারও শিক্ষার্থীদের জন্য দ্বিতীয়বার (সেকেন্ড টাইম) ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। এতে যারা প্রথমবারে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাননি, তারা পুনরায় চেষ্টা করার সুযোগ পাবেন।

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থাকে সমানভাবে উপস্থাপন করে। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়, জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা শুধু শিক্ষার্থীদের একাডেমিক যোগ্যতা যাচাইয়ের মাধ্যম নয়, এটি তাদের মানসিক দৃঢ়তা, চাপ মোকাবিলা করার ক্ষমতা এবং সময় ব্যবস্থাপনার দক্ষতা যাচাই করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যতের শিক্ষা ও ক্যারিয়ারের পথ সুগম করতে সক্ষম হবেন।

প্রবেশপত্র ডাউনলোডের শুরু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস এবং উত্তেজনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অভিভাবকরা সন্তানের পরীক্ষার জন্য মানসিক ও প্র্যাকটিক্যাল সহায়তা প্রদান করছেন। অনেকে ইতিমধ্যেই সময়সূচি অনুযায়ী প্রস্তুতি শেষ করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা হওয়ায় একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি একই সময়ে করতে হবে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জও বটে।

শিক্ষাব্যবস্থা বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের কেন্দ্রীভূত ভর্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের জন্য যথাযথ মান নির্ধারণে সহায়ক এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সঠিক শিক্ষার্থীদের নির্বাচন নিশ্চিত করে। এটি দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, সামঞ্জস্য এবং প্রতিযোগিতার মান বৃদ্ধি করে।

এভাবে, গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র ডাউনলোড শুরু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত প্রস্তুতি ও উত্তেজনা তুঙ্গে পৌঁছেছে। এখন শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার দিন ও সময়সূচি অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়ে তাদের স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আশাবাদীভাবে অপেক্ষা করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত